মঙ্গলবার ২৬ মে, ২০২০ ২৩:৪০ পিএম


নারী শিক্ষার উন্নয়ন, দক্ষ গ্রাজুয়েট তৈরিতে আসছে নতুন প্রকল্প 'হিট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৩৪, ১৫ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৬:৫০, ১৫ অক্টোবর ২০১৮

নারী শিক্ষার উন্নয়ন, দক্ষ গ্রাজুয়েট তৈরি এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে সরকার। বিশ্বব্যাংকের ঋণের টাকায় দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চট্টগ্রামে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইম্যান’কে এতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে ঋণদাতা বিশ্বব্যাংক। তাও আবার প্রকল্পের ২৫ ভাগ অর্থ দিতে বলেছে তারা। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বলছে, যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, তাই তাদের পেছনে ঋণের টাকা খরচ করা যাবে না।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৯ বছর ধরে চলা ‘হায়ার এডুকেশন এনহেন্সমেন্ট প্রোজেক্ট (হেকেপ)’ আগামী বছরের মাঝামাঝিতে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের অর্জন ধরে রাখতে এবং নতুন নতুন কম্পোনেন্টের পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ২০০ মিলিয়ন ডলারে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্প চালু হচ্ছে। প্রকল্পটি আগামী বছরের মাঝামাঝি থেকে চালু হবে বলে জানা গেছে।

ইউজিসি সূত্র জানিয়েছে, মূলত এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য নারী শিক্ষাকে আরও এগিয়ে নেওয়া। শিক্ষাস্তরে নারী ও পুরুষের সমতা বিধান করা। এছাড়া উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক স্থাপন, গ্রাজুয়েটদের চাকরির বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে টিচিং-লার্নিং, গবেষণা এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন করা। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ঢাবি অধিভুক্ত মহিলা কলেজ, যেমন- গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ও ইডেন কলেজকেও এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। এছাড়া হলিক্রস ও বদরুন্নেসা কলেজকেও এর আওতায় আনার পরিকল্পনা চলছে।

এই প্রকল্পের আওতায় কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আনা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হেকেপের প্রকল্পের অর্থ কম থাকায় সব বিশ্ববিদ্যালয়কে এখানে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট—সব বিশ্ববিদ্যালয়কেই যুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। তবে কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যারা গবেষণা করে না। ফলে যারা গবেষণার কালচার তৈরি করেনি তাদের এই প্রকল্পে নেওয়ার ব্যাপারে যাচাই-বাছাই করা হবে।’
ইউজিসি’র অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে, মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে, উচ্চ আদালতে মামলা চলছে, তাদের প্রকল্পের আওতায় আনা হবে না। বরং যেসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে গেছে, আইন মেনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাদের এই প্রকল্পের আওতায় আনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’

প্রকল্পটি কীভাবে পরিচালিত হবে তার কর্মপরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা গ্রহণের জন্য গত ২২ সেপ্টেম্বর ইউজিসি’র অডিটোরিয়ামে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ওই সভাতেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যরা এই প্রকল্পে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইম্যানকে যুক্ত করার প্রস্তাবের সমালোচনা করেন। ঋণের অর্থ বিদেশি শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে ব্যয় করা ঠিক হবে না বলে জানান তারা। এছাড়া শুধু নারী নয়, ছেলেদেরও এই প্রকল্পের আওতায় আনার প্রস্তাব করেন উপস্থিত বক্তারা।

জানতে চাইলে ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, ‘প্রকল্পটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এখনও আলোচনার টেবিলে রয়েছে। এটা নিয়ে আরও আলোচনা-পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি প্রস্তাবিত হিট প্রকল্পের ডিজাইন ২০১৯ সালের জুন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এরপর আগামী বছর সেপ্টেম্বর থেকে প্রকল্পটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে উচ্চশিক্ষা স্তরে প্রায় ৩৮ লাখ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষক ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।’

 এডুকেশন বাংলা/এজেড

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর