শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২০ ৭:১৮ এএম


প্রথম পুরস্কার পেলেন কালের কণ্ঠের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সুমন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:১০, ১৬ অক্টোবর ২০২০  

শিক্ষা সাংবাদিকদের সংগঠন ‘এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব)’ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২০ পেলেন কালের কণ্ঠের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকসহ তিনজন। শিক্ষা সাংবাদিকদের জন্য প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পান কালের কণ্ঠের প্রতিবেদক শরীফুল আলম সুমন। তিনি গত বছরের মে মাসে প্রকাশিত ‘লাগামহীন শিক্ষা ব্যয়’ শীর্ষক পাঁচ পর্বের সিরিজ রিপোর্টের জন্য এই পুরস্কার পান। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার পান যথাক্রমে ডেইলি সানের প্রতিবেদক সোলাইমান সালমান ও বণিক বার্তার প্রতিবেদক সাইফ সুজন।

আজ বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড ও সংগঠনের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় ৩০ হাজার ও তৃতীয় ২০ হাজার টাকার চেক এবং ক্রেস্ট দেওয়া হয়। সেরা রিপোর্ট নির্বাচনের জুরি বোর্ডে ছিলেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক আশীষ সৈকত, প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক শরিফুজ্জামান পিন্টু ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ইব্রাহীম বিন হারুন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম আল হোসেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক, যুগান্তর সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম।

দুই পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানের অ্যাওয়ার্ড প্রদান পর্ব সঞ্চালনা করেন বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক ও সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী সভাপতি মুসতাক আহমেদ। অভিষেক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নবনির্বাচিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল আলম সুমন ও সভাপতিত্ব করেন ২০২০-২১ কমিটির নতুন সভাপতি সাব্বির নেওয়াজ।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জিপিএ-৫ নিয়ে উন্মাদনা শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের উপরে যে সামাজিক-পারিবারিক চাপ তৈরি করে সেটি শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক স্বাস্থ্যের জন্যও সুখকর নয়। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতি যেন অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে সেজন্য মনোযোগ দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর কোনো সরকারই সেভাবে শিক্ষায় গুরুত্ব দেননি। গত কয়েক বছরে শিক্ষার যে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে তা তারই কন্যার কারণে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রাথমিকের বিষয়ে কোনো ফাইন এক দিনের বেশি আটকে রাখেননি। আমরা যা চেয়েছি তিনি দিয়েছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, আমরা বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষায় বড় ধরণের বিপন্ন সাধিত হয়েছে। সামনে ৩৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করতে যাচ্ছি। আমরা গুণগত শিক্ষা দিতে পারবো।

কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব আমিনুল ইসলাম খান বলেন, সাধারণ শিক্ষার মধ্যেও আমরা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা নিয়ে আসতে চাই। আমরা দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি করতে চাই। যাতে সবাই কর্মমুখী হবে। সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষার অগ্রগতির ক্ষেত্রে দুই পক্ষের বোঝাপড়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে শিক্ষা বিটের সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, পুরস্কৃত করার মধ্য দিয়ে কাজের স্বীকৃতি এবং আরও ভালো কাজের অনুপ্রেরণা জোগাবে। পেশাদারিত্বের প্রতি অবিচল থেকে কাজ করবেন। তাহলেই সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য পূরণ হবে।

অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ড, এনসিটিবি, ইউজিসিসহ শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর