বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই, ২০১৯ ২১:৫০ পিএম


প্রতিমন্ত্রী, সচিব, ডিজি আন্তরিক মানেই ১১ তম গ্রেড চূড়ান্ত নয়

মো. সামছুদ্দিন মাসুদ

প্রকাশিত: ১০:৫৪, ১০ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১০:৫৫, ১০ জুলাই ২০১৯

২০১৭ সালে আমরা যখন আমরণ অনশনের ডাক দিই তখন ওনারাই জাত গেল জাত গেল রব তুলেছিলেন। তবে শহিদ মিনারে সবার আগে ছবি পোস্ট দিতেন।(ওনাদের ঐ সময়ের পোস্টগুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন)

২০১৮ সালে আমরা যখন সহকারী শিক্ষকদের দাবি নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করালাম,তখনও ওনারা এর বিরুদ্ধাচরণ করলেন। ওনাদের অভিযোগ ছিল, নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে দাবি ৫ বছর পিছিয়ে গেল।

নির্বাচনী ইশতেহারে দাবি অন্তর্ভুক্ত করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়কে সংবাদ সম্মেলন করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি তখনও ওনারাই এটাকে মহাপাপের পর্যায়ে ফেললেন। পারলে তখন আমাদেরকে শূলে চড়ান।

২০১৯ সালে যখন আমরা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিলাম তখনও ওনারাই বিরুদ্ধাচরণ শুরু করলেন।

অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ১৩ মে মাননীয় সচিব মহোদয় ও ডিজি মহোদয়ের সাথে ৫ ঘন্টাব্যাপী আলোচনার পর কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করলে তখনও ওনাদের অনেকের গা জ্বলা শুরু হয়েছিল।

একই ঘটনা ঘটল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে ১১ তম গ্রেডের রুল জারির পর। আবার গেল গেল রব শুরু হয়ে গেল।

তবে ধন্যবাদ এই অংশকে বেশি করে জানাতে হয় এই জন্য যে, ওনাদের সমালোচনা, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মধ্যেই আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি।

১৩ই মে`র আলোচনার পর বেতন গ্রেডের কাজ শুরু হয়েছে। কাজ চলমান তাও ঠিক। কিন্তু আমরা ১১ তম গ্রেড পাবো কিনা তা ততক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিত নয় যতক্ষণ পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাশ হয়ে না আসে।

আমাদের ১১ তম গ্রেডের বিষয়ে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়, সচিব মহোদয় ও ডিজি মহোদয় অবশ্যই আন্তরিক। কিন্তু আন্তরিকতা মানেই ১১ তম গ্রেড চূড়ান্ত নয়। আমাদের সাথে আলোচনার একপর্যায়ে সচিব মহোদয় প্রধান শিক্ষকদের ১০ গ্রেডের আদালতের রায়ের বিষয় উল্লেখ করে বলেন, আপনারাও আদালতের রায় নিয়ে আসতেন। তাহলে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলতে পারতাম।

বাস্তবতা হলো, রীটের কারণে দাবি আদায় বিলম্বিত হওয়ার কোন সুযোগ নাই। আর কেউ রীট করে ৬ বছরেও শুনানি করাতে পারছেন না আবার কেউ ৬ মাসেও রায় নিয়ে আসছেন। সহকারীদের (১২/১৩ তম গ্রেডে চেয়ে ৫ বছর আগের একটা রীট আছে কিন্তু এখনো শুনানি হয় নাই অথচ প্রধান শিক্ষকরা ১ বছরেই রায় নিয়ে আসলেন।

ইনশাআল্লাহ, আমাদের এতো দীর্ঘ সময় লাগবে না। খুব অল্প সময়েই আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব এবং ২০১৪ সাল থেকেই বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

সমালোচকরা যত পারেন সমালোচনা করুন। এতে অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে।


লেখেক: কেন্দ্রীয় সভাপতি
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি 

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর