মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ২:৩৮ এএম


প্রাথমিক শিক্ষকদের ট্রেনিং ও প্রশ্ন করা নিয়ে যা বললেন নেপের ডিজি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:২৮, ৮ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১২:৪২, ৮ অক্টোবর ২০১৯

প্রত্যেক পেশার মানুষের কিছু পেশাগত দায়িত্ব-কর্তব্য থাকে যা তার পেশাগত বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। একইভাবে যাঁরা শিক্ষক, তাঁদের কিছু পেশাগত বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন। যেমন, যিনি যে বিষয়ের শিক্ষক তাঁর সে বিষয়ে গভীর জ্ঞান থাকা বাঞ্ছনীয়। আবার শুধু জ্ঞান থাকলেই হবে না, তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। যে জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে চাই, তার থেকেও তা কীভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে সেটা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আবার জ্ঞান ছড়িয়ে দিলেই হবে না, যে বা যারা তা গ্রহণ করছে তা তারা আদৌ গ্রহণ করতে পারছে কিনা, পারলেও কতোটা গ্রহণ করতে পারছে ইত্যাদিও দেখার বিষয়। আর তা সার্থকভাবে সম্পন্ন করতে হলে প্রয়োজন- দক্ষতা, যোগ্যতা ও প্রায়োগিক জ্ঞান। শিক্ষকদের সে সকল দক্ষতা, যোগ্যতা ও প্রায়োগিক জ্ঞান অর্জনের জন্যই প্রয়োজন প্রশিক্ষণ। অনেকেই প্রশ্ন তুলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা বছরব্যাপী বিভিন্ন মেয়াদে যে সকল প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন নিজ নিজ শ্রেণিতে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে না পারায় প্রাথমিকে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছেনা।

শিক্ষকগণ কিন্তু সারা বছরই কোনো না কোনো ট্রেনিংয়ের সাথে যুক্ত থাকেই । যেমন দেড়বছর ব্যাপী ডিপিএড,বিষয়ভিত্তিক ToT প্রশিক্ষণ , আইসিটি প্রশিক্ষণ , চাহিদাভিত্তিক সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ ইত্যাদি। শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান, দক্ষতা আসলে কতটুকু শ্রেণি কার্যক্রমে প্রয়োগ করে তা নিয়ে প্রশ্ন অনেক দিনের। এখন আবার নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে বিভিন্ন সাময়িক পরীক্ষার প্রশ্ন শিক্ষকগণ নিজেরাই করবে। এটা নিয়েও অনেক প্রশ্ন আছে। একটি স্কুলে কতজন শিক্ষক আসলে প্রশ্ন করার মতো দক্ষতা কিংবা যোগ্যতা রাখে তা নিয়েও কথা হচ্ছে। একজন শিক্ষকের সাথে আলাপ করে জানা গেছে তার স্কুলে ৮ জন শিক্ষক আছে এর মধ্যে মাত্র ২ জন শিক্ষকের প্রশ্ন করার মতো ক্ষমতা রাখে। আর অন্যদের প্রশ্নও এই দুই জন শিক্ষককেই করতে হবে। এর ফলে প্রশ্ন করার মতো অতিরিক্ত একটা চাপ আসবে প্রত্যেক স্কুলের কয়েকজন শিক্ষকের উপর। ফলে তাদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম বাঁধাগ্রস্ত হবে। যারা প্রশ্ন করার দক্ষতা নেই তারা আসলে অদক্ষই থেকে যাবে। কারণ কে প্রশ্ন করলো তার মনিটরিংএর কোনো ব্যবস্থা বা জনবল মাঠ পর্যায়ে নেই।

এ সম্পর্কে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক মো. শাহ আলম এডুকেশন বাংলাকে জানান` এখন শিক্ষকরা দেড় বছরের একটা প্রশিক্ষণ করে। দেড় বছরের প্রশিক্ষণের মধ্যে ছয়মাস স্কুলেই সম্পন্ন করতে হয়। এতে ওই শিক্ষকের প্রায়োগিক দক্ষতা মাপা যায়। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণতো আছেই। মানসম্মত শি্ক্ষা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান শ্রেণি কক্ষে এসে প্রয়োগ করা। প্রাথমিক শিক্ষায় এখন এক্টিভিটিবেইজ কারিকুলাম বা কম্পিটেন্সি বেইজ কারিকুলাম চালু আছে। তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর প্রশ্ন প্রণয়ন করি। এখন শতভাগ কম্পিটেন্সিবেইজড প্রশ্ন করা হয়।

শাহ আলম বলেন, সম্প্রতি আমাদের সচিব মহোদয় সকল স্কুলে একটা নির্দেশনা দিয়েছেন প্রত্যেক স্কুলে শিক্ষকরা নিজেরাই প্রশ্ন করবে। এর উদ্দেশ্য হলো প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশ্ন করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। কম্পিটেনসি বেইজড প্রশ্ন কিভাবে করবে কিভাবে খাতা দেখবে ইতোমধ্যে ইউআরসি পর্যায়ে ট্রেনিং করানো হয়েছে। সব শিক্ষক প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে যে ক্যাপাবল তা কিন্তু নয়। যেমন আমার এখানে ১৪০জন শিক্ষকের একটা টিম আছে তাদের মধ্যে ১০জন প্রশ্ন করে। প্রশ্ন করার দায়িত্ব দেয়ার উদ্দেশ্য হলো তারা প্রশ্ন করার চেষ্টা করবে এবং করতে করতে তাদের মধ্যে ক্যাপাবিলিটি বৃদ্ধি পাবে।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর