সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১:৫৪ এএম


নিজেই নিজের বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন স্কুলছাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:১৯, ২৪ আগস্ট ২০১৯  

পুলিশ এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় স্কুলের দুই সহপাঠিকে নিয়ে নিজের বাল্যবিয়ে নিজেই বন্ধ করলেন বাসুগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মনিকা (১১)। তার বাড়ি আমতলী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বাসুগী গ্রামে। মনিকার এরকম সাহসী উদ্যোগের প্রসংসা করেছেন প্রশাসনসহ সচেতন মহলের অনেকেই।

শুক্রবার রাত ৮টায় তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল আমতলী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের পরিচ্ছনতাকর্মী শামীম (১৫)-এর সঙ্গে।

জানা গেছে, আমতলী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের বটতলা ব্রিজ সংলগ্ন খালের পাড়ের বাসুগী গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় রিকশাচালক জুয়েল পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকেন। শুক্রবার রাত ৮টায় মনিকার মা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী শাহিনূর ওরফে শাহনাজ বেগম আমতলী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের পৌরসভার আরেক পরিচ্ছন্নতা কর্মী অপ্রাপ্তবয়স্ক শামীম (১৫)-এর সঙ্গে মেয়ের বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন করেন।এ বিয়েতে মনিকার বাবা রাজি ছিলেন না বলে জানায় মনিকা।

নিজের বিয়ের এ আয়োজন দেখে মনিকা চমকে যান এবং তার এ বিয়ে বন্ধের জন্য স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কনিকার সহযোগিতায় আমতলী থানায় চলে আসে।থানায় দেখা হয় এসআই নাসরিনের সঙ্গে।তার কাছে মনিকা তার বিয়ের আয়োজনের সব কথা খুলে বলে।

তাৎক্ষণিক এসআই নাসরিন কয়েকজন ফোর্স এবং মনিকা ও তার দুই সহপাঠীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিয়ের সব আয়োজনের সত্যতা পান।

এ সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কমলেশ চন্দ্র মজুমদার। তিনি মনিকার মাকে ডাকেন এবং বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে বুঝিয়ে বলেন। বাল্যবিয়ের কুফল বুঝতে পেরে মনিকার মা তার মেয়েকে বাল্যবিয়ে দিবেন না বলে মুচলেকা দেন।

মনিকার মা শাহিনুর ওরফে শাহনাজ বেগম বলেন,আমরা না বুইজ্যা মাইয়ারে বিয়া দিতে চাইছিলাম। স্যারে আইয়া মোগো সব বুঝাইয়া কওনে মোরা এহন মাইয়ারে আর বিয়া দিমু না। মাইয়ারে এহন লেহাপড়া করামু বড় করমু হেইয়ার পর বিয়া দিমু।`

মনিকা বলে, বিয়া মুই বুঝি না। মুই লেহাপড়া কইর‌্যা বড় অমু। হেইয়্যার পর পুলিশে চাকরি করমু। চাকরি কইর‌্যা এইরহম কাম যাতে কেউ করতে না পারে হেইয়্যার ব্যবস্থা নিমু। আমতলী থানা পুলিশের এসআই নাসরিন বলেন, মেয়েটি অনেক বুদ্ধিমতি। তার বিয়ের আয়োজনের কথা টের পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় সে তার দুই সহপাঠীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় আসে। তাৎক্ষণিক আমি ফোর্স নিয়ে

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করি।

আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কমলেশ চন্দ্র মজুমদার বলেন, মনিকা অত্যন্ত বুদ্ধিমতি। তার অনেক প্রসংশা করতে হয়। ছোট মেয়ে থানায় উপস্থিত হয়ে নিজের বাল্যবিয়ে নিজেই বন্ধ করেছে।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর