সোমবার ২১ অক্টোবর, ২০১৯ ৩:৫৪ এএম


প্রাথমিক শিক্ষকদের ন্যায় বিচার দাবি

মো. সিদ্দিকুর রহমান

প্রকাশিত: ১১:২৮, ৮ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১১:৫৮, ৮ অক্টোবর ২০১৯

অর্থ মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়। প্রধান শিক্ষকদের জন্য ২য় শ্রেণির মর্যাদায় ১০ম গ্রেড এবং সহকারী শিক্ষকদের জন্য ১১তম গ্রেড দাবি করে আসছেন তারা।

এ প্রত্যাশা কোনোমতেই অযৌক্তিক নয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক শিক্ষকদের এ সমস্যা সমাধানে ২০১৪ সাল থেকে সময়ক্ষেপণ করে আসছে। গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে বিমাতাসুলভ আচরণ করে আসছে। তারা সহকারীদের ১১তম গ্রেডের পরিবর্তে ১২তম গ্রেডের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল। গত ৪ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি নাকচ করে দিয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ই প্রাথমিক শিক্ষকদের মুখ্য অভিভাবক। অভিভাবক হিসেবে শিক্ষকদের ১০ম ও ১১তম গ্রেড দেয়ার মূল দায়িত্ব তাদের। এক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই টালবাহানা বা সময়ক্ষেপণ কাম্য নয়। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বৈষম্য নিরসনের অঙ্গীকার রয়েছে।

সব সরকারি কর্মচারী ২য় শ্রেণির ১০ম গ্রেড পেলে প্রধান শিক্ষকরা কেন পাবেন না? অথচ ২০১৪ সালে তাদের ১১তম গ্রেড দেয়া হল। কেন ষড়যন্ত্র করে প্রাথমিক শিক্ষকদের হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বিঘ্নিত করা হচ্ছে? এজন্য দায়ী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘৃণ্যচক্রের হোতারা।

প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের প্রতি সবিনয় নিবেদন, মন্ত্রণালয়কে এ চক্রের কবল থেকে বের করে আনুন। শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন। প্রাথমিকের বেশিরভাগই শিক্ষকদের স্বার্থের চেয়ে নেতৃত্বের তথা স্বীয় স্বার্থ বড় করে দেখে আসছেন।

নেতৃত্বের মোহ তাদের ঐক্যের পথে বড় বাধা। আজ প্রয়োজন ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক বিভেদ ভুলে সবার ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়া। এর মাধ্যমেই সফল নেতৃত্বের পাশাপাশি শিক্ষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে।

বঙ্গবন্ধু আজীবন বৈষম্য দূরীকরণে সংগ্রাম করেছেন। তার সুযোগ্য কন্যাও একই আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আমার বদ্ধমূল ধারণা, প্রাথমিক শিক্ষায় বেতন বৈষম্যসহ সময়সূচি ও সরকারি কর্মচারীর মতো নন-ভ্যাকেশনাল সুবিধাসহ শ্রান্তি-বিনোদন ভাতা, ৩ বছর পরপর প্রাপ্তির নিশ্চয়তার জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ প্রাথমিকের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস।

১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের গ্রাম সরকারের বিরুদ্ধে যেভাবে প্রাথমিক শিক্ষকরা গর্জে উঠেছিলেন, আজ বৈষম্যহীন প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে তার মৃদু গর্জনও শোনা যাচ্ছে না। বাস্তবে বর্তমান প্রাথমিক শিক্ষক নেতারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে কতটুকু ভাবছেন তা বোধগম্য নয়।

অন্যায়ের প্রতিবাদের ভাষা তাদের নেই। অথচ মন্ত্রী, এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর ফুলের বড় বড় তোড়া দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একনিষ্ঠ সেবক সেজে শিক্ষকদের নেতা বনে গেছেন তাদের অনেকে।

আজকের দিনে প্রাথমিক শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা প্রাথমিক শিক্ষার বৈষম্য দূরীকরণে একসঙ্গে কাজ করবে, এটাই কাম্য। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হোন- প্রাথমিক শিক্ষার সব বৈষম্য শিগগির দূর করার সংকল্পে। 

মো. সিদ্দিকুর রহমান : সভাপতি, বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদ

সূত্র: যুগান্তর পত্রিকা

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর