বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ৬:৫২ এএম


প্রাথমিক শিক্ষক আন্দোলন দুই বাংলায়, সমাধান কোথায়?

শীর্ষ ঠাকুর

প্রকাশিত: ১২:৪১, ৭ নভেম্বর ২০১৯  

বেতন বৈষম্যের অভিযোগে যখন বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন ঠিক তখনই একই ইস্যুতে নজিরবিহীন ভাবে আট ঘণ্টা রাস্তা আটকে ভারতের যাদবপুরে প্রাথমিকের শিক্ষকরা মিছিল করেছেন। গতকাল ৬ অক্টোবর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাঘাযতীন পর্যন্ত মিছিল করে তাঁরা রাস্তার উপরেই বসে পড়ে বিক্ষোভ করেন। এতে যাদবপুর-গড়িয়ার মধ্যে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বুধবার দুপুর থেকেই। বন্ধ ছিল যানচলাচল। রাতে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি পার্কে ফের অবস্থানে বসতে গেলে, পুলিশ তাঁদের বাধা দিয়েছে।

রাস্তা অবরোধের কথা শুনে সেখানের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় আলোচনার জন্য ওই শিক্ষকদের তাঁর বাড়িতে ডেকে পাঠান। তিন জনের প্রতিনিধি দল শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন। দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনাও হয়। পরে ওই প্রতিনিধি দলের তরফে জানানো হয়, তাঁদের কথা শুনলেও এ বিষয়ে কোনও সমাধান সূত্র বেরোয়নি। এ বিষয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন,  সরকার সাধ্যমতো বেতন বৃদ্ধি করে বিবৃতি জারি করেছে। ওঁদের যদি কিছু বলার থাকে, লিখিত ভাবে জানান নির্দিষ্ট জায়গায়। এর পরেও বেতন বৃদ্ধি করা যায় কি না অর্থ দফতরের সঙ্গে কথা বলে দেখব। মুখ্যমন্ত্রী যথেষ্ট মানবিক।

বাংলাদেশেও  বেতন বৈষম্যের অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকরা যখন আন্দোলন শুরু করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন শিক্ষক নেতাদের ডেকেছেন। কথা বলেছেন।  বলেছেন, দাবি আদায়ে প্রাথমিক শিক্ষকরা যে আন্দোলন করেছেন তা সফল হয়েছে।  শিক্ষকদের এ আন্দোলন প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের নেতাদের সাথে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। তবে প্রতিমন্ত্রীর এ কথায় আশ্বাস পাচ্ছেন না শিক্ষক নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর  সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতির পরও ১৩ নভেম্বরের পর আন্দোলন অব্যাহত থাকবে কিনা এডুকেশন বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে  ঐক্য পরিষদের প্রধান মুখপাত্র মো. বদরুল আলম বলেছিলেন, আমরা আন্দোলনে যেতে চাই না।  সমাপনী পরীক্ষা সামনে রেখে  আমরা আন্দোলনে বিরত থাকতে    চিন্তা ভাবনা করছি। তবে প্রতিমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৩ নভেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ করিয়ে দিলে আন্দোলের দরকার হবে না। প্রাথমিক শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বোঝাতে সক্ষম হবো।

কিন্তু শিক্ষকরা বলছেন যদি তাদের দাবির ন্যায্য হয়ে থাকে; বাস্তব সম্মত হয়ে থাকে তবে কেন এ বিষয়ে ঘোষণা আসছে না? বরং একটি কুচক্র মহল এটা নিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন। শিক্ষকরা বলছেন, তাদেরকে অবজ্ঞা করে বিকল্প পদ্ধতিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী নেয়ার যে পরিকল্পনা তা কেন? তার উদ্দেশ্য কি? তবে কী একটি মহল মনে করছেন এ সমস্যার সমাধান হবে না? শিক্ষক নেতাদের দাবি দ্বিতীয় পক্ষের মাধ্যমে না বলে সরাসরি তাদের যুক্তি ও দাবির বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তারা বলবেন। তিনিই এর সমাধান দিবেন। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা নাগাদ শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কবে সাক্ষাৎ হবে তা জানা যায়নি।

এ দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাতে না যায় সে কারণে ভারতের যাদবপুরে মোতায়ন করা হয়েছে পুলিশও। বিক্ষোভকারীরা যাতে আর এগোতে না পারেন সে জন্য রাস্তার উপরে ব্যারিকেড করা হয়েছে। তৈরি রাখা হয়েছে জল কামান। ওখানের শিক্ষরাও কষ্টে আছেন। প্রাথমিক শিক্ষকরা দাবি না মানলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর