সোমবার ১৩ জুলাই, ২০২০ ১৩:২৫ পিএম


পরীক্ষার রেজাল্ট সেকাল-একাল

অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু

প্রকাশিত: ১৫:০২, ১ জুন ২০২০  

সময়ের সাথে সাথে পৃথিবীর অনেক কিছুই বদলে গেছে। বদলে গেছে শিক্ষা ব্যবস্থার অনেক কিছুই। বদলে গেছে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সিস্টেমও। একসময় পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল শহর কেন্দ্রিক। তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা ও এত উন্নত ছিল না। অনেক দুরদুরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা শহরে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসে পরীক্ষায় অংশ নিতো। পরীক্ষার ফলাফলও কেন্দ্র থেকে দুরবর্তী প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে অনেক সময় লেগে যেতো। তখন পরীক্ষা কেন্দ্রে কিংবা স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাইক্লোস্টাইল কিংবা টাইপ মেশিনে টাইপ করে রেজাল্ট ঝুলিয়ে দেওয়া হতো। সেই রেজাল্টের জন্য শিক্ষার্থীরা হুড়াহুড়ি করে কার আগে কে রেজাল্ট দেখবে এই নিয়ে কতই না হুলুস্থুল হতো। যারা পাশ করেছে তারা নিজের অংশটুকু ছিড়ে নিয়ে যেতো। আবার যারা পাশ করতে পারেনি তারাও নিজের অকৃতকার্যতা সাময়িকভাবে ঢাকার জন্য রেজাল্ট ছিড়ে ফেলে দিতো। এই নিয়ে কতকিছুই না হতো। এখনকার প্রজন্ম হয়ত সেটা কল্পনাও করতে পারবে না।

কালের পরিক্রমায় শিক্ষা ক্ষেত্রে আমুল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। আমাদে দেশেও এখন প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভর্তি, রেজিষ্ট্রেশন, ই-বুক,অনলাইন ব্যবস্থা পাঠদান ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এখন ঘরে বসে পৃথিবীর যে কোন দেশের লাইব্রেরি থেকে বই,পড়ালেখা ও গবেষণা সংক্রান্ত রেফারেন্স সহজেই সংগ্রহ করা যাচ্ছে। ফলে বিশ্বায়নের এই যুগে শিক্ষা ক্ষেত্রে এক আমুল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

এবার করোনায় সারা বিশ্বব্যাপি চরম বিপর্যয় ঘটেছে। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও চরম বিপর্যয় দেখা দেয়। এস এস সি পরীক্ষা সমাপ্ত হবার পর পরই বাংলাদেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দখা দেখা দেয়। ক্রমে ক্রমে তা চরম আকার ধারণ করতে থাকে । এমতাবস্থায় পরিস্থিতি মোকাবেলায় শিক্ষার্থী সহ জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য সরকার ১৭ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে। ফলে এস এস সি পরীক্ষার ফল প্রকাশে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এস এস সি ও সমমানের পরীক্ষার রেজাল্ট ঘোষণা করা হয়। এক অন্যরকম আনন্দ। অন্য রকম অনুভূতি। করোনা ভাইরাসজনিত এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ভিন্ন এক পরিবেশে প্রকাশিত হয় এস এস সি ও সমমানের পরীক্ষার ফল। আরো একমাস আগেই ফল প্রকাশিত হবার কথা ছিল। কিন্তু মহামারী করোনায় শত প্রতিকুলতা মোকাবেলা করে সরকারের শিক্ষা মন্ত্রী সহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের আন্তরিক উদ্যোগ, শিক্ষক,বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা কর্মচারীদের জীবন বাজি রেখে ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গতকাল ফল প্রকাশিত হলো।

এবার উদ্ধুত পরিস্থিতিতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ও সকলের নিরপত্তার কথা বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে আসতে বারণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রি-রেজিস্টেশন ব্যবস্থা করা হয়। ফলাফল ঘোষণার সাথে সাথে শিক্ষার্থীরা যার যার বাসায় বসেই তাদের মোবাইলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেয়ে যায়। অন্যান্যবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল তুলে দেওয়ার পর মন্ত্রনালয়ে শিক্ষা মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ফলাফলের আনুষঙ্গিক তথ্য সরবরাহ করার পর ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল সংগ্রহ করতে হতো। বিশ/পচিশ লক্ষ শিক্ষাথী,তাদের অভিভাবক সবমিলিয়ে একসাথে চল্লিশ/পঞ্চাশ লক্ষ মানুষের একসাথে ওয়েব সাইটে হিট করায় রেজাল্ট পেতে অনেক সময় লেগে যেতো। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থী অভিভাবকরা বাড়তি মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হতো। শত প্রতিকুলতার মধ্যেও এই চাপটি এবার তাদের নিতে হয়নি। সম্পুর্ন ডিজিটাল পদ্ধতিতে এবার স্বল্পতম সময়ের মধ্যে রেজাল্ট প্রকাশ করে সরকার সাধুবাদ কুড়িয়েছে।

এবারের এস এস সি ও সমমানের রেজাল্ট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় গতবারের তুলনায় এবার সবদিক থেকেই ভাল করেছে। নয়টি সাধারণ বোর্ড সহ কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড সহ এগারটি বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২০ লক্ষ ৪০ হাজার ০২৮ জন। উক্তীর্ণ হয়েছে ১৬ লক্ষ ৯০ হাজার ৫২৩ জন। সবগুলি বোর্ডের পাশের গড় হার ৮২.৮৭%। গত বছর এই হার ছিল ৮২.২০%। এবার জিপিএ -৫ পেয়েছে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন। গতবার পেয়েছিল ১ লক্ষ ০৫ হাজার ৫৯৪ জন। গত চার বছরের মধ্যে এবারের হার সবচেয়ে বেশি। এছাড়া গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ -৫ পেয়েছে। এবার শতভাগ পাশ করেছে ৩ হাজার ২৩ টি প্রতিষ্ঠান।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর