রবিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০:৩৭ এএম

Sonargaon University Dhaka Bangladesh
University of Global Village (UGV)

নিয়ানা'র বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীপ্রতি ১৭ হাজার টাকা বেশি নেয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:২৯, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১০:৩০, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব অ্যাডভান্স নার্সিং এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (নিয়ানার) বিরুদ্ধে মাস্টার অব সায়েন্স ইন নার্সিং (এমএসএন) কোর্সে ভর্তি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতি প্রায় ১৭ হাজার টাকা করে কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত আদায় করছে বলে তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে কোনো প্রতিকার না পেয়ে তারা নার্সিং মহাপরিচালক এবং দুদক চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করেছেন।

রাজধানীর মুগদায় অবস্থিত দেশের নার্সিং শিক্ষার একমাত্র উচ্চশিক্ষা (পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন) প্রতিষ্ঠান নিয়ানার। এটি জাতীয় নার্সিং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবেও পরিচিত। এ প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি নেয়ার অভিযোগ করার পর কোনো প্রতিকার না পেয়ে তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ২৪ জানুয়ারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। সেখান থেকেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে তারা ৩১ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর অনুরূপ অভিযোগ করেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, কোরিয়ার সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত এ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত। এখানে সরকার নির্ধারিত টিউশন ফি ৬০০ টাকা এবং বিএসএমএমইউ কর্তৃক নির্ধারিত পরীক্ষার ফি সাত হাজার। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীপ্রতি ২৪ হাজার ৫৫০ টাকা আদায় করছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীপ্রতি অতিরিক্ত আদায় করছে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা।

নিয়ানারের পেমেন্ট স্লিপে দেখা গেছে, টিউশন ফি ও বিএসএমএমইউর পরীক্ষা ছাড়া আরও ৯টি খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- অ্যাডমিশন ফি ১ হাজার, লাইব্রেরি ব্যবহার ফি ৯০০, ফেরতযোগ্য অর্থ ৫০০, লাইব্রেরি নিরাপত্তা ফি ১ হাজার,
নিবন্ধন ফি ১ হাজার ৫৫০, মধ্যবর্তী পরীক্ষার ফি ৪ হাজার, সেন্টার ফি ৪ হাজার, কোর্স ফি ৩ হাজার এবং আইডি কার্ড বাবদ ১ হাজার টাকা।

শিক্ষার্থীরা জানান, এ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি করা হয়েছে দেশের নার্সিং কলেজগুলোয় উপযুক্ত ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক সৃষ্টির লক্ষ্যে। এর আগে এসব কলেজে শিক্ষক পদে যারা নিয়োগ পেতেন, তারা দেশের বাইরে থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে আসতেন। প্রতিবছর জনপ্রতি ১৪ লাখ টাকা ব্যয় করে সরকার ৬০ জন গ্র্যাজুয়েট নার্সকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বিদেশে পাঠাত। এ বিপুল ব্যয় সংকোচনের জন্য নিয়ানার প্রতিষ্ঠা। প্রতিষ্ঠার পর ২০১৬ সাল থেকে এখানে নার্সদের উচ্চশিক্ষা শুরু হয়। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এখানে এসব ফি নেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ প্রসঙ্গে জাতীয় নার্সিং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (নিয়ানার) পরিচালক এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ এনামুল হক এনার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পেলে এ ব্যাপারে কোনো খোঁজখবর নিই। মূলত এ প্রতিষ্ঠানের প্রথম পরিচালক ছিলেন প্রফেসর লি নামের একজন বিদেশি। অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি এসব ফি নির্ধারণ করেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ফি আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা এবং নিবন্ধন ফি অবশ্যই দিতে হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ে সভা করে সমন্বয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করি, আমরা সেটা করতে পারব। এক্ষেত্রে যেসব ফি অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হবে, সেগুলো শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে দেয়া হবে।

শিক্ষার্থীরা জানান, একটি আইডি কার্ড সরবরাহ করতে এক হাজার টাকা ফি নেয়া হচ্ছে। অথচ এরকম কার্ড করতে কোনোভাবেই ১০০ টাকার বেশি লাগার কথা নয়। সেন্টার ফি নেয়া হচ্ছে জার হাজার টাকা। কিন্তু এখানকার শিক্ষার্থীরা এখানেই পরীক্ষা দিয়ে থাকে। অন্য কোনো সেন্টার ভাড়া নিতে হয় না। লাইব্রেরি ব্যবহারের জন্য ৯০০ এবং লাইব্রেরি নিরাপত্তার জন্য ১ হাজার টাকা ফি নেয়া হলেও লাইব্রেরিতে কোনো বই নেই। দু-একটি বিদেশি বইয়ের ফটোকপি থাকলেও সেগুলো শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের সুযোগ হয় না। তারা জানান, এসব বিষয়ে নিয়ে একাধিকবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেও কোনো লাভ হয়নি। এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রনি যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া এসব টাকা পরিচালকের নামে রূপালী ব্যাংকের একটি শাখায় জমা হয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মরত একশ্রেণীর অসাধু শিক্ষক-কর্মচারী অতিরিক্ত ফি নির্ধারণ ও আদায়ে জড়িত রয়েছেন। ইন্সটিটিউটের প্রথম পরিচালক তাদের পরামর্শে ইতঃপূর্বে এ হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করে ভোগ-বিলাস করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ করায় প্রশাসনের রোষানলে আমাদের পড়তে হয়েছে। কিন্তু আমরা চাই- এ অনিয়মের অবসান হোক।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর