বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ২০:২৩ পিএম


প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন বঙ্গবন্ধু: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:২০, ১৭ মার্চ ২০১৯   আপডেট: ০৮:৩৫, ১৮ মার্চ ২০১৯

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। এরই মধ্যে তিনি এদেশের শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক করে দিয়ে যান, মেয়েদের শিক্ষা মাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক করে দেন। শিশুদের অধিকার যাতে নিশ্চিত হয়, তার জন্য ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা এই বাংলাদেশে শিশু আইন প্রণয়ন করেন। তখনও জাতিসংঘ শিশুদের জন্য আইন প্রণয়ন করেনি। জাতিসংঘ আইন করেছিলো ১৯৮৯ সালে। ২০১১ সালে আমরা জাতীয় শিশুনীতি করেছি। শিশুর অধিকার সুরক্ষা, শিক্ষা, খেলাধুলা, শরীর চর্চ্চা, সাংস্কৃতিক চর্চ্চা সব দিকে যেন তারা পারদর্শিতা অর্জন করতে পারে, সে জন্য আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছি।’

রোববার সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু সমাধী সৌধ কমপ্লেক্সে মসজিদ প্রাঙ্গনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রাণালয় আয়োজিত শিশু সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের মানুষ যদি ভাল থাকে, উন্নত জীবন পায়, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া। সে কারণেই আমরা দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। যেখানে আজকের শিশু আগামী দিনের সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ পায়। সুন্দর একটা জীবন পায়। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু যে ভাবে দেখতে চেয়েছিলেন, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে আজকের প্রতিপাদ্য “বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুর জীবন করো রঙ্গিন। আমি এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বলতে চাই, আমরা জাতির পিতার ৯৯তম জন্ম শত বার্ষিকী পালন করছি। আগামী বছর আমরা জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন করবো। ২০২০ সাল থেকে ২০২১ সাল। ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো। ২০২০ থেকে ২০২১ এ বছরটাকে আমরা মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি।

অভিভাবক ও শিশুদের উদ্দ্যেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি শুধু এতটুকুই বলতে চাই, আমাদের ছেলে-মেয়েরা যে শিক্ষা গ্রহণ করছে, আমরা একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে শিশুদেরকে, বাংলাদেশের সব শিক্ষার্থীদেরকে বিনামূল্যে বই বিতরণ করছি। দৃষ্টি প্রতিবন্ধি তাদের জন্য বেল বইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য তাদের ভাষায় বই দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া প্রাইমারি থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে বই ও বৃত্তি দিচ্ছি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তির টাকা আমরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মায়ের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। যেন মা তার শিশুকে স্কুলে পাঠায়। স্কুলে টিফিনের ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। যাতে ঝরে পড়া বন্ধ হয় এবং তারা পড়াশোনা শিখতে পারে। মেয়েদের জন্য আমরাও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘শিশুদের আধুনিক প্রযুক্তি, কম্পিউটার শিক্ষা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও কম্পিউটার ল্যাব তৈরি করে দিচ্ছি। আমাদের শিশুদের সাথে যাতে আধুনিক প্রযুক্তির সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাছাড়া আমরা প্রতিটি জেলায় একটি করে মোট ৬৫টি ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাবসহ সারাদেশে ২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করেছি। যাতে প্রযুক্তি শিক্ষাতে আমাদের শিশুরা আরও পারদর্শিতা অর্জন করতে পারে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা এ পদক্ষেপ নিয়েছি।’

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসাবে মন্ত্রী পরিষদ, সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। পরে বেলা ১১টায় হেলিকপ্টার যোগে ঢাকার উদ্দেশে টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ বঙ্গবন্ধু মাজার মসজিদে আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এটিএম ফজলে রাব্বী মিঞা, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, লে. কর্ণেল (অব.) ফারুক খান, কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল, শেখ তন্ময়সহ দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর