শুক্রবার ১৯ জুলাই, ২০১৯ ১৮:১১ পিএম


প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষকদের নৈতিকতা

মো. আখতার হোসেন আজাদ

প্রকাশিত: ১১:২০, ৮ জুলাই ২০১৯  

শিক্ষকরা সুশিক্ষা, নৈতিকতা, সততা ও নিষ্ঠার শিক্ষা দিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে আদর্শ মানুষরূপে গড়ে তুলবেন, এটিই জাতির প্রত্যাশা। কিন্তু আজ শিক্ষকসমাজের চরিত্রেই যেন ঘুণ ধরেছে। একজন আদর্শবান শিক্ষক একটি সমাজকে আলোকিত করতে পারেন, আবার একজন চরিত্রহীন শিক্ষক একটি সমাজকে ধ্বংসও করে দিতে পারেন। আজ শিক্ষকদের নৈতিক চরিত্রের অধঃপতন নিয়ে লিখতে হচ্ছে বলে চরম লজ্জাবোধ করছি।
প্রতীকী ছবি
শিক্ষকরা সুশিক্ষা, নৈতিকতা, সততা ও নিষ্ঠার শিক্ষা দিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে আদর্শ মানুষরূপে গড়ে তুলবেন, এটিই জাতির প্রত্যাশা। কিন্তু আজ শিক্ষকসমাজের চরিত্রেই যেন ঘুণ ধরেছে। একজন আদর্শবান শিক্ষক একটি সমাজকে আলোকিত করতে পারেন, আবার একজন চরিত্রহীন শিক্ষক একটি সমাজকে ধ্বংসও করে দিতে পারেন। আজ শিক্ষকদের নৈতিক চরিত্রের অধঃপতন নিয়ে লিখতে হচ্ছে বলে চরম লজ্জাবোধ করছি।

শিক্ষকরা সমাজের আদর্শ ও অনুসরণীয় ব্যক্তি। সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যখন ঘুষ নেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, যখন নিজ কিংবা অন্য বিভাগের কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে আপত্তিকর ফোনালাপ কিংবা ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, তখন ওই শিক্ষকের কর্মকাণ্ড কেবল সেই বিভাগ বা বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কিত করে না, বরং তা পুরো শিক্ষকসমাজকে কলুষিত করে।

সম্প্রতি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষকের সঙ্গে বিবাহিত এক ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি প্রকাশ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া নিয়োগ বাণিজ্যে কিছু শিক্ষকের জড়িত থাকা এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বিভাগের শিক্ষকের সঙ্গে ছাত্রীর আপত্তিকর ফোনালাপ প্রকাশ হওয়ায় হতবাক হয়েছে সারা দেশের মানুষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন কার না থাকে! কিন্তু সেই স্বপ্নের চূড়ায় পৌঁছাতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় জ্ঞানপাপী কতিপয় শিক্ষক। অর্থের কাছে নৈতিকতা ও আত্মমর্যাদা বিক্রি করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে যখন কেউ ১৮-২০ লাখ টাকায় কাউকে শিক্ষক বানানোর মতো ঘৃণিত কাজ করেন, তখন তিনি শুধু একটি অপরাধই করেন না, একজন মেধাবী ও যোগ্যতম প্রার্থীকে বঞ্চিতও করেন।

রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থ বিনিময়, পারিবারিক সম্পর্কই যেন এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার মাপকাঠি! অর্থই যদি প্রধান হয়, তবে এত কষ্ট করে পড়ালেখা করার কী প্রয়োজন!

বর্তমান সময়ে শিক্ষকদের চরিত্র নিয়ে মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করতেও দেখা যায়! মাদ্রাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যৌন হয়রানি আজ যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েকে পড়তে পাঠিয়ে তাদের অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন থাকেন।

অভিভাবকরা তাদের কন্যাসন্তানকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাতে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছেন। ফলে দেশে নারী শিক্ষায় যেভাবে অগ্রগতি ঘটছিল, তাতে ভাটা পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব অপরাধের জন্য তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কখনও সেই তদন্ত কমিটি আলোর মুখ দেখে, কখনোবা দেখে না।

আবার কখনও বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ও প্রশাসনের দ্বারা শাস্তি নিশ্চিত হলেও উচ্চ আদালতে রিট করে অভিযুক্তরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যান। শুধু তাই নয়, বন্ধ হওয়া ইনক্রিমেন্ট, বেতন-ভাতাদি, প্রমোশন সবই পান সুদে-আসলে।

ভিন্নমতের রাজনীতি চর্চা করার অধিকার যে কোনো শিক্ষার্থীরই আছে, যদি সে দেশ বা সমাজবিরোধী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না থাকে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় হল উন্মুক্ত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। কিন্তু শিক্ষার্থী শিক্ষকের বিরোধী মতের রাজনীতি চর্চা করে বলে তাকে কোর্সে কম নম্বর দেয়া, এমনকি ফেল করিয়ে দেয়ার মতো অভিযোগও পত্রিকার পাতায় আমাদের দেখতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সামনে ধূমপান করা কতিপয় শিক্ষকের কাছে যেন স্বাভাবিক বিষয়। সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের মুখের ওপর সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে সংকোচ হয় না অনেকের।

একসময় শিক্ষকতা ছিল সমাজের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পেশা। সে মর্যাদায় এখন যেন পচন ধরেছে এবং তা শুধু কতিপয় শিক্ষকের জন্য। আমাদের সমাজে এখনও অনেক সৎ ও নিষ্ঠাবান শিক্ষক রয়েছেন। কতিপয় শিক্ষকের কুকর্মে তারা প্রতিনিয়ত অপমানবোধ করেন। এখনই সময় সতর্ক হওয়ার।

যারা শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে কলুষিত করছে, তাদের সাময়িক নয়, আজীবন বহিষ্কার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সরকারের সুদৃষ্টি প্রয়োজন।

মো. আখতার হোসেন আজাদ : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া


এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর