মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ১১:৪১ এএম


পদোন্নতির অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না যুগ্ম সচিবদের

ইউসুফ আরেফিন

প্রকাশিত: ১০:৫৪, ১৭ অক্টোবর ২০১৯  

কর্মজীবনের শেষ পর্যায়ে এসে পদোন্নতি নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় আছেন প্রায় পাঁচ শতাধিক যুগ্ম সচিব। তারা অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পেতে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন। অথচ এই অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে না। কারণ সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) যাচাই-বাছাই শেষে তাদের প্রোফাইল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হলেও এখনো পদোন্নতির আদেশ জারি হয়নি। হচ্ছে হবে বলে কয়েক মাস কেটে গেলেও পদোন্নতি আটকে থাকায় অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার প্রহর গুনতে থাকা এই যুগ্ম সচিবরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। তাই দ্রুত পদোন্নতি দিতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

সচিবালয় সূত্র জানায়, যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হয় চলতি বছরের এপ্রিলে। সে সময় বিসিএস প্রশাসনের ১১তম ব্যাচ, অতীতে বিভিন্ন সময় পদোন্নতিবঞ্চিত (লেফটআউট) এবং বিলুপ্ত ইকোনমিক ক্যাডারের পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তার তথ্য নেয় সরকার। এসব কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিতে বেশ কয়েকটি সভাও করেছে এসএসবি। তবু দীর্ঘদিন পদোন্নতি ঝুলে থাকায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছর ১৩ নভেম্বর ইকোনমিক ক্যাডার বিসিএস প্রশাসনের সঙ্গে একীভূত হয়। তার পর এসএসবির মাধ্যমে ইকোনমিক ক্যাডারের যুগ্ম প্রধান ও বিভাগীয় প্রধানরা অতিরিক্ত সচিব, উপপ্রধানরা যুগ্ম সচিব ও সিনিয়র সহকারী

প্রধানদের উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি

পাওয়ার কথা। কিন্তু একীভূত হওয়ার পর কয়েক মাস কেটে গেলেও তাদের পদ পরিবর্তন হয়নি। গত ১৬ জুন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৩৭ কর্মকর্তা যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেলেও বিলুপ্ত ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতি পাননি। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব করার সময় যুগ্ম প্রধান ও বিভাগীয় প্রধানদেরও অতিরিক্ত সচিব করা বা না করা নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রশাসনের নিয়মিত ১১তম ব্যাচ ও লেফটআউটে থাকা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আটকে গেছে। শুধু তা-ই নয়, আটকে আছে বিসিএস প্রশাসনের ২৭তম ব্যাচের সিনিয়র সহকারী সচিবদের পদোন্নতিও। এ নিয়ে যুগ্ম সচিব ও ২৭তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ আছে।

পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা বেশ কয়েকজন যুগ্ম সচিব বলেন, নিয়মিত ব্যাচের কর্মকর্তা, পদোন্নতিবঞ্চিত ও বিলুপ্ত ইকোনমিক ক্যাডারদের দ্বন্দ্বেই তাদের পদোন্নতি আটকে আছে। পদোন্নতি আজ হোক কাল হোক হবে; কিন্তু আমাদের যে বেশিদিন চাকরি নেই, এটা সংশ্লিষ্টরা বিবেচনা করছেন না কেন? চাকরির একেবারেই শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। অতিরিক্ত সচিব হতে পারলেও সম্মানটা নিয়ে যেতে পারব। পদোন্নতি আটকে থাকায় কাজেও মনোযোগ দিতে পারছি না। দ্রুত পদোন্নতি হলে কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে মনে করেন তারা।

সূত্র জানায়, পদোন্নতির জন্য শুরুতে প্রশাসনের নিয়মিত ও বঞ্চিত কর্মকর্তাদের তথ্য নেওয়া হয়েছিল। এর কয়েক মাস পর এসএসবি গত বছর বিলুপ্ত ইকোনমিক ক্যাডার কর্মকর্তাদের তথ্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে বিভিন্ন সময় পদোন্নতি বঞ্চিত লেফটআউট কর্মকর্তাদের বিবেচনায় নিয়ে পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়। ফলে অতিরিক্ত সচিবদের পদোন্নতিতে দীর্ঘ সময় লাগছে।

জানা গেছে, লেফটআউটে থাকা ৮৪ ও ৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের অনেকে আগামী ডিসেম্বরেই পিআরএলে যাবেন। কিন্তু পদোন্নতি আটকে থাকায় তারা গভীর চিন্তায় পড়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী সবার আগে অতিরিক্ত সচিব পদেই পদোন্নতি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার এবার নিয়ম উপেক্ষা করে আগে উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে। ফলে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি শেষে চলে গেছে। এটিই অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিতে বিলম্ব ঘটিয়েছে বলে মনে করেন কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগ) মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পদোন্নতির স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান। পদোন্নতির যোগ্য কর্মকর্তাদের তথ্য-উপাত্ত আরও যাচাই-বাছাই চলছে। তবে পদোন্নতির আদেশ কবে নাগাদ হবে, তা বলতে পারেননি তিনি।

অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি কেন দেরি হচ্ছে, তা জানতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ও সচিব ফয়েজ আহম্মদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর