সোমবার ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০:২২ এএম


প্রাথমিকের পরীক্ষা নেবে মাধ্যমিকের শিক্ষকরা: কতটা বাস্তবসম্মত?

আফতাব তাজ

প্রকাশিত: ১০:০১, ৭ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৩:১১, ৭ নভেম্বর ২০১৯

বেতন বৈষম্য নিরসনে পূর্বঘোষিত ১৩ নভেম্বরের পর আন্দোলনের বিষয়ে এখনো অনড় রয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। ১৩ নভেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে প্রাথমিক সমাপনী ও বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করবেন তারা। প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ি ২০১৯ সালের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২৪ নভেম্বর শেষ হবে।

এদিকে আন্দোলনরত প্রাথমিক শিক্ষকরা সমাপনী পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণে অস্বীকার করলে এ পরীক্ষা নিবেন মাধ্যমিকের শিক্ষকরা। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) অধিদপ্তর থেকে সব জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত কতটা বাস্তসম্মত এনিয়ে প্রশ্নদেখা দিয়েছে মাধ্যমিক, প্রাথমিক উভয় পর্যায়ের শিক্ষকদের মধ্যে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মাধ্যমিক শিক্ষক নেতা এডুকেশন বাংলাকে বলেন, শুনেছি একটা চিঠি ইস্যু হয়েছে। আমরা সরকারের অধীনস্ত কর্মচারি। সরকারের সিদ্ধান্ত মানতেই হবে। তবে আপনি জানেন যে বাংলাদেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রাথমিক সেক্টরটি বিশাল একটি ক্ষেত্র। শুধু প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় প্রতি বছর প্রায় ৩১ থেকে ৩৩ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এই পরীক্ষা নেয়ার জন্য কোনো বোর্ড নেই । স্থানীয় প্রশাসনের অধীনেই প্রাথমিক শিক্ষকদের মাধ্যমে নেয়া হয়। এত বড় একটি পাবলিক পরীক্ষা মাধ্যমিক এবং মাদ্রাসাশিক্ষক দ্বারা নেওয়াটা বড় ধরণের একটা চ্যালেঞ্জই বলা যায়। তারপর শুধুতো পরীক্ষা নেওয়ার বিষয় নয়, এখানে খাতা মূল্যায়নেরও একটা বিষয় আছে। কারণ প্রাথমিক শিক্ষকরা যদি পরীক্ষা না নেয় খাতা মূল্যায়নও তারা করবেনা । তাহলে মাধ্যমিক শিক্ষকদেরই খাতাও মূল্যায়নও করতে হবে। আর প্রাথমিকের খাতা মূল্যায়ন হয় সম্পূর্ণ আলাদা পদ্ধতিতে। এর সাথে মাধ্যমিক শিক্ষকরা পরিচিত নয়। এছাড়া শিশু শিক্ষার্থীদের আগলে রেখে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো এবং পরীক্ষার পর সুষ্ঠুও সুশৃংখলভাবে তাকে অভিভাবকের হাতে তুলে দেওয়ারও একটা ব্যাপার আছে। তিনি আরও বলেন, এদিকে মাধ্যমিকে জেএসসি, জেডিসি পরীক্ষা চলমান পাশাপাশি খাতা মূল্যায়নের কাজও চলছে। এসবের পাশাপাশি আবার প্রাথমিক পরীক্ষা নেওয়াটা মাধ্যমিক শিক্ষকদের জন্য সত্যিই কঠিন। তিনি জানান, নভেম্বরের শেষের দিকে মাধ্যমিকেরও বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। বছরের শেষের দিকে সব শিক্ষকরাই নিজ নিজ বিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত থাকে এর মধ্যে আরকটি বিভাগের দায়িত্ব পালন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

এব্যাপারে বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক মহাজোটের সদস্য মো. এনামূল হক এডুকেশন বাংলাকে জানান, `সরকার যদি মাধ্যমিক শিক্ষক দ্বারা প্রাথমিক সমাপনী কিংবা বার্ষিক পরীক্ষা নিতে পারে নিক। আমাদের কোনো আপত্তি নাই। আমাদের দাবিগুলোর ব্যাপারে এখনো কোনো সুষ্ঠু সমাধান বা আশ্বাস পাইনি। সচিব মহোদয়ের সাথে আজ একটি সভা হওয়ার কথা। আজকের পরই আমাদের পরবর্তি কর্মসূচি বা পদক্ষেপের কথা বলতে পারবো। আমাদের বেতন বৈষম্যের সমাধানের বিষয়টিতো সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেই ছিলো। নির্বাচনের পূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ভয়েসকলেও এটি শুনিয়েছেন। তাহলে এখন কেন গ্রেড বৈষম্য নিয়ে আমাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে যোগ এই মহাজোটের নেতা।

মহাজোটের আরেক সদস্য সাজ্জাদুর রহমান খোশনবীস এডুকেশন বাংলাকে বলেন, আমরা জানি সমাপনী পরীক্ষা কিভাবে নিতে হয়। খাতা কিভাবে মূল্যায়ন করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই মহাকর্মযজ্ঞের সাথে সরাসরি জড়িত। আমরা এ ব্যপারে দক্ষ এবং অভিজ্ঞ। তিনি আরও বলেন, আমরা একমাসের মধ্যেই সমাপনীর পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করে রেজাল্ট শিট তৈরি করে ফল প্রকাশ করি।মাধ্যমিকের শিক্ষকদের সম্মান রেখেই বলছি তারা প্রাথমিক পর্যায়ের পরীক্ষারগুলো সম্পর্কে অভিজ্ঞ নয়। তারা তাদের ক্ষেত্রে দক্ষ। অতএব, আমরা মনে করি সরকার সমাপনী ও বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের সহকারি শিক্ষকদের ১১তমগ্রেডের দাবির বিষয়টি দ্রুত সমাধানে তৎপর হবেন।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর