শুক্রবার ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ১৫:১৩ পিএম

Sonargaon University Dhaka Bangladesh
University of Global Village (UGV)

পরীক্ষায় অনুপস্থিতি বাড়ছে কেন?

হিমেল আহমেদ

প্রকাশিত: ০৮:৩৪, ৬ নভেম্বর ২০১৮  

১ নভেম্বর থেকে সারা দেশে শুরু হয়েছে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা। শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষা। অষ্টম শ্রেণীতে কৃতকার্য হলে পরবর্তীকালে সেই শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।

তাই প্রত্যেক অভিভাবক আশা করেন জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষায় তার সন্তান ভালো করুক। বস্তুত পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো হওয়া মানে জীবনে সাফল্যের দিকে এক ধাপ অগ্রসর হওয়া। কিন্তু হতবাক হলাম পত্রিকার পাতায় একটি খবর পড়ে।

জেএসসি ও জেডিসির প্রথম দিনের পরীক্ষায় ৬৪ হাজার ৯৯৫ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেনি! তারা যে অন্য পরীক্ষাগুলোয় অংশগ্রহণ করবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। সত্যিই ভাবনার বিষয়। এতসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত কেন? এ বিষয়ে খোঁজ নেয়া জরুরি।

অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের জীবন অনিশ্চিত- এটা বলা অত্যুক্তি নয়। গত বছরের তুলনায় এ বছর অনুপস্থিতির সংখ্যা বেড়েছে। এটি মোটেও শুভ লক্ষণ নয়। দেশ উন্নত হচ্ছে। শিক্ষায় জোর দেয়া হচ্ছে। তবুও কেন অকালে ঝরে পড়ছে এত শিক্ষার্থী? পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করতে পারার পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, মেয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ বাল্যবিবাহ ও দারিদ্র্যের শিকার।

এবং ছেলে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণ দারিদ্র্য ও অভিভাবকদের অসচেতনতা। বাল্যবিবাহ নামক ব্যাধি এখনও সমাজ থেকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি, যা আমাদের চরম ব্যর্থতা। দেশের গ্রামগঞ্জে আজও বাল্যবিবাহ দেয়া হচ্ছে অনেক মেয়ের। অষ্টম শ্রেণী অতিক্রম করার আগেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে অনেকের। গত বছর জেএসসি ও জেডিসিতে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির ওপর জরিপ করেছিল সরকার। জরিপ অনুযায়ী, শুধু বাল্যবিয়ের কারণে এক বছরে ঝরে পড়েছে পাঁচ হাজার ছাত্রী।

দেশে সার্বিকভাবে নারী শিক্ষার প্রসার ঘটলেও এখনও বড় প্রতিবন্ধকতা বাল্যবিয়ে। সরকারিভাবে লেখাপড়ার সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলেও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব ও অসচেতনতার কারণে এটি পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বাল্যবিবাহ রোধে সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তবুও চোখের অন্তরালে বাল্যবিবাহ চলছেই। ইউনিসেফ তাদের এক জরিপে বলেছে, বাংলাদেশে ৬৪ শতাংশ মেয়ের ১৮ বছর হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায়। বাল্যবিবাহের বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করা হয়েছে ওই জরিপে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, সামাজিক চাপ, নিরাপত্তার অভাব, অসচেতনতা এবং বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কার।

শিক্ষা মানুষকে মুক্তি দেয়, এ কথা আমরা সবাই জানি। তবুও শিক্ষাকে অপরিহার্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারছে না অনেক পরিবার। অশিক্ষিত পরিবার ছাড়াও বর্তমানে অনেক শিক্ষিত পরিবারও তাদের সন্তানকে বাল্যবিবাহ দিচ্ছে।

ছেলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকে দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনার পরিবর্তে জড়িয়ে পড়ে শ্রমে, কিংবা নেশাগ্রস্ত হয়ে পা বাড়ায় ভুল পথে। এসব ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করে পুনরায় শিক্ষায় মনোনিবেশ করার দায়িত্ব নিতে হবে সরকার ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে।

অভিভাবকদের সচেতনতা আর সরকারি উদ্যোগই পারে পরীক্ষায় অনুপস্থিতি কমাতে। এ ব্যাপারে সব অভিভাবকের সচেতন হওয়া জরুরি। শিক্ষিত জাতি দেশের বোঝা নয়, সম্পদ। এটি অনুধাবন করতে হবে সবাইকে।

হিমেল আহমেদ : শিক্ষার্থী, সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর