মঙ্গলবার ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১২:৪৭ পিএম

Sonargaon University Dhaka Bangladesh
University of Global Village (UGV)

পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৫৯, ৩০ জুন ২০১৮  

এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অবহেলা ও ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরীক্ষক, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এর ফলে এসব পাবলিক পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নে আবেদনের সংখ্যা বাড়ছে।

সংকট সমাধানে যোগ্য ও নিষ্ঠাবান শিক্ষকদের নিয়ে পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষক পুল তৈরি, উপযুক্ত কারণ ছাড়া পরীক্ষকদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, পরীক্ষকদের পারিশ্রমিক ও সময় বৃদ্ধি, মাথাপিছু কমসংখ্যক উত্তরপত্র বিতরণ, পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি, পরীক্ষকদের ডাকযোগে বা কুরিয়ারে খাতা পৌঁছে দেওয়া, প্রধান পরীক্ষকদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সারাদেশে ১০টি শিক্ষা বোর্ডে পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে চার হাজার ৮৯৭ জনের ফল পরিবর্তন হয়। এর আগে ২০১৭ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১০টি শিক্ষা বোর্ডে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী প্রায় তিন লাখ পত্রের নম্বর পরিবর্তন করার জন্য আবেদন করেন। এর আগের বছরের তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার বেশি ছিল। এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ শেষে পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন সংশ্নিষ্টরা। গত ১৩ মে এ পরীক্ষা শেষ হয়।

এ প্রসঙ্গে রাজধানীর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ বনমালী মোহন ভট্টাচার্য্য বলেন, একজন শিক্ষককে ৬০০ খাতা মূল্যায়নের জন্য ১৫-২০ দিন সময় দেওয়া হয়। এত স্বল্প সময়ে এত খাতা নিরীক্ষা কঠিন কাজ। এ কারণে সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়ন হয় না। তাই খাতার সংখ্যা কমিয়ে পরীক্ষকের সংখ্যা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, অনেক পরীক্ষক সিনিয়র হয়ে গেলে খাতা দেখতে চান না। অনেকের সৃজনশীল প্রশিক্ষণও নেই। তাই সৃজনশীলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সব শিক্ষককে খাতা মূল্যায়নের আওতায় আনা উচিত।

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় একটি বোর্ডের প্রসঙ্গ টেনে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ফাতিহুল কাদির সম্রাট বলেন, সাধারণ শিক্ষকদের ইংরেজি বিষয়ে ৬০০ এবং প্রধান পরীক্ষকদের ৮০০ করে খাতা দেওয়া হয়েছে। বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র মূল্যায়ন ছাড়াও একজন প্রধান পরীক্ষককে গড়ে পাঁচ হাজার খাতার নিরীক্ষা, পুনর্মূল্যায়ন ও আনুষঙ্গিক কাজ করতে হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এই অল্প সময়ের মধ্যে খাতার প্রয়োজনীয় বৃত্ত ভরাট, স্বাক্ষর, লেখালেখি এসব করা কষ্টসাধ্য।

শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, খাতা পুনর্মূল্যায়নে সাধারণত চারটি দিক দেখা হয়। উত্তরপত্রে সব প্রশ্নে সঠিকভাবে নম্বর দেওয়া হয়েছে কি-না, প্রাপ্ত নম্বর গণনা ঠিক রয়েছে কি-না, প্রাপ্ত নম্বর ওএমআর শিটে উঠানো হয়েছে কি-না এবং প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী ওএমআর শিটে বৃত্ত ভরাট হয়েছে কি-না। এসব বিষয় পরীক্ষা করেই পুনর্নিরীক্ষার ফল দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে কোনো শিক্ষার্থীর খাতা পুনরায় মূল্যায়ন হয় না। এতেই যদি এত শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়, তাহলে পুনরায় মূল্যায়িত হলে এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতো।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে এমন এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বাসিন্দা আশরাফ উদ্দিন ভূঞা বলেন, উচ্চশিক্ষায় ভর্তিতে এইচএসসির ফলের ভূমিকা থাকে। নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে জিপিএ ৫ না পেলে অনেক শিক্ষার্থী বুয়েট কিংবা মেডিকেলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির আবেদনই করতে পারে না। দুই-এক নম্বরের জন্য কাঙ্ক্ষিত ফল লাভে ব্যর্থ হয়ে স্বপ্নের উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। তাই পরীক্ষক বাছাইয়ে আরও সতর্ক হওয়া এবং মূল্যায়নে সময় বাড়িয়ে দেওয়া উচিত।

এসব বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার দুই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে শিক্ষকদের ১৫-২০ দিনের সময় দেওয়া হয়। তিনি বলেন, বাংলা-ইংরেজি ছাড়া অন্যান্য বিষয়ের পরীক্ষকদের ২৫০ থেকে ৩০০ খাতা দেওয়া হয়। আন্তরিকতা সহকারে কাজ করলে এ সময়ের মধ্যে খাতা নিরীক্ষা সম্ভব। সময় বাড়িয়ে দিলেও পুনর্নিরীক্ষার সুযোগ রাখতে হবে। শিক্ষকদের খাতা নিতে অনাগ্রহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেশিরভাগ শিক্ষক খাতা নিয়ে থাকেন। যারা টিউশনি করেন তাদের মধ্যে খাতা না নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর