মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৭:২৪ পিএম


প্রাথ‌মিকে সহকারী শিক্ষক‌দের বিভাগীয় প্রার্থীতা পূণর্বহাল চাই

‌মো. ইকবাল হো‌সেন

প্রকাশিত: ০৮:২২, ১৪ আগস্ট ২০২০  

শিক্ষার মূল ভি‌ত্তিই  হল প্রাথ‌মিক শিক্ষা, কারণ এখা‌নেই  এক‌টি শিশুর  ভি‌ত্তি গ‌ড়ে দেওয়া হয়। আর এই  ভি‌ত্তি য‌দি মজবুদ না হয় তাহ‌লে দেশ তার জনগন‌কে দক্ষ জনশ‌ক্তি‌তে প‌রিনত কর‌তে পার‌বেনা! আর সেই  পেক্ষাপট চিন্তা ক‌রেই  বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ বিচক্ষণতায় প্রাইমারি ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন  এসেছে। এসে‌ছে নি‌য়োগ‌বি‌ধি‌তেও নানা প‌রিবর্তন। পূ‌র্বে যেখা‌নে এসএস‌সি/এইচএসসি পাশ মে‌য়েরা আবেদন কর‌তে পারত বর্তমা‌নে তা স্নাতক করা হ‌য়ে‌ছে। অন্য‌দি‌কে ছে‌লেরা সবসম‌য়ের জন্য স্নাতক পাশধারী হ‌তে হ‌বে। আশ্চা‌র্যের বিষয় হলো সকল যোগ্যতা আপ‌গ্রেড করার পরও সহকারী শিক্ষক‌দের এই পোস্ট‌টি‌কে ব্লগ পো‌স্টে প‌রিনত করা হ‌য়ে‌ছে, যা বর্তমান নি‌য়োগ‌বি‌ধি-২০১৯ এর  খসড়ায় স্পষ্টত প্র‌ত্রিয়মান।

সব সরকারি সেক্টরে বিভাগীয় প্রার্থীতা আছে।এটা পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতির সুযোগ।সবাই যেখা‌নে সে সুযোগ পাচ্ছে তাহ‌লে প্রাথ‌মিক শিক্ষা সেক্ট‌রে যারা বিভা‌গীয় প্রার্থী হওয়ার সকল যোগ্যতা থাকা স্ব‌ত্তেয়ও কেন বঞ্চিত হ‌বে? বিভাগীয় প্রার্থীতা একজন ক‌র্মির কা‌জের স্পৃহা বা‌ড়ি‌য়ে দেয় ,যা তাঁকে সকল সেক্ট‌রে যোগ্য ক‌রে তুল‌তে সাহায্য ক‌রে।‌কিন্তু কোন প্র‌মোশন য‌দি না থা‌কে তাহ‌লে কেন সে অধিক কষ্ট ক‌রে অন্যের চে‌য়ে অগ্রগামী হ‌বে? একজন শিক্ষক যে প‌দে যোগদান ক‌রে সে য‌দি ২৫/৩০ বছর চাকরী করার পরও  সে প‌দে বহাল থা‌কে তাহ‌লে কেন ‌অতি‌রিক্ত প‌রিশ্রম কর‌বে?

এক‌টি সেক্ট‌রে অনেক বছর কাজ করে বিভাগীয় প্রার্থীতার মাধ্যমে প্রশাসনে যুক্ত হলে ‌সেক্ট‌রে কি ধরনের পরিকল্পনা প্রযুক্ত হবে সে বিষয়টা সহজে অনুধাবন করতে পারবে।যারা নন ক্যাডার বা সরাসরি এসব পোস্টে কাজ করছে বলছি না তাঁরা পারবে না।কিন্তু বিষয়টা সঠিকভাবে অনুধাবন করার জন্য যোগ্যতার সাথে অভিজ্ঞতা  থাকলে কাজটা আরও বেশি ফলপ্রসূ হয়।

সহকারী শিক্ষক পোস্টটা ব্লক পোস্টে পরিণত না করলে শিক্ষকরা বাদশাহ আলমগীর শিক্ষকদের যে মর্যাদা দিয়েছেন তা পুরোপুরি ফিরে না পেলেও  কিছুটা প্রশান্তির হবে।বিভাগীয় পরীক্ষা প্রাথমিক শিক্ষার শিখন বিজ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত হলে শিক্ষকরা ডিপিএড করার সাথে সাথে এম এড করবে।প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে শিক্ষকরা গবেষণা কর্ম করতে আগ্রহী হবে।এর ফলে কার্যকর শিক্ষা পদ্ধতির প্রয়োগের সাথে সাথে মান সম্মত শিক্ষার দিকে দেশ ধাবিত হ‌বে।

কর্মী প্রণোদনার মাধ্যম হ‌লে ভাল ভাল দক্ষ মেধাবী শিক্ষক এখানে থেকে সেবা দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষাকে এক উজ্জ্বল দ্বার প্রান্তে নিয়ে যাবে।সব কিছু বদলেছে।প্রাথমিক শিক্ষা খা‌তে এখন উচ্চশিক্ষিত শিক্ষকের সমাগম হয়েছে।তাঁদেরকে এখা‌নে ধ‌রে রাখ‌তে হ‌লে তাঁদের কা‌জের মূল্যায়ণ ক‌রে উপ‌রে উঠার সু‌যোগ দি‌তে হ‌বে।দয়া নয়, যোগ্যতা প্রমানের জন্য সু‌যোগ দেওয়ার জন্য বলা হ‌চ্ছে!
যারা উচ্চ ডিগ্রিধারী সহকারী শিক্ষক রয়েছেন তারা কেন কর্মকর্তা পদে আবেদনের জন্য বিভাগীয় প্রার্থীতা হতে বঞ্চিত  হবেন? বর্তমানে এ মহান পেশায় প্রবেশের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করা হয়েছে। একজন স্নাতকপাশ ব্যাক্তি তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী এবং এই তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবেই অবসরে যাবেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাতে কলমে কাজ করা ছাড়াই অর্থাৎ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করা ছাড়াই অনেকেই কর্মকর্তা হচ্ছেন ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা বুঝে উঠতে তার অনেকটা সময় চলে যাচ্ছে।কিন্তু একজন সহকারী শিক্ষকের কর্মকর্তা হওয়ার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তিনি একই পদে ২০/২৫ বছর ব্লক পোস্টে চাকুরী করছেন। আমরা যেখানে ব্লকপোস্টে বসে আছি সেখানে অন্যান্য ডিপার্টমেন্টে অনেক আগেই প্রমোশন ও বিভাগীয় প্রার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে কর্মকর্তা পদে যোগদান করছে।

সহকারী শিক্ষকদের বিভাগীয় প্রার্থীতা বাদ দিয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই যদি চুড়ান্ত হয় তবে সহকারী শিক্ষকরা আশাহত হবেন এবং পেশাগত জীবনে জ্ঞানের পরিসীমা এইচএসসি পাশের স্থানে আটকে রবে। যা একটি জাতির উন্নয়নে বড়ো বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে কারণ প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নকারী হলেন সহকারী শিক্ষক। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করার।

সহকারী শিক্ষক,শাহাপুর সরকা‌রি প্রাথ‌মিক বিদ্যালয়,বরুড়া,কু‌মিল্লা।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর