শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২০ ০:৩১ এএম


প্রাথমিকে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাদের ঘুষ বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:১৩, ১৫ মে ২০১৮  

বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে অর্থ ছাড়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে হয় মাঠপর্যায়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের। দেশের ৪০ ভাগ জেলা ও উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা এটি স্বীকার করেছেন। এতে সরকারি অর্থের আত্মসাৎ না হলেও এর ফলে অন্য উপায়ে খরচ পুষিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টরা উৎসাহিত হতে পারেন। ইউনেস্কোর সবশেষ শিক্ষা পরিবীক্ষণ রিপোর্টে এ চিত্র পাওয়া যায়। ‘শিক্ষায় জবাবদিহিতা : আমাদের দায়বদ্ধতা পূরণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি আজ দেশে প্রকাশ পাচ্ছে। এ উপলক্ষে সকালে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (ব্যানবেইস) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ইউনেস্কো বাংলাদেশ জাতীয় কমিশন (বিএনসিইউ) ও ইউনেস্কোর ঢাকা অফিসের উদ্যোগে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

প্রতিবেদন সম্পর্কে বিএনসিইউ’র সচিব মনজুর হোসেন বলেন, সদস্য রাষ্ট্রের শিক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি বছর প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইউনেস্কো। প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য সদস্য রাষ্ট্র নিজ দেশে পৃথক অনুষ্ঠান করে। প্রকাশনা উপলক্ষে প্রতিবেদনের সারাংশ বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে। এটিও আমরা প্রকাশ করব।

এবারের প্রতিবেদনে পরিবার থেকে স্কুল, শিক্ষক, সরকার, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষায় জবাবদিহিতা নিশ্চিতে কী ভূমিকা রাখা প্রয়োজন, সে তথ্য ও সুপারিশ স্থান পেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষায় জবাবদিহিতার দোষারোপের খেলা বন্ধ করতে হবে। শিক্ষা হল অংশীদারিত্বমূলক দায়িত্ব। দিকটি বোঝাতে তানজানিয়ার রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট গডফ্রে মোয়ামপেমবোয়ার একটি কার্টুন প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে জবাবদিহিতার জন্য গণমাধ্যম দায়ী করছে শিক্ষার্থীদের, শিক্ষার্থী অভিভাবককে, অভিভাবক দায়ী করছে শিক্ষককে, শিক্ষক দায়ী করছে রাজনীতিবিদকে। আর রাজনীতিবিদরা দায়ী করছেন রাষ্ট্রপতিকে (সরকার)।

প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও উত্তমমানের শিক্ষা নিশ্চিতকরণে সামষ্টিক উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। শিক্ষায় যুক্ত সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে বলা হয়েছে। উপায় হিসেবে সবার আগে সরকার গঠনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণের সঙ্গে সংসদীয় কমিটির কার্যকর ভূমিকা, সামাজিক আন্দোলন, বিচার ব্যবস্থার ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে নিয়মিত স্কুলে উপস্থিতি, অভিভাবক সভা, স্কুলের সঠিক আচরণবিধি ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে ভালো আচরণের কথা বলা হয়েছে। ফলাফলভিত্তিক শাস্তি ও পুরস্কারের ব্যবস্থা ছাড়াও নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর শিক্ষালয় গড়ে তোলা এবং শিক্ষকদের মানভিত্তিক বেতন প্রদানের কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে মোটা দাগে সাতটি প্রধান ও বারোটি উপ-সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আছে- তিনটি পৃথক পদক্ষেপ নিয়ে সরকারকে শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন এবং যথাক্রমিক দায়িত্ব পালনে একটি অংশীদারিত্বমূলক বোঝাপড়া গড়ে তুলতে অর্থবহ পরিস্থিতি এবং প্রতিনিধিত্বমূলক সম্পৃক্তি সৃষ্টি করতে হবে। সরকারকে শিক্ষা পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ বাজেট তৈরি করতে হবে। এর জন্য সুস্পষ্ট দায়িত্ব বণ্টন ও প্রকৃত অর্থে স্বাধীন নিরীক্ষা পদ্ধতি থাকবে। স্কুল ও শিক্ষকের এমন জবাবদিহিতা প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে হবে, যা সহযোগিতামূলক এবং গঠনমূলক হবে। বিশেষ করে কাজের ভালো-মন্দের ব্যাপারে সংকীর্ণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা পরিহার করতে হবে। সরকারকে গণতান্ত্রিক মতামতের সুযোগ দিতে হবে। শিক্ষার বিষয় খতিয়ে দেখতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সুরক্ষা দিতে হবে। অভিযোগ চিহ্নিত করার জন্য নাগরিকদের স্বাধীন সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার উন্নয়নে কার্যকরী জবাবদিহিতা বাস্তবায়নের জন্য তথ্য, সম্পদ এবং সক্ষমতার ব্যাপারেও আলাদা পদক্ষেপ নিতে হবে।

সূতো: যুগান্তর

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর