রবিবার ২১ এপ্রিল, ২০১৯ ৪:৫৮ এএম


পরিত্যক্ত জিনিষ দিয়ে তৈরি ৫ আবিষ্কার যাচ্ছে আমেরিকায়

প্রকাশিত: ০৮:৫৮, ৬ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ০৮:৫৯, ৬ নভেম্বর ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্রে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) একদল মেধাবী গবেষকের তৈরি পাঁচটি ম্যাটেরিয়াল (উপাদান)। পরিত্যক্ত কাগজ, পাট, তাল, সুপারি, নারিকেল, আনারস কিংবা কলাগাছ ও অন্যান্য উদ্ভিদের আঁশ দিয়ে তৈরি ওই পাঁচটি উপাদানকে ইতিমধ্যেই স্বীকৃতি দিয়েছে আমেরিকান সোসাইটি অব মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এএসএমই) কর্তৃপক্ষ।

গত পাঁচ বছরে অন্তত ৯৫ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন গুণগত মানসম্পন্ন কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল (যৌগিক উপাদান) তৈরি করেছে ডুয়েটের এ গবেষক দল। এবার তারা তৈরি করেছেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হাইব্রিড কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল, বায়োম্যাটেরিয়াল, মাল্টিলেয়ার্ড কোটিং, মৌলিক কৌশল ও প্রয়োগের মাধ্যম নামের পাঁচটি উপাদান। গবেষক দলের প্রধান ও ডুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী ও তার ছাত্র রাজীব নন্দী এসব উপাদান নিয়ে আগামী বুধবার যাচ্ছেন পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কনফারেন্সে।

ডুয়েটের গবেষক দলের তৈরি করা এসব ম্যাটেরিয়াল প্লাস্টিক, লোহা কিংবা স্টিলের বিকল্প হিসেবে বিমান বা জাহাজের বডি তৈরিসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ও কনস্ট্রাকশন কাজে ব্যবহার করা যায় বলে জানান তারা। লোহা বা স্টিল দিয়ে তৈরি বডির ওজনের চেয়ে ডুয়েটের এই ম্যাটেরিয়াল ব্যবহারের ফলে ওজন অর্ধেকে নেমে আসবে। এতে এসব পণ্য তৈরিতে খরচ যেমন সাশ্রয় হবে, তেমনি তা হবে জ্বালানি সাশ্রয়ী। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, এসব ম্যাটেরিয়াল বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হবে। শুধু তাই নয়, কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল রফতানি করে প্রচুর অর্থ আয় করাও যায়।

নাসা, হার্ভার্ড, এমআইটি, আইআইটিসহ বিশ্বের অন্তত অর্ধশত বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ৯ নভেম্বর থেকে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে অধ্যাপক আসাদুজ্জামান উপস্থাপন করবেন তাদের গবেষণা। এএসএমইর এ সম্মেলন ১৫ নভেম্বর শেষ হবে।

অধ্যাপক আসাদুজ্জামান বলেন, ডুয়েটের নিজস্ব গবেষণাগারে দিনের পর দিন পরিশ্রম করে এই ম্যাটেরিয়ালগুলো তৈরি করেছে ছয় সদস্যের গবেষক দল। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মেটাল ম্যাট্রিক্স কম্পোজিট, সিরামিক কম্পোজিট ও পলিমার কম্পোজিট। প্রচলিত ম্যাটেরিয়ালগুলোর ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতা দূরীকরণে কম্পোজিট ম্যাটেরিয়ালের ব্যবহার বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই বেড়েছে। এ ধরনের ম্যাটেরিয়াল সম্পর্কে শিল্পোদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের ধারণা না থাকায় এটাকে দেশে শিল্পে পরিণত করা সম্ভব হচ্ছে না।

গবেষক দলের সদস্য রাজীব নন্দী বলেন, তাদের তৈরি ম্যাটেরিয়াল দিয়েই উৎপাদনমুখী শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। পাটের আঁশ, ধানের তুষ, গ্লাস ফাইবার, আরামিট ফাইবার কিংবা পরিত্যক্ত কাগজ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে এসব ম্যাটেরিয়াল তৈরি করা হয়।

ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, গবেষকদের জন্য এএসএমই পৃথিবীর অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে ডুয়েটের দুই সদস্য তাদের গবেষণা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরবেন। এটা দেশের জন্য অবশ্যই গৌরবের।

গবেষকরা বলছেন- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীনসহ উন্নত দেশগুলোতে কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল যানবাহন, মহাকাশ গবেষণা, উড়োজাহাজ, জলযান, কনস্ট্রাকশন, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, গিয়ার, বেয়ারিং, তেল ও গ্যাস, রেল, নবায়নযোগ্য শিল্পক্ষেত্রসহ সব ক্ষেত্রে ব্যবহূত হচ্ছে। এই দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এখনও আমাদের দেশে উড়োজাহাজ ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠেনি। তবে কম্পোজিট শিল্পের মাধ্যমে এ ধরনের ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা সম্ভব।

গবেষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন অধ্যাপক ড. আরেফিন কাওসার, উত্তম কুমার দেবনাথ, শাহীন মিয়া ও রমজান আলী সিয়াম।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর