মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ৭:০১ এএম


পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কী হচ্ছে

মো. সাব্বির হুসাইন

প্রকাশিত: ০৯:২৪, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এক ধরনের চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই অস্থিরতা বিরাজ করার পেছনে রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, ভর্তি জালিয়াতি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ধরনের নীতি-নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেশের স্বনামধন্য তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় তিনটি হলো : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ। আর এ সকল অনিয়মের অভিযোগের তীর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বিরুদ্ধেই।

সম্প্রতি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড়ো বিতর্কের জন্ম দিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলাম। একনেক থেকে পাশ হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের মোট টাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে উপাচার্যের বিরুদ্ধে। প্রতি বছরের মতো ঈদ সালামি হিসেবে টাকাগুলো দেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন উপাচার্য। উপরোক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ব্যানারে উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন করছে ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ছাত্রছাত্রীদের এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে বিভিন্ন বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষকও তাদের সঙ্গে উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছে। উপাচার্যের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাত্রলীগকে দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতাকে তাদের পদ থেকে অব্যাহতিও দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রত্ব না থাকা ছাত্রলীগের ৩৪ জন শিক্ষার্থীকে সান্ধ্যকালীন একটি বিশেষ কোর্সে কোনো প্রকার লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই চিরকুটের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মবহির্ভূত উপায়ে ভর্তি করানোর অভিযোগ ওঠে উপাচার্য ও বাণিজ্য অনুষদের ডিন শিবলি রুবাইয়াতুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনেই ভর্তি করানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন উপাচার্য ও ডিন। এ ঘটনায় উপাচার্য ও ডিনের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীদের একাংশ।

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খন্দকার নাসিরউদ্দীনের বিরুদ্ধে উঠেছে ব্যাপক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, অনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জিনিয়া তার ফেসবুক আইডিতে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী’? লিখে একটি স্ট্যাটাস দেন এবং উক্ত স্ট্যাটাসটির পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ঐ ছাত্রীর সঙ্গে উপাচার্যের অকথ্য ভাষার একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসতে থাকে তার সকল অপকর্ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর। যার ফলে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। তবে উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলনটি এখনো চলমান রয়েছে এবং উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের এক দফা এক দাবি : ‘নাসিরউদ্দীনমুক্ত বশেমুরবিপ্রবি’।

লেখক :শিক্ষার্থী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর