বৃহস্পতিবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৮:৩৯ পিএম

Sonargaon University Dhaka Bangladesh
University of Global Village (UGV)

পুরুষ ও নারী উভয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করার প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:২৬, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১০:১৯, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালায় আসছে বড় ধরণের পরিবর্তন। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নতুন বিধিমালা সচিব কমিটির সভায় উঠছে আগামীকাল (৩০ সেপ্টেম্বর) রবিবার বলে জানা গেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে।

সূত্র জানায়, নতুন বিধিমালায় বড় আকারে পাঁচটি পরিবর্তন আসছে। ২০১৩ সালের নিয়োগ বিধিমালায় পুরুষ ও নারীর জন্য আলাদা শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে। সহকারী শিক্ষক পদে পুরুষের জন্য স্নাতক আর নারীদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পাস হতে হয়। কিন্তু নতুন বিধিমালায় সহকারী শিক্ষক পদে পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে নারীদের জন্য ৬০ শতাংশ কোটা বহাল থাকছে।

সরাসরি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এত দিন স্নাতক পাস হলেই আবেদন করা যেত। নতুন বিধিমালার খসড়ায় এই শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর প্রস্তাব করা হয়েছে। এত দিন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ছিল ২৫-৩৫ বছর। কিন্তু এখন এই পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) নীতিমালার সঙ্গে সংগতি রেখে বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ২১-৩০ বছর।

তথ্যমতে, আগে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে ৬৫ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক হওয়ার বিধান থাকলেও সেটি পরিবর্তন করে সরাসরি পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ আর পিএসসি’র মাধ্যমে ২০ পদোন্নতির প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমানে যেকোনো বিষয়ে পাস করা প্রার্থীর সমান সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এতে মানবিক বিভাগ থেকে আসা শিক্ষকরা গণিত ও বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলো সহজে আত্মস্থ করতে পারেন না। এ কারণে নতুন বিধিমালায় সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মোট পদের শতকরা ২০ ভাগ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্য থেকে নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ক্লাস্টার বা উপজেলাভিত্তিক আর্ট ও সংগীত শিক্ষক রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে শিক্ষক নিয়োগ আগের মতোই উপজেলা বা থানাভিত্তিক হবে। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে গঠিত সহকারী শিক্ষক নির্বাচন কমিটির সুপারিশ ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে সহকারী শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগ দেয়া যাবে না। বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা না হলে কাউকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া যাবে না। এমন ব্যক্তিকে বিবাহ করেছেন অথবা বিবাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যিনি বাংলাদেশের নাগরিক নন, এমন ব্যক্তিকেও শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না।

নতুন বিধিমালার খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, ১৩তম থেকে ১৬তম বেতন গ্রেডের কোনো পদে থাকা শিক্ষককে দশম থেকে দ্বাদশ বেতন গ্রেডের কোনো পদে পদোন্নতির সুপারিশ করা যাবে। আর দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেডে থাকা শিক্ষক নবম বা তদূর্ধ্ব গ্রেডের কোনো পদে পদোন্নতির সুপারিশ পেতে পারেন। তবে, উভয় ক্ষেত্রেই পিএসসির সুপারিশ প্রয়োজন হবে। ২০১৩ সালের নিয়োগ বিধিমালায় এসব শর্ত নেই। বর্তমানে কোনো ব্যক্তির শিক্ষক পদে যোগদান করার তিন বছরের মধ্যে প্রশিক্ষণ বা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও নতুন বিধিতে তা থাকছে না।

মো. গিয়াস আহমেদ বলেন, নিয়োগ বিধিমালাটি ৩০ সেপ্টেম্বর এটি সচিব কমিটিতে তোলা হবে। সেখানে অনুমোদন দেয়া হলে মন্ত্রিপরিষদের সভায় পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন দেয়ার পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়োগ বিধিমালা সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত নিয়োগের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে না বলেও তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০১৩ সালের নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর