শনিবার ১৮ আগস্ট, ২০১৮ ১৮:০১ পিএম

Sonargaon University Dhaka Bangladesh
University of Global Village (UGV)

‘প্রাথমিকে শরীরচর্চা ও চারুকলার ১জন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:১৬, ৮ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ০৮:২১, ১০ আগস্ট ২০১৮

প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১জন করে শরীরচর্চা এবং চারু ও কারুকলার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। একই সঙ্গে সরকারি প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নয়নে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরোও বলেন, বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থী টিফিনের সময় বাড়ির রান্না করা খাবার খাচ্ছে।

গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, “২০২০ সালের মধ্যে মিড-ডে মিল থেকে বিস্কুট উঠিয়ে দেব, সবাই রান্না করা খাবার খাবে।”

মায়েরা সন্তানদের টিফিনে রান্না করা খাবার সরবরাহ করায় এই খাতে সরকারকে এখন কোনো অর্থ খরচ করতে হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

‘শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শিক্ষকদের আস্থায় রেখেই মিড-ডে মিল বাস্তবায়ন করছি’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “আশা করছি আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে শতাভাগ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা রান্না করা খাবার খাবে।”

শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এই হার শতভাগে উন্নীত করা সম্ভব বলে আশা করছেন তিনি।

নবগঠিত এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী পরিষদের সঙ্গে বুধবার সচিবালয়ে মতবিনিময়ে গণশিক্ষামন্ত্রী এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “৯৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুপুরে খাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্কুলে একসঙ্গে বসে খাবার খায়।”

আরও পড়ুন: টাকা দিয়ে প্রাইমারীতে চাকরি পাওয়া পুরনো ইতিহাস: গণশিক্ষামন্ত্রী

বিশ্ব ব্যাংকসহ কয়েকটি দাতা সংস্থায় সহযোগিতায় সরকার প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের টিফিনে বিস্কুট দিয়ে আসছিল। কিন্তু প্রতিদিন একই খাবারে ছাত্রছাত্রীদের অনীহার কারণে সরকার শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়ে সন্তানদের টিফিনে রান্না করা খাবার সঙ্গে দিতে অভিভাবকদের অনুরোধ জানায়।

এক প্রশ্নে তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের অধীনে থাকা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিগুলো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ছেড়ে দিলে প্রাথমিক শিক্ষার স্তর অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করা হবে। “প্রাথমিক স্তর অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত হওয়ার পর সিদ্ধান্ত হবে কোন নামে সমাপনী পরীক্ষা নেওয়া হবে।”

প্রাথমিক শিক্ষার স্তর আনুষ্ঠানিকভাবে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত না হলেও ৭০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি খোলা হয়েছে বলেও জানান গণশিক্ষামন্ত্রী।

মতবিনিময়ে বর্তমান সরকারের সময় প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন মন্ত্রী।

সরকারি প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয় না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “পিএসসির (সরকারি কর্ম কমিশন) থেকে আমাদের স্ট্যান্ডার্ড কোনো অংশেই কম নয়। বুয়েট প্রশ্ন করে, পরীক্ষা নেয়, রেজাল্টও তারা দেয়। শুধু ২০ নম্বরের ভাইবা নেন ডিসিরা।

“চেষ্টা করছি আমার কারণে আমার দল যেন কোনোভাবেই খাটো না হয়।”

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঢাকা মহানগরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে দৃষ্টিনন্দন করতে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক সাব্বির নেওয়াজের নেতৃত্বে সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা মতবিনিময়ে অংশ নেন।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর