সোমবার ২৫ মে, ২০২০ ১৯:৩৬ পিএম


প্রাথমিকের টিভিতে পাঠদান: ভুল বানান আর ক্রটিপূর্ণ উপস্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭:০৪, ৮ এপ্রিল ২০২০  

মাধ্যমিকের পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা অব্যাহত রাখতে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদান গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। দুপুর ২টায় দুুই ঘণ্টার জন্য লেকচার সম্প্রচার করা হয়। এভাবে প্রাক-প্রাথমিক বা শিশুশ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক পাঠদান করা হবে। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে ঘরবন্দি হয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক মোহাম্মদ ফসিউল্লাহ বলেন, আমরা এই লেখাপড়া কর্মসূচির নাম দিয়েছি ‘ঘরে বসে শিখি’। দুই ঘণ্টায় ছয়টি শ্রেণির মোট ছয়টি পাঠদান করা হবে। প্রতিটির সময়সীমা ২০ মিনিট। তিনি বলেন, টিভিতে এই পাঠদান কার্যক্রম স্থায়ী করার চিন্তা করছেন তারা। এ লক্ষ্যে এটুআই প্রকল্পের সঙ্গে তারা কাজ করছেন। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিকভাবে গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের ওপর পাঠদান করা হবে। শিশু থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্তও ইংরেজি ও গণিতের পাঠদান করা হচ্ছে। দৈনিক প্রতিটি শ্রেণির একটি করে পাঠদান থাকবে। তিনি আরো জানান, প্রতিটি লেকচার পরবর্তী সময়ে অনলাইনে দেয়া হবে। এছাড়া ইউটিউবে থাকবে।

তবে ‘ঘরে বসে শিখি’ শিরোনামে এই পাঠদান কার্যক্রমে অজস্র ভুল বানান, উচ্চারণগত ত্রুটিসহ শিক্ষকদের দুর্বল উপস্থাপনা দেখা গেছে।

গতকাল দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়ে পাঠদান শেষ হয়েছে বিকাল চারটায়। প্রতি ক্লাসে নির্ধারিত সময় ছিল ২০ মিনিট করে। কিন্তু পাঠদানে আসা শিক্ষকদের উচ্চারণগত ত্রুটি দেখা যায়। এছাড়া পাশাপাশি টিভি স্ক্রিনে দেখানো বাক্যগুলোর বিভিন্ন শব্দের ভুল বানানও লক্ষ্য করা গেছে।

তৃতীয় শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদানের সময় টেলিভিশনের পর্দায় ভেসে ওঠা ‘বৈশিষ্ট্য’ বানানটির য-ফলা ছিল না। প্রতিবার একই ভুল বানান পর্দায় ভেসে উঠেছে। এমনকি বাড়ির কাজও দেয়া হয়েছে সেই ভুল বানানে। এদিকে দেখা গেছে, প্রায় প্রত্যেক শিক্ষকই ক্লাস নেওয়ার সময় টিভির পর্দার মাঝখানে চলে এসেছেন। ফলে ঢাকা পড়ে গেছে পর্দার লেখাগুলো।

এছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজির পাঠে সংখ্যার ধারণা দিতে গিয়ে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ইউটিউব ভিত্তিক রাইম (ছড়া) ‘ওয়ান লিটল মাংকি জাম্পিং অন দ্য বেড’ আবৃত্তি করেন। প্রতিটি ক্লাসের সময়সীমা ছিল ২০ মিনিট। এর মধ্যে একটি বানানের ধারণা দিতে গিয়েই ২ মিনিট পার করা হয়। এসব কারণে শিশুরা এই পাঠে আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে। একইভাবে তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম শ্রেণির পাঠও শিশুদের জন্য আনন্দদায়ক হয়নি।

প্রশিক্ষণ না পাওয়া শিক্ষকেরা এভাবে পাঠদান করতে নিয়ে নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের গাফলতি ছিল বলে অভিযোগ এসেছে।

অন্যদিকে একটি বেসরকারি শিক্ষা ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে এই পাঠদানের রেকর্ডিং করার নিয়েও সমালোচনা চলছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ক্লাসগুলো বিতর্কিত এই প্রতিষ্ঠান থেকে রেকর্ড করা শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আসতে থাকত। মাউশির পরিচালক প্রবীর কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ঐ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আমার কাছে একাধিক ফোন এসেছে। তিনি জানান, শুরুতে ঐ প্রতিষ্ঠানটি থেকে রেকর্ডিং করা হলেও এখন সেটা বাদ দিয়ে রেসিডেনসিয়াল কলেজ বেছে নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিপ্তরের মহাপরিচালক ফসিউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছেন, ভুল বানানের বিষয়টি আমাদেরও চোখে পড়েছে। আর আর উচ্চারণগত সমস্যাগুলো আমরা দেখছি। যেহেতু পরীক্ষামূলক সম্প্রচার হচ্ছে, আগামীতে এই ত্রুটিগুলো সংশোধনের চেষ্টা করব।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর