সোমবার ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৯:০৯ পিএম


পীরগঞ্জ পৌর পাঠাগারে নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার বই

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:৫৭, ৯ অক্টোবর ২০১৯  

আগে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পাঠাগার খোলা রাখা হতো। তখন সকালে তেমন পাঠক না আসলেও প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই পাঠাগারে ভিড় জমাতো বইপ্রেমীরা। নাটক, গল্প, কবিতাসহ বিভিন্ন গুণীজনের জীবনী এবং রাজনৈতিক বইগুলির প্রতি পাঠকদের আকর্ষণ ছিল বেশি। স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরা আসতো দল বেধে। এখন সে সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ পাঠাগারের দরজা।

কথাগুলো ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের বিশিষ্ট নাট্যকার গৌতম দাস বাবলুর। তার মতে পীরগঞ্জ পৌরসভা পাঠাগারের আগের চিত্র ছিল এটি। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ থাকায় বর্তমানে পাঠাগারটির আশপাশে যায় না কেউ। দরজা জানালায় ঘুন ধরেছে। ভিতরের নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার মূল্যবান বইসহ আসবাবপত্র। যেন দেখার কেউ নেই।

উপজেলা উদীচীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলার সরকার বলেন, পাঠাগারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে বই পড়ার অভ্যাসটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এখন বই পড়ার মতো তেমন কোনো পাঠাগারও নেই, পরিবেশও নেই।

পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুল হক বলেন, অনেক অনুরোধ করে পাঠাগারটি চালু করা হলেও কেন জানি বন্ধ হয়ে গেল। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য।

সহকারী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান বলেন, আগের মতো বই পড়ার দিন এখন আর নেই। এক সময় পাঠাগারটি জমজমাট ছিল। সেখান থেকে বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করা হতো। এখন সে সুযোগ নেই। তবে অচিরেই এটি চালু করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শহরের পাবলিক ক্লাব চত্বরে ১৯৮৬ সালে উপজেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে এ পাঠাগার স্থাপন করা হয়। তৎকালীন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আবুল হাসনাত মোজাফ্ফর করিম পাঠাগারটি উদ্বোধন করেন। তখন থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে ভালোভাবেই চলে পাঠাগারটি। নতুন নতুন বইও কেনা হয়। এরপর পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হলে পাঠাগারটি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পৌরসভা সেখানে আকতারুল ইসলাম নামে একজনকে সহকারী লাইব্রিয়ান হিসেবে নিয়োগ দেন। ২০০৬ সালে তার মৃত্যুর পর বন্ধ হয়ে যায় পাঠাগারের দরজা। এভাবেই কেটে যায় কয়েক বছর।

এ সময় পাঠাগারের দরজা-জানালা, আসবাবপত্র, আলমিরা ঘুনে ধরে। নষ্ট হয় অনেক বই। এরপর পাঠচক্র নামে একটি সংগঠন পৌর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়ে মাঝখানে পাঠাগারটি আবারো চালু করার ব্যবস্থা করেন। সংস্কার কাজও করা হয়। পৌরসভার একজন কর্মচারীকে প্রেষণে এখানে দায়িত্ব দেওয়া হয় কিন্তু তা বেশি দিন টিকেনি। কর্মচারী সংকট অজুহাতে কয়েক মাসের মাথায় তাকে আবারো পৌরসভায় প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তলা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় পাঠাগারের দরজায়। প্রায় অর্ধ যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে জ্ঞান অর্জনের এ বাতিঘড়টি। এখন এর বারান্দা এবং আশপাশে ঝালাইয়ের কাজ করা হয়। স্তুপ করে রাখা হয়েছে লোহা লক্কর। নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান বই।

সূত্র জানায়, পাঠাগারটিতে নাটক, কবিতা, গল্প ও রাজনৈতিক দর্শনসহ বিভিন্ন প্রকাশ প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বই রয়েছে।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র কশিরুল আলম বলেন, পাঠাগারটি পরিচালনা করার মতো কোনো স্টাফ নেই। তাছাড়া ডিজিটাল যুগে পাঠাগারে বসে বই পড়ার মতো লোক খুবই কম আছে। তাই বন্ধ রয়েছে। দেখা যাক সুযোগ হলে আগামীতে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর