শনিবার ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:০৬ এএম


প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতনবৈষম্য কিভাবে হলো?

আশরাফুল আলম

প্রকাশিত: ১২:০৫, ২ জুলাই ২০১৯  

আমরা এক দুর্ভাগা জাতি। কারণ দেশে কোনো সূক্ষ্মবিচার নেই। এ দিকে, দুর্বলের প্রতি সবলের অত্যাচার চিরকাল। এটি কথার কথায় নয়, নিষ্ঠুর বাস্তবতা। ভুক্তভোগী মাত্রই ভালোভাবে জানেন তা।

২০১৪ সালের ৯ মার্চ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা দেয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকেরা ১৪-১৫তম গ্রেডে বেতন পেতেন। তাদের ব্যবধান বেড়ে চার ধাপে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তখন থেকেই সহকারী শিক্ষকদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি। সহকারী শিক্ষকেরা বেতনবৈষম্য নিরসনের দাবিতে ২০১৪ সাল থেকে আন্দোলন করেছেন। কিভাবে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকেরা বেতনবৈষম্যের শিকার, এটি সবার জানা উচিত। জানতে পারলে সহজে বোঝা যাবে, কেন বেতনবৈষম্য নিরসনে তাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে।

১৯৭৩ সালে প্রাথমিকের প্রধান ও সহকারী শিক্ষক উভয়েরই ১৩৫ টাকা মূল বেতন ছিল। ধাপের কোনো পার্থক্য ছিল না, তখন প্রধান শিক্ষকেরা মাসিক ১০ টাকা হারে কার্যভার ভাতা বেশি পেতেন। ১৯৭৭ সালে সহকারী শিক্ষকদের ১৭তম গ্রেড এবং প্রধান শিক্ষকদের ১৬তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা হলে বৈষম্যের সূচনা। ২০০৬ সালে বেতনবৈষম্য হয় দুই ধাপে এবং ২০১৪ সালে এসে বেতনবৈষম্য বেড়ে চার ধাপে দাঁড়ায়। এটি বড় ধরনের বৈষম্য নয় কি?

বিগত ১৫ মার্চ বেতনবৈষম্য নিরসনের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা মানববন্ধন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরবার স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড বৈষম্যনিরসনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার এবং নির্বাচনের আগের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে শতভাগ পদোন্নতিসহ ১১তম গ্রেডে বেতন প্রদানের কার্যকর উদ্যোগ নেবে সরকার।

২০১৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর লক্ষাধিক সহকারী শিক্ষক ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশনে গেলে ২৫ ডিসেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী, সচিব এবং প্রাথমিক অধিদফতরের মহাপরিচালক উপস্থিত হয়ে বেতনবৈষম্য নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেন। ফলে শিক্ষকেরা অনশন কর্মসূচি স্থগিত করেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আজো বাস্তবায়ন করা হয়নি।

সহকারী শিক্ষকেরা মানুষ গড়ার মূল কারিগর। প্রধান শিক্ষকেরা প্রধানত প্রশাসনিক কাজ করে থাকেন। সহকারী শিক্ষকেরা দাফতরিক কাজে প্রধান শিক্ষককে সহায়তা করেন। শিক্ষা কার্যক্রম প্রধান শিক্ষক না সহকারী শিক্ষক বেশি বাস্তবায়ন করেন? প্রধান শিক্ষকের একার পক্ষে বেশি কি তা করা সম্ভব? গাছের উপরে পানি না ঢেলে গোড়ায় আগে পানি ঢালতে হবে। তাই প্রধানমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও

মহাপরিচালকের প্রতি প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের বেতনবৈষম্যের বিষয়ে ভেবে দেখার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি। প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পরবর্তী ধাপেই সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ঘোষণা করার আবেদন জানাচ্ছি। শিক্ষকেরা জাতিকে স্বপ্ন দেখান। তাদের নিজেদের স্বপ্নভঙ্গ হলে অন্যদের কিভাবে স্বপ্ন দেখাবেন তারা? হ

লেখক : সহকারী শিক্ষক, গুলশান, ঢাকা

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর