শনিবার ২৫ মে, ২০১৯ ৯:১৭ এএম


পাকিস্তানের পাশে অকুণ্ঠভাবে দাঁড়ানোর ঘোষণা তুরস্কের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:২৬, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

ভারতীয় হামলার ঘটনায় দ্বিধাহীনভাবে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক। রেডিও পাকিস্তান এ খবর জানিয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মোহাম্মদ কোরেশির সাথে এক ফোনালাপে এই সহানুভূতির কথা জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মওলুদ কাভুসওগলু। খবর ডনের।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আবুধাবিতে ওআইসির আসন্ন বৈঠকে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হলে তার বিরোধিতা করবে তুরস্ক।

জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও তাকে ফোন করে বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্রয় চূড়ান্ত
এ দিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, রাশিয়া থেকে তুরস্কের এস-৪০০ ক্রয় এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মঙ্গলবার তুরস্কের এনটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।

এরদোগান বলেন, এস-৪০০ নিয়ে আর বিতর্কের সুযোগ নেই। রাশিয়া থেকে এই ব্যবস্থা কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কখনো তার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট বিক্রির জন্য উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করলে আঙ্কারা তাদের কাছ থেকেও তা কিনবে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র প্রথম থেকেই তুরস্ককে এস-৪০০ কেনার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য চাপ দিয়ে আসছে। তবে এরদোগান এর আগেও বলেছেন, তুরস্ক মার্কিন চাপের কাছে নতিস্বীকার করবে না। এরপর রাশিয়া থেকে ২০১৯ সালের মধ্যেই এস-৪০০ আনার চুক্তি সম্পন্ন হয়। ২০১৮ সালের ২৬ মে এ বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, এস-৪০০ কেনার ক্ষেত্রে তুরস্ককে বাধা দেয়ার কোনো অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই। ২০১৭ সালে তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে এস-৪০০ ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তিটি সই হয়েছিল।


পাকিস্তানের এক মন্ত্রী বলেছেন, যদি যুদ্ধ লেগেই যায়, তাহলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই হবে সবচেয়ে বড় এবং ভয়ঙ্কর যুদ্ধ।

গত বুধবার পাকিস্তানের দুনিয়া টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমদ বলেন, ‘পাকিস্তান প্রায় ওয়ার মোডেই রয়েছে। ইতিমধ্যেই রেলে জরুরি পরিস্থিতির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টাতেই ঠিক হয়ে যাবে যে যুদ্ধ না শান্তি। আর যদি যুদ্ধ হয় তাহলে এটাই হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সব থেকে বড় যুদ্ধ। যেহেতু পাকিস্তানও জবাব দেয়ার জন্য সম্পূর্ণভাবে তৈরি আছে, তাই যুদ্ধের আকার হতে পারে সংঘাতিক।

এর আগে টুইটারে একটি ভিডিও মেসেজ পোস্ট করেন রশিদ আহমদ। সেখানে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি পাকিস্তানের দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকায়, তাহলে সেই চোখ উপড়ে নেয়া হবে। তাহলে আর গাছ জন্মাবে না, পাখিও ডাকবে, মন্দিরে বাজবে না ঘণ্টা।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভারত যদি পাকিস্তানের হামলার এতটুকুও চেষ্টা করে, তাহলে পাকিস্তান কড়া জবাব দেবে।’ এমনকি ভারতের দিকে প্রয়োজনে মিসাইল ছোঁড়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। বলেন, ‘আমরা দিওয়ালির জন্য আমাদের বোমাগুলো জমিয়ে রাখিনি।’

মোদিকে কটাক্ষ করে শেখ রশিদ বলেন, পাঁচটি রাজ্যের নির্বাচনে হেরে মোদি পুরোপুরি হতাশ। ফলে তিনি এখন যুদ্ধের দিকে ঝুঁকেছেন। তবে পাকিস্তানের হাতে নিজেদের রক্ষা করা ভিন্ন কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করেন, পাকিস্তান আছে তো আমরা আছি।
তিনি বলেন, তার দেশ ভারতের সাথে যুদ্ধ চায় না। কিন্তু যদি যুদ্ধ লেগেই যায়, তাহলে তা হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যুদ্ধ।

পাকিস্তানের আইএসপিআরের ডিজি আসিফ গফুর বলেন, পাকিস্তান ভারতকে এ যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়নি। বরং তারা এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে চায়। তিনি বলেন, পাকিস্তান শান্তি চায় আর ভারতকে বুঝতে হবে, বর্তমানে যুদ্ধ একটি ব্যর্থ নীতি।

১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলার পর পাকিস্তানকে দায়ী করতে থাকে ভারত। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়, যদি এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের যুক্ত থাকার প্রমাণ থাকে, তাহলে আমাদেরকে দিন। আমরা যথোপুযুক্ত ব্যবস্থা নেব। নরেন্দ্র মোদির আরেক চ্যালেঞ্জের জবাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ দিয়ে দেখুন।

পাকিস্তান অবশ্য এসব কথার পাশাপাশি এ-ও উল্লেখ করে আসছিল যে, পাকিস্তান শান্তি চায়। কিন্তু আক্রান্ত হলে চুপ করে বসে থাকবে না।

পুলওলামা ঘটনার ১২ দিন পর পাকিস্তানে হামলা চালায় ভারত। দাবি করে সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর কিছু ঘাঁটি তারা বিধ্বস্ত করে দিয়েছে। হত্যা করেছে প্রায় ৩৫০ জন মানুষকে। পাকিস্তান উল্টো দাবি করে, তারা এলওসি লঙ্ঘন করলেও সেখানে ক্ষয়ক্ষতি করার মতো কোনো হামলা চালাতে পারেনি।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মোহাম্মদ কুরেশি এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে। পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের জবাবে অবশ্যই পাকিস্তান যথাসময়ে পদক্ষেপ নিবে। পরদিনই ভারতের অভ্যন্তরে গিয়ে হামলা চালিয়ে ইসলামাবাদ জানায়, আত্মরক্ষার অধিকার আছে তা জানাতেই এই হামলা। ভারতকে যে প্রতিরোধ জানানোর সক্ষমতা আছে তা জানাতে এই হামলা। অন্য কিছু নয়। ভারত এ হামলার কথা স্বীকার করে নিয়ে জানায়, তারা পাকিস্তানের একটি বিমান ভূপাতিত করেছে। পাকিস্তান তাদের সে দাবি উড়িয়ে দেয়।

এর কিছুক্ষণ পর আবারো ভারতের বিমান পাকিস্তানে হামলা চালাতে গেলে, পাকিস্তান তাদের দুটি বিমান ভূপাতিত করে একজন পাইলটকে আহত অবস্থায় গ্রেফতার করে। ভারত প্রথমে সে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পাকিস্তানের এ বিষয়ক ভিডিও প্রকাশের পর তা মেনে নিতে বাধ্য হয় এবং তাকে ফেরত দেয়ার দাবি জানায়।

বৃহস্পতিবার জম্মু কাশ্মিরের পুঞ্চ জেলায় আবারো দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ও মর্টার হামলার ঘটনা ঘটে।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর