শনিবার ২৪ আগস্ট, ২০১৯ ২০:২২ পিএম


প্রসঙ্গ: অবসর ও কল্যানে অতিরিক্ত ৪% কর্তন

বিশ্বজিৎ রায়

প্রকাশিত: ১০:২৬, ২৬ এপ্রিল ২০১৯  

বিশ্বকবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর তার দুই বিঘাজমি কবিতায় লিখেছেন " রাজার হস্ত করে সমস্ত কাংগালের ধন চুরি"। আজ দেশর সবচেয়ে বড় পেশাজীবী সংগঠন বিমর্ষিত, হতচকিত ও হতাশাগ্রস্থ । একি হচ্ছে এক এক সময়ে এক এক ধরণের বার্তা। ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ বিভিন্ন অন লাইন পত্রিকায় প্রকাশিত নিউজ থেকে জানা গিয়ছিল যে সচিব মহোদয় জানিয়েছেন যে `বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণের কর্তন বাড়ছেনা`, আগের মত ৬ শতাংশই থাকছে। তিনি আরও বলেছিলেন শিক্ষদের সাথে আলোচনা ছাড়া চাদার হার বাড়ানো হবেনা"। সচিব মহোদয়ের এমন বক্তব্যের পর শিক্ষক সমাজ আশা নিয়ে বসেছিলো। নির্বাচনের আগেও আরও একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিল। সচিব জানিয়েছিলেন যে প্রজ্ঞাপনটি ভুলক্রমে ওয়েব পেজে এসেছে প্রজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

কিন্তু আজ তারা হাতাশাগস্হ। ১৫ এপ্রিল২০১৯ এর প্রজ্ঞাপন তাদের আবারও ভাবিয়ে তুলেছে।সারাদেশে শিক্ষক শিক্ষকসমাজ প্রতিবাদ মুখর হয়েছে। একই দেশে একই যোগ্যতায়,একই ছাতার তলে একই সিলেবাস পড়িয়ে বেসরকারিদের অবসরের পরে কিছু অার্থিক সুযোগ প্রদান করার জন্য তাদের বেতন থেকে কেটে ফান্ড গঠন করতে হচ্ছে কিন্ত যতদূর জানা যায় সরকারিদের এরকম বিধি বিধান পালন করতে হয়না। ।

গত ১৮ এপ্রিল ২০১৯ খ্রি বরিশালে অতিরিক্ত ৪% এর প্রতিবাদে বরিশাল শিক্ষক সমাজকর্ম মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে। অনুষ্ঠানের সভাপতি সহ অন্যান্য বক্তারা অতিরিক্ত ৪% কর্তনের তীব্র প্রতিবাদ জানান। সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম- আহবায়ক মো রেজাউল করিম সাহেব বলেন যে " বেসরকারি শিক্ষৃকরা মানবেতর জীবন যাপন করেন। এ অবস্থায় তাদের বেতন থেকে ৪% অতিরিক্ত কর্তন মানে তাদের জীবন যাত্রার উপর বাড়তি চাপ। এ অবস্থায় অতিরিক্ত ৪% কর্তন প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করতে হবে ""। ভোলা ও নরসিংদী জেলার শিক্ষক কর্মচারীরা অতিরিক্ত ৪% কর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। সভায় বক্তারা এ প্রজ্ঞাপন বাতিল করার আহবান জানান। এর আগে ২৬ এপ্রিল ২০১৮ তৎকালীন ডিজি মহোদয় মো মহাবুবুর সাহেব ঢাকা শহরের খ্যতনামা স্কুল ও কলেজে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়ে ৪% কর্তনের বিষয়ে একটি মিটিং করেছিলেন। উক্ত মিটিং এ প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ মহোদয়গন সাফ জানিয়েদেন" মরার পর টাকা দিয়ে কী করবে। তারা আরও বলেন সরকারি তরফ থেকে ফান্ড বানানো হোক "। বিটিএ এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো: কাওছার আলী স্যার বলেছে " প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশে এটি বন্ধ হবে। অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি মো; মজাহারুল সাহেব স্যার বলেছেন " সময় এসেছে পরিবর্তনের।তাই অবসর ও কল্যান বাদ দিয়ে পেনসনের ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া পাওনাদী পরিশোধের জন্য ২৫০ কোটি টাকা ছাড়ে সম্মতি দিয়েছেন। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু হচ্ছে, যে সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয় মিলেছে , অর্থনীতিতে যে দেশ বিশ্বে বিষ্ময,মাথা পিছু আয় বাড়ছে, সে দেশে একটা ও ফান্ড বাড়াতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর অনেক অবদান। তিনি শিক্ষকদের বর্ষিক প্রবৃদ্ধি ৫% দিয়েছেন। বৈশাখি ভাতা দিয়েছেন। শত শত স্কুলকে জাতীয়করণ করলেন। আমরা শিক্ষক সমাজ বিশ্বাস করি বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি গোচরে আনতে পারলে , বিষয়টির সুষ্ট সমাধান হবে।

লেখকঃ শিক্ষক, বিশ্বজিৎ রায়
মৃজাপর মাধ্যমিক বিদ্যালয়
তালা, সাতক্ষীরা।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর