মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ৭:২৪ এএম


প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অর্থবরাদ্দ ও অনিয়ম

এডুকেশন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:৫৭, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

যে কোনো জাতি গঠনে প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব সর্বাধিক। ইহা আমাদের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার বীজস্বরূপ। একটি ভালো বীজ হইতে যেমন একটি গাছের মহিরুহ হইয়া উঠা সম্ভব, তেমনি মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা দ্বারা জাতীয় উন্নয়নের শিখরে উন্নীত হওয়া যায়। আমাদের সংবিধানের ১৫ (ক) অনুচ্ছেদে শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসাবে এবং ১৭ (ক), (খ) ও (গ) অনুচ্ছেদে বালক-বালিকাদের জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাসহ নিরক্ষরতা দূরীকরণের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হইয়াছে।

কিন্তু এই স্তরের শিক্ষাব্যবস্থার এত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও দেখা যায়, আমাদের দেশে এই শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক অবস্থা আশানুরূপ নহে। বর্তমান সরকার বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ, শতভাগ ভর্তি নিশ্চিতকরণ, ছাত্রছাত্রীর আনুপাতিক হারে উন্নয়ন, ঝরিয়া পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য লাভ করিয়াছে। কিন্তু লাভের গুড় যেমন পিঁপড়ায় খায়, তেমনই এই সাফল্যকে ম্লান করিয়া দিতেছে প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান কিছু অনিয়ম। ইত্তেফাকে প্রকাশিত একটি খবরে বলা হইয়াছে যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে যেই আট খাতে অর্থ বরাদ্দ করা হয়, তাহার সব ক্ষেত্রে অনিয়ম বাসা বাঁধিয়াছে। এই অনিয়ম যেন দেখিবার কেহ নাই। বরং এই ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়িয়াই চলিয়াছে।

আজ সোমাবার ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়েছে- জানা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র ও বৃহত্ সংস্কারকাজ, বিদ্যালয়ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা (স্লিপ), রুটিন মেইনটেন্যান্স বা রক্ষণাবেক্ষণ, প্রাক্-প্রাথমিকের ক্লাস সজ্জিতকরণ, ওয়াশব্লক রক্ষণাবেক্ষণ, বই বিতরণ, শোক দিবস পালন, বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানসহ আনুষঙ্গিক খাতে প্রতি বত্সর অর্থ বরাদ্দ করা হয়। শুধু স্লিপের জন্য শিক্ষার্থীভেদে প্রতিটি স্কুলে বত্সরে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪০ হাজার হইতে ১ লক্ষ টাকা। শিক্ষা কার্যক্রম, টিউবওয়েল মেরামত, আসবাবপত্র মেরামতসহ বিভিন্ন কাজে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় হইবার কথা। কিন্তু অভিযোগ রহিয়াছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিল-ভাউচার দেখাইয়া এই অর্থের বড়ো একটি অংশ আত্মসাত্ করা হয়।

এই ক্ষেত্রে একশ্রেণির অসাধু শিক্ষা কর্মকর্তা, স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) ও প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশ থাকে। আবার ইহার সহিত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জড়িত থাকিবারও অভিযোগ রহিয়াছে। বলিতে গেলে, ইহার কারণেই যথাসময়ে বিদ্যালয় ভবনের সংস্কার হয় না। ছাদের পলেস্তারা খসিয়া পড়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা হতাহত হয়। বিদ্যালয়ের দরজা-জানালা থাকে না, গ্রিল থাকে ভাঙা। বিদ্যালয় অঙ্গন থাকে অপরিষ্কার। স্যানিটেশনের ভালো ব্যবস্থা থাকে না। ইহার কারণে মাঠ পর্যায়ে দেওয়া সরকারি অর্থের সুফল মিলিতেছে না। দিনের পর দিন ভোগান্তির মধ্যেই বিদ্যালয়গুলিতে চলিতেছে পাঠদান।

প্রাথমিক শিক্ষার স্তর অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই স্তরে যে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত জাতির জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। এই জন্য এই ক্ষেত্রে কোনো অন্যায়-অনিয়ম সহ্য করা অনুচিত। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা ইতিমধ্যে বৈশ্বিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে সাফল্য লাভ করিয়াছি। এখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন (এসডিজি) এবং রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়ন করিতে হইলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নাই। আর এই জন্য এই স্তরের যাবতীয় অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের অবশ্যই জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করিতে হইবে।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর