সোমবার ০১ জুন, ২০২০ ৫:০৮ এএম


প্রণোদনা চায় বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:০৪, ২৫ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১০:০৫, ২৫ এপ্রিল ২০২০

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে লকডাউনের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের কাছে ৩৯০ কোটি টাকা প্রণোদনা সহায়তা চেয়েছেন। শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এই আবেদন পাঠিয়েছেন বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাদের সংগঠন টেকনিক্যাল এডুকেশন কনসোর্টিয়াম অব বাংলাদেশ (টেকবিডি)।

টেকবিডির সভাপতি প্রকৌশলী আবদুল আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ আবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ৩৩টি শিক্ষাক্রমে দেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ১০ হাজার ৪৫২টি (সরকারি ৬৯৩টি ও বেসরকারি ৯,৭৫৯টি) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালিত হচ্ছে। এসব শিক্ষাক্রমে ২০১৮-১৯ সেশনে রেজিস্ট্রেশনকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ২১ হাজার ৭৯জন।

এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ১৪ হাজার ২৯৪ জন। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাধ্যমিক স্তরে এনরোলমেন্ট বর্তমানে ১৬.০৫ শতাংশ।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানসমূহ বেতন-ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি কোনো অনুদান বা আর্থিক সহযোগিতা পায় না এবং কখনো পাওয়ার জন্য আবেদনও করে না। কিন্ত বর্তমানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত ও অনুমোদনপ্রাপ্ত বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা দিশেহারা। ১৭ মার্চ থেকে সরকারের সিদ্ধান্তে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

আবেদনে দেশের বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের জন্য অন্যান্য পেশার মতো সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতার জন্য ৩৯০ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল গঠন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

কারিগরি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ বছর মেয়াদি (প্রথম বছর গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে বিবেচনা করে) ২ শতাংশ সুদে জামানতবিহীন ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, স্ব-অর্থায়নে পরিচালিত কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলো নানা কারণে অর্থনৈতিক দুর্বলতার শিকার।

এ প্রতিষ্ঠানগুলো বেশিরভাগ ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত বেতন দিয়েই প্রতিষ্ঠানের ভবন ভাড়া, সব ইউটিলিটি বিল এবং শিক্ষক এবং কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। কিন্ত শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সত্বেও দুর্যোগকালীন সময়ে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফিসহ অন্যান্য পাওনা আদায় করে না। এতে করে সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আর্থিক মহাসংকটে পড়েছে।

এ ব্যাপারে টেকবিডির সভাপতি প্রকৌশলী আবদুল আজিজ বলেন, সমস্যার কথা উল্লেখ করে আমরা প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন জানিয়েছি। আশা করছি এই সংকটকালে সরকার আমাদেরকে সহযোগিতা করবে।





সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর