বুধবার ২০ নভেম্বর, ২০১৯ ৪:৪৭ এএম


পেনশন ও ভাতা প্রদান প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইনে করার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৪৫, ২৯ মে ২০১৮   আপডেট: ১৫:১৫, ২৯ মে ২০১৮

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আগামী বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা ও পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এ খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও দুর্ভোগ প্রতিরোধে পেনশন ও ভাতা প্রদান প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইনে করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ পদ্ধতিতে পেনশন কিংবা ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি উপকারভোগীদেরে অ্যাকাউন্টে চলে যাবে।

সুবিধাভোগীরা পছন্দ মতো সোনালী, রূপালী, ডাচবাংলা ব্যাংক কিংবা রকেট ও শিওর যেকোনো মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতার টাকা গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে ভাতাভোগীদের দুর্ভোগ যেমন কমবে তেমনি প্রতি বছর সরকারের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। যা দিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা আরও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়ানো যাবে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বলছে, এসব অর্থ নগদ হস্তান্তরে ভাতাভোগীরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েন। এমনকী প্রকৃত উপকারভোগীর পরিবর্তে অন্যজনের অর্থ তুলে নেয়ার ঝুঁকিও থাকে। এছাড়া সরকারের নগদ ব্যবস্থানা ঝুঁকি এবং সরকারি ফান্ডের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা অধিক ব্যয় হয়। তাই অর্থ বিভাগ ভাতাভোগীদের ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে ভাতার অর্থ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে সরকারি কোষাগার থেকে প্রতি মাসে ভাতাভোগীর অর্থ পছন্দ মতো ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। একই সঙ্গে পেনশন ব্যবস্থাপনাকেও অনলাইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে পেনশনার কিংবা তার স্ত্রীকে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। তারাও তাদের ইচ্ছা মতো অ্যাকাউন্টে অর্থ পেয়ে যাবেন।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সচিব মো. মুসলিম চৌধুরী বলেন, ইএফটির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ভাতার টাকা পাইলট হিসেবে দেয়া শুরু করেছি। আগামী অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এ খাতের সব অর্থ প্রদান ইএফটির মাধ্যমে হবে। ফলে প্রতি মাসের এক তারিখে ভাতাভোগী যে অ্যাকাউন্টে চাইবে সে অ্যাকাউন্টে অর্থ চলে যাবে। এক্ষেত্রে এজি অফিস অর্ডার করবে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে উপকারভোগীর ইচ্ছা মতো অ্যাকাউন্টে অর্থ চলে যাবে। পেনশনও অনলাইনে করে দিচ্ছি। সব ভাতা পাবার ক্ষেত্রে এখন মানুষের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, পেনশনসহ ৫৪ হাজার ২০৬ কোটি টাকা সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ রয়েছে। এ অর্থ সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে উপকারভোগীর পছন্দ মতো অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। পেনশন অফিস বানাচ্ছি। পেনশনার মারা গেলে তার স্ত্রীকেও আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। চেয়ারম্যান-মেম্বারের নিকট ধর্ণাও ধরতে হবে না। ফলে দুর্নীতিও থাকবে না। এসব ক্ষেত্রে সরকারের কোনো পেমেন্ট রিসিটে চেক সিস্টেম থাকবে না। সব রিয়েল টাইম হয়ে যাবে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অনলাইনের মাধ্যমে ওই সাত উপজেলার আট হাজার ৮১১ জন ভাতাভোগীকে জানুয়ারি থেকে মার্চ- এ তিন মাসে ১৫০০ টাকা করে প্রদান করেন। তাৎক্ষণিক ভাতাভোগীরা তাদের ইচ্ছা মতো ব্যাংক কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ, রকেট ও শিওর ক্যাশ অ্যাকাউন্টে টাকা পেয়ে যান। আগামী জুন মাসে তাদের একইভাবে এপ্রিল থেকে জুন- এ তিন মাসের ভাতা দেয়া হবে।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর