শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ৪:২০ এএম


প্রসঙ্গ:পিটিআইগুলোতে সুন্দরী রমনীকে ফেল নম্বরের ভয়

জাকির হোসেন

প্রকাশিত: ১১:১৪, ১২ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১১:২২, ১২ মার্চ ২০২০

বুঝতে পারছিনা কাকে বেয়াদব বলব!

বিশ্বের অন্যান্য দেশে আছে কিনা জানিনা, তবে আমার দেশ তথা বাংলাদেশে নারী স্বাধীনতার নামে যা চলছে তা আদৌ সজ্ঞায়িত করা যায় কিনা তা আপনাদেরই ভাবনার দায়িত্ব দিলাম।

আপনিও জানেন আমিও জানি, কিছু শিক্ষক আছে যারা কিনা অফিসার তোয়াজ করতেই পছন্দ করেন। শুধু যে পছন্দই করেন তা কিন্ত নয়,নিজেকে একটু আলাদা মাপেরও ভাবেন। ঠিক তেমনি কিছু সুন্দরী মহিলা শিক্ষিকা যে নাই, তা ভাবব না কেন?

আমি না হয় সুন্দরী মহিলা না হয়ে, হয়েছি কারো চোখে প্রতিবাদী যুবক,কারো চোখে বেয়াদব,কারো কাছে শ্রদ্ধার জন,কারো কাছে ঘৃন্য ব্যক্তিত্ব। তা যা-ই হই না কেন, ১৮ বছর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা শেষে দুষ্প্রাপ্য, সোনার হরিণ নামক চাকুরী নিয়ে
সি-ইন-এড, নামক শর্ত সাপেক্ষে সার্টিফিকেট অর্জন করতে গিয়ে ধমক যে খাইনি, তা কেন বিশ্বাস করবেন?

মাটির মানুষ খ্যাত প্রদিপ কুমার স্যারেরও ধমক খেতে হয়েছিল। অপরাধ যতোটুকু ছিল তার চেয়ে ধমকটা ঢের বেশি।

তাজা রক্তে গর্জে উঠে বলেছিলাম, স্যার মেজাজ দেখাচ্ছেন কেন?
আপনি বড়জোর ফাস্টক্লাস নাম্বার না হয় দিবেন না। দিয়েন না,আমি তো স্কেল বাড়াতে এসেছি। ফেল করে দিবেন, দেন না? আমাকে না হয় আর এক বছর খাটিয়ে নিবেন?

তাতে কি আপনিও পার পাবেন?
স্যার,
আমরা শিক্ষক হয়ে এসেছি আপনার কাছে কৌশল শিখতে,ছাত্র ভেবে ধমক দিচ্ছেন কেন?

ঠিক তেমনি করে দেশের পিটিআইগুলোতে সুন্দরী রমনীকে ফেল নম্বরের ভয়,আর সর্বোচ্চ নম্বরের লোভনীয় টোপ ও ইন্সট্রাক্টরদের সান্নিধ্যে পেয়ে
পি,টি,আই-এ তিনি ভেবেছেন আমি কতো গুরুত্বপূর্ণ একজন!
এমন জন দু-একটি নয়,শত শত পাওয়া যাবে।
এমন সত্য কে অস্বীকার করবেন?

সেই ৭ বছর থেকে বাবা-মা এর অর্থ খরচ করে, যুবকে বন্ধুর সংস্পর্শে এসে স্বামী খোঁজার নামে বাবা-মার বিশ্বাসকে পুঁজি করে স্বাধীন দেশে স্বাধীন ভাবে প্রেমে যশ করেছেন,অতঃপর সোনার হরিণ নামক হরিণী হয়ে শুধু পাশ আর সর্বোচ্চ নম্বরের আশা করে, নিজেকে সর্বোচ্চ কিছু ভাবা,অথবা হ্যান্ডসাম ১ম শ্রেণির ইনস্ট্রাক্টরকে নিজের বন্ধু, বয়ফ্রেন্ড ভাবা ইত্যাদিকে যারা লালন করেছে তারাই বা কেন বেয়াদব নয়?

যারা দিনরাত অধ্যাবসায় করে কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরুল,চরম প্রতিযোগিতা করে চাকুরী নিল,তারা সামান্য কিছুর ব্লাকমেইলের ভয়ে নিজে আখের গোছানো সম্ভ্রম হারাবে, তা-ও কি বিশ্বাস করতে হবে?

এখানে আমার একটু ভিন্ন মত। এরা বেয়াদব, এরা নিজেকে স্বাধীনতা মানাতে,স্বামীকে ঠকিয়েছে,সমাজকে ধোঁকা দিয়েছে,বাবা-মা কে সমাজে মাথা নীচু করিয়েছে।
এদেরকেও ভৎসনা করতে হবে।

হে আমার তরতাজা যুবক নবীন শিক্ষক ভাই ও বোনেরা,
প্রতিবাদ করতে শিখুন, যেমন আজকে জেগে উঠেছে পটিয়ার যুবক শিক্ষকেরা। শুধু পটিয়া কেন, প্রতিটি PTI এ এমন জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। ওদেরকে বুঝিয়ে দিতে হবে শিক্ষকেরা কারো অবৈধ ক্ষমতার বলি নয়।
ক্ষমতার দাপটকে হজম করা শিক্ষকের কাজ নয়,বরং এমন বেয়াদব ইন্সট্রাক্টরকে বিচারের আওতায় আনতে আপনার বিশ্বস্তকে জানিয়ে দিন। জয় হবেই শিক্ষকের,

মাননীয় মন্ত্রী,সচিব ও ডিজি মহোদয়,
অপরাধ, অবৈধ ক্ষমতার দাপট কখনো চাপা থাকে না,আজো থাকেনি। তাই অভিযুক্ত পটিয়া PTI এর চার ইন্সট্রাক্টর এর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সরজমিনে যতদ্রুত সম্ভব তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনা হোক।শুধু ক্লোজ ও বদলিই এটির সমাধান নয়।কেননা ইন্সট্রাক্টরদের নির্যাতনের তরুণ শিক্ষকেরা মাথা তুলে প্রতিবাদ করতে শিখেছে।বাংলাদেশের শিক্ষক সংগঠন

চুপচাপ বসে বসে থাকবে না।প্রয়োজনে আন্দোলনের রুপ নিয়ে মাঠে নামবে।
অতএব মহোদয়, অভিযুক্তদের তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি।
অনুরোধ ক্রমে


লেখক: শিক্ষক নেতা, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর