মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ২:১০ এএম


পাবিপ্রবির প্রো-ভিসির পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:০৩, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম পদত্যাগ করেছেন। বুধবার বেলা ১২টার দিকে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

সম্প্রতি কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান। এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

পাবিপ্রবির প্রো-ভিসি ড. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ভাইস চ্যান্সেলর স্যার সকালে এক সিদ্ধান্ত নেন, বিকেলে তিনি আবার সেই সিদ্ধান্ত পাল্টে দেন। বর্তমানে পাবিপ্রবিতে কাজের উপযুক্ত পরিবেশ নেই। এমতাবস্থায় আমার পক্ষে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয় বলে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, সম্প্রতি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এক যবুক শহরের রাধানগর মহল্লার একটি ছাত্রীনিবাসে মদ্যপ অবস্থায় ঢুকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে হাত ধরে টানাটানিসহ শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এ সময় ওই বখাটে ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন ক্যাম্পাসে বিক্ষুব্ধ সহপাঠীরা বিক্ষোভ করেন এবং সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার দাবি জানান। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পাবনা-নগরবাড়ি মহাসড়ক অবরোধ করে এবং সুষ্ঠু দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদত্যাগও দাবি করেন।

প্রো-ভিসি ড. আনোয়ারুল ইসলাম আরো জানান, ভাইস চ্যান্সেলর স্যার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে গেল ১০ মাসে সুষ্ঠু পরিবেশে একাধারে এক সাপ্তাহও বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে পারেননি। তার ব্যর্থতার দায়ভার আমি নিব কেন? প্রতিনিয়ত একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ঝামেলা লেগেই থাকে। ইতিপূর্বে জরুরি রিজেন্ট বোর্ডের সভা করে ১০ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের পর ২০ দিনের মাথায় আবারো বোর্ড সভা করে তা প্রত্যাহার করে নেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে চেইন অব কমান্ড একেবারে ভেঙে পড়ে। ডেপুটি রেজিস্ট্রার প্রো-ভিসির আদেশ নির্দেশ অমান্য করে, তাই আমি মনে করি এখানে একদমই কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই।

ডেপুটি রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম বলেন, আমার কোনো ক্ষমতা নেই। এখানে ভাইস চ্যান্সেলর স্যার সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী, তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তার বাইরে আমি যেতে পারি না।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আওয়াল কবির জয় বলেন, প্রো-ভিসি স্যারের যাওয়ার জায়গা আছে বলেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমাদের অন্য কোথাও সুযোগ থাকলে আমি নিজেও এখানে থাকতাম না। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন নিয়ে ভাইস চ্যান্সেলর স্যার হস্তক্ষেপ করার কারণে নির্বাচন স্থগিত করে রেখেছেন নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা খুবই করুণ।

পাবিপ্রবি রিজেন্ট বোর্ড সদস্য ড. আব্দুল আলীম বলেন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নানাবিধ অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর স্যারের পদত্যাগ এরই সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. রোস্তম আলী ফরাজী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সম্প্রতি একটি বিষয় নিয়ে প্রো-ভিসি ড. আনোয়ারুল ইসলামের সাথে ডেপুটি রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম’র একটু ঝামেলা হয়েছে, এটি বসেই সমাধান করা যেত। আমি তাকে এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্যে বলেছি। এটি পদত্যাগ করার মতো কিছু নয় বলেও দাবি করেন ভিসি।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবর ৪ বছরের জন্যে পাবিপ্রবিতে প্রো-ভিসি হিসেবে যোগদান করেন।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর