বুধবার ২০ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:৫৫ এএম


প্রাথমিক নেতাদের মিটিংয়ের একটি 'লাইভ' এবং দাবি আদায়ের নমুনা

আজাদ খান

প্রকাশিত: ১২:৩৮, ১ নভেম্বর ২০১৯  

প্রিয় শিক্ষক বন্ধুরা, সাড়ে তিন লাখ শিক্ষকের দাবি নিয়ে আলোচনার জন্য মহাজোটের নেতারা গতকাল ৩১অক্টোবর তারিখ ডিজি মহোদয়ের সাথে বৈঠকে বসেছিলেন । বৈঠক থেকে সরাসরি লাইভ ভিডিও প্রচার করেছিল অজিত পাল।যে ভিডিও তে তাদের আলোচনার মূল উদ্দেশ্য সকলের কাছে সূর্যের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে।কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই অজিত পালের ভিডিও ফেসবুক থেকে ডিলিট করা হয়েছে।কেনো,কি কারণে ডিলিট করা হলো,ভিডিও তে কি ছিলো?

অজিত পালের লাইভ ভিডিও তে যা ছিল তা সংক্ষেপে তুলে ধরলাম:-
মহাজোট নেতারা ডিজি স‍্যারের সভাকক্ষে ঢুকে প্রথমে সেলফি তুলে পোস্ট করেছে।এরপর ডিজি স‍্যার এসে তাদের কে বেতন বৈষম্য নিয়ে কথা বলতে বলেন।কিন্তু মহাজোট নেতারা শিক্ষকদের দাবি নিয়ে কথা না বলে ঐক‍্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং তাদের লাখ লাখ সমর্থক শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।

কথাগুলো এভাবে :- ভূয়া পিএস :
* উনি ডিজি স্যার কে বারবার একটি কথাই দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছেন। আর তা হল কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে সাধারণ শিক্ষকদেরকে শহীদমিনারে ডেকে এনে পুলিশ দ্বারা পিটান খাওয়ানো হলো।তাদের (ঐক্য পরিষদ নেতাদের) বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে?

* অনুমতি না নিয়ে শহীদ মিনারে মহাসমাবেশের প্রচারের জন্য ঐক্য পরিষদের সকল নেতাকর্মী, সমর্থকদের বিরুদ্ধে সাইবার এ‍্যাক্টে মামলা করার জন্য ডিজি স‍্যারকে বলেন।

* মহাসমাবেশে আসার জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছে ঐক‍্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।এজন্য তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

* স্যার আপনি বিচলিত হবেন না।চার লক্ষ শিক্ষকের মধ্যে তিন লক্ষ শিক্ষক আমাদের মহাজোটের সাথে রয়েছে। আমরা বিশৃঙ্খলা সমর্থন করি না।আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনায় বিশ্বাসী।ঐক‍্য পরিষদের সবাই উগ্রবাদী এবং মৌলবাদী। শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে তাদেরকে ঢাকায় এনে পুলিশ দ্বারা পিটান খাওয়ানো হয়েছে,এ বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

* লাইভের এ পর্যায়ে শাহিনুর আক্তার শিক্ষকদের পুলিশের উপর মারপিট সম্পর্কে ডিজি স্যারকে বলতে গেলে ডিজি স্যার বলেন ওরা মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আজ সন্ধ্যায় বৈঠক করবেন।আপনারাও করেন। ভুয়া পিএস বারবার রাগান্বিত স্বরে আঞ্চলিক ভাষায় ডিজি স্যারের সাথে কথা বলেছেন যাতে ডিজি স‍্যারও বিব্রতবোধ করেছেন।

অজিত পাল এইসব আলোচনা লাইভে দিয়েছেন তা প্রথমত শাহিনুর আলামিন জানেনা। তিনি যখন জানতে পেরেছেন তখন লাইভ দ্রুত বন্ধ করতে বলেন এবং দ্রুতই সেটা ডিলিট করে দেয়।

** প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ, ভিডিও পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে মহাজোটের নেতারা ডিজি স্যারের সাথে শিক্ষকদের দাবি নিয়ে আলোচনা করেননি।তারা আলোচনা করেছে ঐক‍্য পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে অর্থাৎ ঐক্য পরিষদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করতেই আজকের এই মিটিং।

ভুয়া পি এস শিক্ষকদের দাবি আদায়ের বিষয়ে কোনো বক্তব্য রাখেনি। তিনি স্যারের সাথে তার সকল কথাই ছিল ঐক‍্য পরিষদের নেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

** প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ, আজ ঐক্য পরিষদের নেতারাও ডিজি স্যার এবং মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলেছেন ।
ঐক‍্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের আলোচনার সার সংক্ষেপ:-

* সহঃ দের ১১ এবং প্রধান দের ১০ গ্রেডের দাবিতে অনড় অবস্থান।অন‍্য কোনো কিছুই মানবেন না। সহ প্রধান পদের প্রয়োজন নেই বলে স্পষ্ট উল্লেখ করেন। শিক্ষক পেটানো পুলিশদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি করেছেন। 13 নভেম্বরের মধ্যে দাবি না মানলে পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। ২৭০০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে শোকজ প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে শিক্ষকদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার বিষয়ে জোরালো ভাবে আলোচনা করেন।

* ঐক‍্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ মহাজোট সম্পর্কে ডিজি স‍্যার এবং মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কোনো কথাই বলেননি। শুধু শিক্ষকদের সমস‍্যা, দাবি নিয়ে কথা বলেছেন।
প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ, গতকাল মহাজোট এবং ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরা হলো যা সত্য কথা।

এবারে আপনাদের কাছে প্রশ্ন :-
১। মহাজোট নেতারা ডিজি স্যারের সাথে কি বেতন বৈষম্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিল?
২। প্রকৃতপক্ষে মহাজোট কী গ্রেড বৈষম্য নিরসন করতে চায়?
৩। তারা কেন,কি উদ্দেশ্যে ঐক্য পরিষদের বিরুদ্ধে নালিশ করতে গিয়েছিল?
৪। ভুয়া পি এস এর কথা, তিন লক্ষ শিক্ষক মহাজোটের সাথে আছে কথাটি কত পার্সেন্ট সত্য?

প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ, উল্লেখিত আলোচনায় আপনারা বুঝতে পেরেছেন যে ২৩ অক্টোবর তারিখে বিভাগীয় সমাবেশে মহাজোটের শিক্ষক উপস্থিত না হওয়ায় এবং ঢাকার মহাসমাবেশে শত বাঁধার পরও লক্ষাধিক শিক্ষকের উপস্থিতিতে মহাজোট নেতারা বুঝতে পেরেছে শিক্ষক সমাজে তাদের অস্তিত্ব নেই,গ্রহণযোগ্যতা নেই,তাদের শুধুমাত্র কয়েকজন অতিউৎসাহী কর্মী ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট কমেন্ট করে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিয়ে যাচ্ছেন।কিন্তু ফেসবুক দিয়ে কি অস্তিত্ব ফিরে পাওয়া যায়?

সর্বশেষ, মহাজোট নেতাদের প্রতি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই,১৭৫৭ সালে পলাশীর ঘটনায় মীরজাফর,ঘষেটি বেগমদের ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য তাদেরকে কঠিন বেদনাদায়ক পরিস্থিতি হয়েছিল। আপনারাও তেমন কঠিন বেদনাদায়ক পরিস্থিতির দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছেন। ইতিহাস বড়ই কঠিন।

লেখাটি:আজাদ খান রাজাপুর` নামের একটি ফেসবুক টাইমলাইন থেকে নেয়া লেখাটি দেখতে ক্লিক করুন

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর