শুক্রবার ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১২:৪৩ পিএম

Sonargaon University Dhaka Bangladesh
University of Global Village (UGV)

নার্সদের পদোন্নতি ও সিলেকশন গ্রেড সমস্যা নিষ্পত্তির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:১৭, ৩ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ০৮:২২, ৩ ডিসেম্বর ২০১৮

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম নার্সদের পদোন্নতি ও সিলেকশন গ্রেড নিয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল রবিবার দৈনিক ইত্তেফাকে ‘নার্সিংয়ে অব্যবস্থাপনা, ১০ বছরে সিলেকশন গ্রেড ও পদোন্নতি নেই’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ দেখে সঙ্গে সঙ্গেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের উল্লিখিত নির্দেশ দিয়ে বলেন, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হতেই হবে।

জানা গেছে, দীর্ঘ ১০ বছরেও পদোন্নতি ও সিলেকশন গ্রেড না হওয়ায় ৩৬ হাজার নার্সের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। নার্সদের বিভিন্ন দাবি পূরণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কতিপয় কর্মকর্তার অসহযোগিতার কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রাখতে যেসব মেডিক্যাল কলেজকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সেগুলোতে ভর্তি হলে তার দায় নিবে না সরকার। বরং শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার পাশাপাশি কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্বকালে মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে চিকিত্সা শিক্ষার মান সমুন্নত রাখতে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা অনুসরণে সরকার কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে। এজন্য নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করলে তাদের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের জন্য বিএমডিসিকে ব্যবস্থা নিতে বলে দেওয়া হয়েছে।

সভায় সিলেটের রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ পরিচালনায় দীর্ঘদিনের অনিয়মের জন্য জরিমানা ও আসন সংখ্যা কমানোসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে পদক্ষেপ নিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিবকে দায়িত্ব দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি আদেশে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি না করার জন্য যেসব কলেজ তালিকাভুক্ত সেগুলো এখনো ছাত্র ভর্তির চেষ্টা চালাচ্ছে। ঐসব কলেজে ভর্তি হলে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের জন্য বিএমডিসিকে অগ্রিম নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও দৈনিক পত্রিকাগুলোতে শীঘ্রই প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলমান শিক্ষাবর্ষেও গতবারের মতো কোনো বেসরকারি কলেজে আসন সংখ্যা না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাগণ ঐকমত্য পোষণ করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে দেশে চিকিত্সা শিক্ষার মান অনেক উন্নত হয়েছে। এর ফলে আগামী বছরগুলোতে দেশ ও জাতি বেশকিছু সুচিকিত্সক পাবে। বিদেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের মেডিক্যাল কলেজগুলো থেকে পাস করে দেশে ফিরে গিয়ে উন্নত ও দক্ষ সেবা দিতে পারছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিগণ। এই সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে সরকার কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব জি এম সালেহউদ্দিন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল, স্বাচিপ সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান, বিএমএ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইহতেশামুল হক দুলাল, বিএমডিসি সভাপতি অধ্যাপক ডা. সহিদুল্লাহসহ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর