বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ১১:৫৫ এএম


প্রাথমিকেও থাকবে সহকারী প্রধান শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৪৫, ৩ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৬:৩২, ৪ নভেম্বর ২০১৯

দেশের প্রত্যেক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একজন করে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তারপর দেশের ৬৬ হাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তা বাস্তবায়ন হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ও সরকারি কাজের কারণে সরকারী প্রাইমারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা ক্লাস নিতে পারেন না। এমনকি এই সুযোগে প্রায় সময় প্রধান শিক্ষকরা স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন। শুধু তাই নয়, বেশির ভাগ শিক্ষকই এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ‘ফাঁকিবাজি’ করে থাকেন। তবে বিদ্যমান এমন পরিস্থিতি নিরসনের জন্য সরকার সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এছাড়া দুটি নিয়োগ বিধিমালা সমন্বয় করে শিক্ষক এবং সহকারী থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের (এটিইও) গ্রেড উন্নীত করার চিন্তা চলছে। এতে শিক্ষকদের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) পরিচালক পর্যন্ত পদসোপান করার চিন্তাও আছে। বিষয়টি বাস্তবায়ন হলে প্রধান শিক্ষকরা দশম আর এটিইওরা নবম গ্রেড পাবেন। অন্য শিক্ষক এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও বেতন গ্রেডে পরিবর্তন হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেছে। এখন দ্রুততার সঙ্গে পদ সৃষ্টিসংক্রান্ত অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ করার কাজ চলছে। এ পদ অনুমোদন পেলে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, দশম ও একাদশ গ্রেডের জন্য শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন। এটি পূরণ করতে বিদ্যমান বিধিমালার সংশোধন দরকার। সেটি সময়সাপেক্ষ। তাই এখন আপাতত সমাধানের একটি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সেটি হচ্ছে, সবাইকে একই গ্রেডে নিয়ে আসা। পরে নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করে গ্রেড উন্নীত করা হবে শিক্ষক-এটিইওদের। বিধিমালা তৈরি হয়ে গেলে তাদের পদসোপান করা হবে। তখন গ্রেডের কোনো সমস্যা থাকবে না। বরং সহকারী শিক্ষকরাও যোগ্যতা সাপেক্ষে পরিচালক পর্যন্ত হতে পারবেন। তাই তাদের এজন্য একটু সময় দিতে হবে।

তবে এই পদের উল্লিখিত পদটি সহকারী শিক্ষকরা চান না বলে দাবি করেছেন গ্রেড পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনরত বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক শামসুদ্দীন মাসুদ বলেন, আমরা তো ওই পদ চাই না। কেননা, ওই পদ সৃষ্টি করা হলে আমাদের গ্রেড উন্নীত হবে না। পদ সৃষ্টি করা হলে ৬৬ হাজার শিক্ষক উপকৃত হবেন, বাকি প্রায় সোয়া ২ লাখ বঞ্চিত হবেন।

তিনি বলেন, তবে সহকারী প্রধান শিক্ষকদের আলাদা গ্রেড না দিয়ে সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে একই গ্রেড দেয়া হয় তাহলে আমরা মানব। বড় জোর সহকারী প্রধান শিক্ষকদের একটি করে ইনক্রিমেন্ট দেয়া যেতে পারে।

তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের প্রধান মুখপাত্র বদরুল আলম বলেন, প্রধান শিক্ষকদের সরকারি নানা কাজে প্রায়ই বিদ্যালয়ের বাইরে থাকতে হয়। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় ত্যাগ করলে অনেকেই দাফতরিক কাজ ছেড়ে গল্পগুজব করেন। শিক্ষার স্বার্থে এ পদ জরুরি। তবে শিক্ষকদের গ্রেড পরিবর্তন সংক্রান্ত দাবি বিবেচনায় রেখেই পদটি সৃষ্টি করতে হবে।

এডুকেশন/ কেআর

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর