বুধবার ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:৩৬ পিএম


পিএইচডি এমফিল প্রকল্প ফাইলবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৪২, ৬ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৪:০৪, ৬ জানুয়ারি ২০১৯

জনপ্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে দেশে-বিদেশে পিএইচডি, এমফিল ও এমএস পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রকল্পটি এখনও ফাইলবন্দি। যেখানে ২০১৪ সালে শুরু হয়ে প্রকল্পটি ২০১৯ সালে শেষ হওয়ার কথা, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অর্থ সংগ্রহের চিঠি চালাচালির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে চার দফাা চিঠি দিলেও অর্থ সংস্থানের বিষয়ে কোনো সাড়া মেলেনি। যদিও এর মধ্যে ২৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যাডার কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে গত বছর থেকে ৫ বছর মেয়াদি পৃথক প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পে প্রশাসন ক্যাডার থেকে ৭০% এবং অন্যান্য ক্যাডার থেকে ৩০% কর্মকর্তা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।

এদিকে দেশে-বিদেশে পিএইচডি, এমফিল ও এমএস পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রকল্পটি এখনও শুরু না হওয়ায় প্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের অনেকে তাদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী অনুমোদিত প্রকল্পটিতে দ্রুত অর্থের সংস্থান হওয়া প্রয়োজন। আমাদের সরকার যদি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো দেশের বৃহত্তম সেতু নির্মাণে সাহসী ভূমিকা রাখতে পারে সেক্ষেত্রে এই ক্ষুদ্র প্রকল্প তো কিছুই নয়।

তাদের মতে, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সার্বিকভাবে প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে শক্ত ডিভেট করার জন্য পারদর্শী কর্মকর্তা তৈরি হবে। বিদ্যমান বাস্তবতায় যেটি খুবই প্রয়োজন।
সূত্র জানায়, ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব বিসিএস ক্যাডার অফিসার্স’ শীর্ষক প্রকল্পটির অনুমোদিত টিপিপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয় ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে। এর আগে এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদন লাভ করে ৪ সেপ্টেম্বর। এতে বলা হয়, প্রকল্পটি ২০১৪ সালে শুরু হয়ে ২০১৯ সালের ৩০ জুন শেষ হবে।

যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৮৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় দাতা সংস্থা বা অর্থ সংস্থানের বিষয়ে ২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিবকে চিঠি দেয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আরও তিন দফা চিঠি দেয়া হয় যথাক্রমে ওই বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১২ এপ্রিল এবং ১ নভেম্বর। ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্মসচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর চিঠি দিয়ে জানান, প্রকল্পটিতে অর্থায়নের জন্য কোরিয়া দূতাবাসে চিঠি দেয়া হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

এর আগে ২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিনকে চিঠি দেন। কিন্তু বিগত চার বছরেও উল্লেখিত প্রকল্পে অর্থ সংস্থানের সুরাহা হয়নি।

এ বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শহিদুল ইসলাম বুধবার বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারকে শক্তিশালীকরণ শীর্ষক প্রায় ২৪১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প চলতি অর্থবছর থেকে শুরু হয়েছে। তিনি মনে করেন, এটি বাস্তবায়িত হলে ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব বিসিএস ক্যাডার অফিসার্স’ প্রকল্পের চাহিদা পূরণ হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলমান প্রকল্পে পিএইচডি ও এমফিল করা যাবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল ফাত্তাহ (উন্নয়ন) প্রায় একই কথা বলেন।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর