শুক্রবার ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১২:৫০ পিএম

Sonargaon University Dhaka Bangladesh
University of Global Village (UGV)

ন্যূনতম মজুরি নিয়ে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা: মুজিবুল হক চুন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:১৯, ৬ ডিসেম্বর ২০১৮  

পোশাক খাতের ঘোষিত ন্যূনতম মজুরিকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে পোশাক খাতের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কোর কমিটির সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন। ত্রিপক্ষীয় এ সভায় মালিক ও শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইদানিং লক্ষ্য করছি, আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যারা নির্বাচন চান না তারা বিভিন্নভাবে নির্বাচন ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন। আমাদের মনে হচ্ছে, আমাদের সবেচেয়ে বড় গার্মেন্টস সেক্টরে অসেন্তোষ সৃষ্টি করার জন্য কিছু কিছু মহল চেষ্টা করছে। এ জন্য ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কোর কমিটি মিটিং ডেকেছি।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন বাহানা করে অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নতুন মজুরি। বর্তমান সরকার নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছে ৮ হাজার টাকা। সাতটি গ্রেডের সব গ্রেডেই সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধির হার ৫১ শতাংশ। ২০১৩ সালের আদলে সাতটি গ্রেডের বেতন বৃদ্ধির হিসাব আমরা বিজিএমইএ, বিকেএমইএ-এর মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের কাছে পৌঁছে দেব। যাতে কোনো রকমের বিভ্রান্তি না হয়। শ্রমিকরা ডিসেম্বরের বেতন নতুন স্কেল অনুযায়ী পাবেন।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মালিক ও শ্রমিকদের বলব, ডিসেম্বর মাসের ইলেকশন ব্যাহত হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত তারা যেন না নেন। যদি নেন তবে সরকারের পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স, আমরা প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত শক্তভাবে অ্যাকশন নেব। কারণ আমরা যেকোনো ভাবেই হোক এ দেশের ১৬ কোটি মানুষের যে আকাঙ্খা, নির্বাচনটা যাতে নির্বিঘ্নে হয় সেই চেষ্টাই করে যাব।’

তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসের বেতনের সঙ্গে শ্রমিকরা বর্ধিত বেতনটা পাবেন। ২০১৩ সালে বেতন বাড়ানোর সময় যেভাবে হিসাব করা হয়েছে এবারও সেই আদলে অন্য গ্রেডগুলোতে আমরা হিসাব করেছি। বেতন নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি নেই। প্রধানমন্ত্রী সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, আমরা সেটা মেনে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘ইদানিং দেখা গেছে, গাজীপুরে কিছু ফ্যাক্টরি বেতন বৃদ্ধি কম হয়েছে বলে শ্রমিকরা কাজ করেনি। আমাদের শ্রমিক ভাইদের যেন এভাবে বিভ্রান্ত হতে না হয়। তারা ২০১৩ সালের মতো হিসাব অনুযায়ী বর্ধিত বেতন পাবেন। কোনো শ্রমিককে যেন বেতন ছাড়া বাসায় যেতে না হয়। এবার ইলেকশন আছে, আমরা কাউকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেব না। সেটা শ্রমিক পক্ষ হোক আর মালিক পক্ষ হোক। আমরা তাদের আইনের আওতায় আনব।’

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান বলেন, ‘ওয়েজবোর্ডের মাধ্যমে আমরা শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করেছি। অনেক শ্রমিক সেটা বুঝতে পারেননি, এমনকি অনেক মালিকও এটা বুঝতে পারেননি। আমরা ডিসেম্বর মাসের বেতনটা জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে দেব। আমরা সেটা নিয়ে আজ বসেছি, বেতন দিতে যেন আমাদের দ্বিধাদ্বন্দ্ব না হয়।’

বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, ‘অনেক মালিক বেশি বুঝে যতটুকু দেয়ার দরকার সেটা থেকে বাড়িয়ে দিচ্ছেন। অনেক মালিক কায়দা করছেন ভুল-ত্রুটি ধরে বেতনটা কমিয়ে দেয়ার। মালিকদের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অনেক মালিক বিভ্রান্তির মধ্যে আছেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় দেখতে পাচ্ছি কিছু কিছু মালিক বেতন পরিশোধ করছেন না। তারা তিনমাস ধরে বেতন বন্ধ রেখেছেন। আমি ৪০ বছরের ব্যবসায়ী হিসেবে বলছি বেতন বন্ধ করার কোনো কারণ নেই।’

‘যেসব ফ্যাক্টরিতে বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে আমি অনুরোধ করব, তারা যদি আগামী ৭ দিনের মধ্যে বেতন পরিশোধ না করেন আমরা মনে করব, তারা নির্বাচনকে ব্যাহত করার জন্য তৃতীয় শক্তিকে সহযোগিতা করছেন। সুতরাং তাদেরকে বেতন পরিশোধের বন্দোবস্ত করতেই হবে। অন্যথায় আমরা এটাকে মেনে নিতে পারব না’ -বলেন সেলিম ওসমান।

জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব মালিকেরা যেন বেতনটা সময় মতো দিয়ে দেন। কোনো সমস্যা হলে আমাদের ডাকবেন, আমরা আছি। আর নির্বাচন প্রাক্কালে কেউ বিশৃঙ্খলা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা ঐক্যমত পোষণ করছি।’

মুজিবুল হকের সভাপতিত্বে সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব আফরোজা খান, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দ, পোশাক শ্রমিক নেতা ও আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর