শুক্রবার ১৯ জুলাই, ২০১৯ ২২:২০ পিএম


নিজের চেয়ারে বসায় ছাত্রকে কুপিয়ে জখম করলেন শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:২৮, ২৩ জুন ২০১৯  

ঝালকাঠির রাজাপুরে ৭ম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রকে শিক্ষকদের চেয়ারে বসায় কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের নারিকেলবাড়িয়া জাফরাবাদ নেছারিয়া আলিম মাদরাসার শিক্ষক মো. ফোরকান হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন আহত শিক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেনের মা তাসলিমা বেগম।

আহত সাব্বির নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের অটোরিক্সা চালক মো. আব্দুল আলিমের ছেলে ও শিক্ষক ফোরকান হোসেন একই এলাকার মৃত আব্দুল হাই এর ছেলে।

গত ১২ জুন (বুধবার) বেলা ১১টার দিকে মাদরাসার একটি শ্রেণিকক্ষে এ ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি জানাজানির ভয়ে আহত শিক্ষার্থীকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন ওই শিক্ষক। কিন্তু ঘটনার আট দিন পর শিক্ষার্থীর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দিলে গত শুক্রবার (২১ জুন) রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত শিক্ষার্থীকে ভর্তি করে তার পরিবার।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমল্পেক্সে চিকিৎসাধীন সাব্বির হোসেন বলেন, ঘটনার দিন আমার দুই বন্ধুকে নিয়ে মাদরাসার একটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের চেয়ারে বসেছিলাম। এ সময় হুজুর এসে চেয়ারে বসার কারণে আমাদের গালমন্দ করেন। যখন আমরা মাদরাসা থেকে চলে যাচ্ছিলাম, হুজুর তখন আমাকে ধরে প্রথমে চরথাপ্পর মারেন। এরপর হুজুরের হাতে থাকা দা দিয়ে আমাকে কোপ দিতে গেলে আমি হাত দিয়ে তা থামাই। এ সময় আমার বামহাতের কব্জি কেটে যায়।

আহত সাব্বিরের মা তাসলিমা বেগম বলেন, হুজুরের দায়ের কোপে আহত হওয়ার পর আমার ছেলেকে রাজাপুর হাসপাতালে না এনে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। ফলে ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে।

অপর এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, এ ঘটনার বিচার চাই, তবে তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কোথাও কোনো অভিযোগ করতে পারিনি। অভিযোগ করলে গ্রামে থাকাটা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক ফোরকান হোসেন বলেন, আমি সাব্বিরকে কোপ দেইনি। ঘটনার দিন মাদরাসা বন্ধ ছিল। মাদরাসার পাশের একটি সবজি ক্ষেতে আমি কাজ করছিলাম। তখন মাদরাসার ভেতরে শিক্ষকদের চেয়ারে বসে টেবিল চাপড়ে গান বাজনা করছিল সাব্বির ও তার বন্ধুরা। তখন আমি সেখানে গিয়ে সাব্বিরকে গালমন্দ করি ও চড়-থাপ্পর দেই। তখন আমার হাতে থাকা দায়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে সাব্বিরের হাত কেটে যায়। ওর চিকিৎসার যাবতীয় খরচ আমি বহন করছি।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর