সোমবার ২০ জানুয়ারি, ২০২০ ৬:১১ এএম


নিবন্ধিত ৩০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ চলতি মাসেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:০২, ৯ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০০:২৭, ১০ জানুয়ারি ২০২০

চলতি সপ্তাহেই সারাদেশের স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য আসনের তালিকা সংগ্রহ শুরু হচ্ছে। এসব শূন্য আসনে চলতি মাসেই বিভিন্ন স্তরের নিবন্ধিত প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, সারাদেশের এমপিওভুক্ত (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য আসনে এনটিআরসিএর নিবন্ধিত প্রার্থীদের মেধাতালিকা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইনে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে সারাদেশের শূন্য আসনের তালিকা সংগ্রহ শুরু হবে, যা চলবে সপ্তাহজুড়ে। তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের পর গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রার্থীদের কাছে নিয়োগের জন্য অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হবে। আবেদনকারীদের মধ্যে মেধাতালিকা অনুযায়ী শূন্য আসনের বিপরীতে নিয়োগ দিতে সুপারিশ করবে এনটিআরসিএ।

জানা গেছে, প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে ১৮০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হবে। একজন প্রার্থী একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদনের সুযোগ পাবেন। প্রাপ্ত সব আবেদন জাতীয় মেধারভিত্তিতে বাছাইপূর্বক বিধি মোতাবেক প্রতিটি পদের বিপরীতে চূড়ান্তভাবে একজনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠাবে এনটিআরসিএ। এরপর নির্বাচিতদের মোবাইল ফোনে মেসেজের মাধ্যমে সেই তথ্য জানিয়ে দেয়া হবে। তবে যেসব প্রার্থীর বয়স ৩৫ অতিক্রম করেনি তারাই এ নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবেন। এনটিআরসিএর ১-১৫তম নিবন্ধিত প্রার্থীরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান এসএম আশফাক হুসেন বলেন, এমপিওভুক্তির নীতিমালা অনুযায়ী গত বছরের মতো এবারও শূন্য আসনে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। সারাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০ হাজার পদ শূন্য। আগামী সপ্তাহে এসব তালিকা সংগ্রহ করে যাচাই-বছাই করা হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নিয়োগ-সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিবন্ধিত প্রার্থীদের কাছে অনলাইনে আবেদন চাওয়া হবে।

আশফাক হুসেন বলেন, নিয়োগের জন্য তালিকা প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে যোগ্য প্রার্থীকে যোগদান করতে বলা হবে। যদি কেউ এ সময়ের মধ্যে যোগদান না করেন তবে পরবর্তী মেধাতালিকায় যোগ্য প্রার্থীকে যোগ্য বলে বিবেচনা করে তাকে যোগদানের সুযোগ দেয়া হবে।

এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান এসএম আশফাক হুসেন বলেন, গত বছর শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে যোগ্যদের তালিকা প্রকাশের পর অনেক প্রার্থী লিখিতভাবে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। সেসবের ভিত্তিতে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লিখিতভাবে জানাই। তারা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার পর অনেকের সমস্যা সমাধান হলেও এখনো দুই শতাধিক প্রার্থী যোগদানের বাইরে রয়েছে। তবে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

তিনি আরও বলেন, চলতি মাসে শুরু হওয়া নিয়োগ কার্যক্রমে যাতে এসব সমস্যা না হয় সে জন্য আমরা সজাগ থাকবো। শূন্য আসনের চাহিদাপত্র পাওয়ার পর তা নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এনটিআরসিএর ১-১৪তম শিক্ষক নিবন্ধত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রায় সাত লাখ প্রার্থী পাস করেন। তাদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত। এমপিওভুক্ত শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী গত বছর থেকে ৩৫ বছরের নিচে প্রার্থীরা নিয়োগের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন। চলতি মাসে ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

 

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর