মঙ্গলবার ০৭ এপ্রিল, ২০২০ ১৬:৪৪ পিএম


প্রাথমিকের সময়সূচিতে বৈষম্য দূর করা জরুরি

মো. সিদ্দিকুর রহমান

প্রকাশিত: ০৯:২৯, ১০ মার্চ ২০২০  

আনন্দ, বেদনা ও ক্ষোভের মধ্য দিয়ে চলছে প্রাথমিক শিক্ষা। বৈষম্যের বেড়াজালে অস্থিরতার মাঝে সময় কাটাচ্ছে শিশু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসমাজ। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে।

একসঙ্গে ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ, প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে বই বিতরণসহ নানা ক্ষেত্রে সাফল্য আছে। তবে প্রাথমিক শিক্ষায় বিশাল অর্জনের পরও বৈষম্য নিরসনে ইতিবাচক উদ্যোগ তেমন দৃশ্যমান নয়।

প্রাথমিক শিক্ষকদের ২০১৪ সাল থেকে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবি পূরণে শুধু আশ্বাস, হুমকি-ধমকি দিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।

বর্তমানে সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম বেতনস্কেল তাদের মনের আগুন কিঞ্চিত নেভানোর পরিবর্তে আরও উসকে দিয়েছে। বেতন নির্ধারণে অধিকাংশের পিপি হয়ে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি থমকে দাঁড়াচ্ছে। এ যেন শুভঙ্করের ফাঁকি!

সময়সূচি কমানোর নামে সৃষ্টি করা হচ্ছে এক অভূতপূর্ব বৈষম্য। একই কাজ, পদবি, বেতনস্কেল, সুযোগ-সুবিধাপ্রাপ্ত শিক্ষক, অথচ কারও ছুটি ৩.১৫টায়, আবার কারও ছুটি ৪টায়। এ বৈষম্য কত বছর চলবে তারও কোনো ঠিক নেই।

অবকাঠামো নির্মাণসহ পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে সময়সূচি ৩.১৫টায় করার সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের। এ আরেক সময়ক্ষেপণের পালা। বিদ্যালয়ে শ্রেণির কার্যক্রমে প্রতি পিরিয়ড শেষে ১০ মিনিটি বিরতি।

শিশুরা বিরতির সময়ে শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে দৌড়াদৌড়ি বা হৈচৈ করে থাকে। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই এর দায়ভার প্রথমে শিক্ষকের ওপর বর্তাবে। সংশ্লিষ্টরা দুর্ঘটনার পর শিক্ষকদের দায়ী করতে একটুও কার্পণ্য করবে না।

বর্তমানে ২০২০ শিক্ষাবর্ষে সারা দেশে বৈষম্যমূলক ঘণ্টা চালু হলেও ঢাকা শহরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এর ছোঁয়া লাগেনি। সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম দেখে মনে হয় ঢাকা শহরের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপে অবস্থান করছে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনে একটাই প্রশ্ন- সারা দেশে সময়সূচি কমেছে, অথচ ঢাকা শহরে যেখানে কিন্ডারগার্টেন, বেসরকারি-সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখা রয়েছে, সেখানে সময়সূচি কমানোর বিষয়টি ফাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ কেন?

অনতিবিলম্বে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা দরকার। ঢাকা শহরের প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে কিন্ডারগার্টেন, সরকারি, বেসরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখার সময়সূচির সামঞ্জস্য রাখার গুরুত্ব অপরিসীম। সকাল ৭.৩০টা থেকে দুপুর ১.৩০টার মধ্যে সময়সূচি নির্ধারণ করা বাঞ্ছনীয়।

ঢাকার বাইরের বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ঢাকার বিদ্যালয়ের সময়সূচি অভিন্ন রেখে এ ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা জরুরি। প্রতি পিরিয়ডের মাঝে ১০ মিনিট বিরতি না দিয়ে ২/৩ পিরিয়ড পর শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম যেমন- খেলাধুলা, নাচ, বিতর্ক, গান, আবৃত্তি, গল্প বলা, কোরআন প্রতিযোগিতাসহ নানা ধরনের কার্যক্রম চালু করা হোক।

এতে শিশুরা বিদ্যালয়ের প্রতি অধিকতর আকৃষ্ট হবে। ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। বিদ্যালয় হয়ে উঠবে শিশুর বিনোদনের আবাস।

বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে সব শিশুর জন্য অভিন্ন বই, কর্মঘণ্টা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি অতি জরুরি। সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সব শিশুর জন্য ১ম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত অভিন্ন মূল্যায়ন ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেছে।

কার্যকর আদর্শ মূল্যায়ন ব্যবস্থা যন্ত্রণামূলক পরীক্ষাব্যবস্থার মৃত্যু ঘটাবে। মন্ত্রণালয়কে অভিন্ন মূল্যায়ন ব্যবস্থার জন্য ধন্যবাদ। শিশু শিক্ষায় বৈষম্য দূর হলে প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণের মহান নেতা জাতির জনকের আত্মা শান্তি পাবে। ঢাকাসহ সারা দেশে সময়সূচি অভিন্ন হোক। এটিই মুজিববর্ষের প্রত্যাশা।

মো. সিদ্দিকুর রহমান : সভাপতি, বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ

[email protected]

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর