রবিবার ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ৩:০৮ এএম


প্রাথমিক শিক্ষককে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠালেন চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:১৮, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার গজালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অমূল্য রতন হালদারকে কান্দি ইউপি চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ পিটিয়ে জখম করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের ধারাবাশাইল বাজারে এই ঘটনা ঘটে। শিক্ষক অমূল্য রতন হালদারকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ওই ইউনিয়নের গজালিয়া গ্রামের মহেন্দ্রলাল হালদারের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার উপজেলার মাচারতারা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সবুজ ঘরামী নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে শ্রেণিকক্ষে পড়া না পারার কারণে গনিত শিক্ষক আশীষ চন্দ্র বড়াল মারধর করেন। এ ঘটনায় সবুজ ঘরামীর পরিবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র হালদারকে অভিযোগ করলে তিনি বিষয়টি চেপে যেতে বলেন। ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈর স্ত্রী জেলা পরিষদ সদস্য রীনা রাণী মন্ডল। ঘটনাটি সবুজ ঘরামীর বাবা সুশীল ঘরামী রীনা রাণী মন্ডলকেও জানান।

এ বিষয় নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় ধারাবাশাইল বাজারে ইউপি চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈর সঙ্গে গনিত শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র হালদারের ভাই গজালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অমূল্য রতন হালদারের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ ও তার ভাই মনি বাড়ৈ অমূল্য রতন হালদারকে মারধর করেন।

শিক্ষক অমূল্য রতন হালদার বলেন, চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ তার ভাই মনিকে সঙ্গে নিয়ে আমাকে মারপিট করেন। এ পর্যায়ে আমার কপালে তার পায়ের স্যান্ডেল লাগিয়ে বলেন ’ তুই আমার স্যান্ডেলেরও যোগ্য না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোকে ও তোর ভাইকে দেখে নেব।’

তবে ইউপি চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ মারধরের বিষয়েটি অস্বীকার করে বলেন, আমি শিক্ষক অমূল্য হালদারকে মারধর করিনি। অমূল্য হালদার মাচারতারা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের বিষয়টি নিয়ে আমার মা-বাপ তুলে গালিগালাজ করেছেন। তখন আমার ভাই মনির সঙ্গে তার হাতাহাতি হয়। অমূল্য রতন হালদার শিক্ষক হলেও খারাপ প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে এলাকার লোকজন কয়েকমাস আগে থানায় জিডি করেছে। এছাড়া অমূল্য রতন হালদারের ভাই মাচারতারা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র হালদার বিদ্যালয়টিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমার স্ত্রী রীনা রাণী মন্ডল এর প্রতিবাদ করায় শিক্ষক দুই ভাই আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে নানা ধরণের মিথ্যা রটাচ্ছেন।

মাচারতারা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র হালদার বলেন, চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈর সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি তার ক্ষমতাবলে এলাকায় রামরাজত্ব কায়েম করেছেন।

কোটালীপাড়া থানার ওসি শেখ লুৎফর রহমান বলেন, শিক্ষকের গায়ে হাত দেওয়াটা দুঃখজনক। তবে উভয়পক্ষই এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

এডুকেশন বাংলা/এজড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর