সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৬:৩৯ পিএম


নারী শিক্ষার্থীদের উজ্জীবিত করতে বিশেষ প্রকল্প

প্রকাশিত: ১০:৪৬, ৫ নভেম্বর ২০১৭   আপডেট: ১০:৪৭, ৫ নভেম্বর ২০১৭

নারী মুক্তি ও নারী জাগরণের দূত বেগম রোকেয়ার উক্তি ‘শিক্ষা অর্থে আমি প্রকৃত সুশিক্ষার কথাই বলি; গোটা কতক পুস্তক পাঠ করিতে বা দু’ছত্র কবিতা লিখতে পারা শিক্ষা নয়। আমি চাই সেই শিক্ষা-যাহা তাহাদিগকে নাগরিক অধিকার লাভে সক্ষম করিবে। শিক্ষা এবং শারীরিক উভয়বিধ হওয়া চাই।’ এমন জীবন ও দর্শন থেকে নারীসমাজ দীক্ষা নিয়ে নিজেদের উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারে, সেই লক্ষ্যে সরকার বিশেষ প্রকল্প নিচ্ছে মহীয়সী নারীদের নিয়ে।

 

ধর্মীয় গোঁড়ামি, রক্ষণশীলতার কূপম-ূকতা ও অশিক্ষার অভিশাপ থেকে নারীদের মুক্ত করতে বেগম রোকেয়া অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন। এর মতো আরও মহীয়সী নারীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাদের ইচ্ছাকে মর্যাদা দেওয়া ও স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ হচ্ছে এ প্রকল্প। ‘নারী শিক্ষার স্বপ্নভূমি স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের খসড়া তৈরি করেছে মাউশির পরিকল্পনা শাখা। তিন বছর মেয়াদে এ প্রকল্পের জন্য প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। এর প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এরপর যাবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, নারীর মধ্যে তাদের নিজ অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা, আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত করা গেলে সমাজে নারীরা নির্যাতনের স্বীকার হবে না। এক্ষেত্রে প্রয়োজন তাদের সুস্থ শারীরিক ও মনের বিকাশ। মহীয়সী নারীদের প্রেরণায় উজ্জীবিত করা গেলে একজন নারী শিক্ষার্থী তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে বড় হবে। সে হবে আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক। এমনকি যোগ্য মাতা হিসেবে জাতি গঠনে অবদান রাখতে পারবে। কেননা, দেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেকেরও বেশি নারী। এ অবস্থায় নারীর উন্নয়ন ছাড়া দেশে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। এখনো নিরাপদ নয় নারীরা। তাই নারীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করা গেলে অনেক সমস্যার সমাধান নারী নিজেই করতে পারবে। সমাজে বাল্যবিয়ের মতো ব্যাধি নির্মূল হবে।

 

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. ওয়াহিদুজ্জামান আমাদের সময়কে জানান, মহীয়সী নারীদের সম্মান ও স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাল্যবিবাহ রোধ করা, মেয়েদের কর্মমুখী করে তোলা, এসএসসি পরীক্ষার তিন মাসের বিরতিকে কাজে লাগিয়ে তাদের দক্ষ করে তোলা, নারী শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধ।

 

তিনি বলেন, এদেশে নারী অগ্রযাত্রায় যারা সবচেয়ে অবদান রেখছেন তাদের সম্মানের পাশাপাশি অসমাপ্ত কাজগুলো অব্যাহত রাখতে এ প্রকল্প। এ প্রকল্প নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে জরুরি বলে মনে করি। এতে শুধু নারী শিক্ষার উন্নয়ন নয়, নারী শিক্ষার্থীদের আরও স্বাবলম্বী করে তোলা সম্ভব হবে।

 

জানা গেছে, বেগম রোকেয়া, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা, নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরী এবং সারদা সুন্দরী নারীর নামে গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় একাডেমিক ও আবাসিক ভবন নির্মাণ করে ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়াও কবি সুফিয়া কামাল, ইলা মিত্র, কুসুম কুমারী এবং প্রীতিলতা সেনের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না পাওয়ায় তাদের স্মৃতিগুলো কীভাবে ধরে রাখা যায় তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত ৯ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে এসংত্রুান্ত একটি বৈঠক হয়। এতে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, অবকাঠামোসহ আনুষঙ্গিক বিষয় তুলে ধরেন পরিকল্পনা শাখা কর্মকর্তারা।

 

মহীয়সী নারীদের নামে প্রতিষ্ঠান আছেÑ রংপুরে বেগম রোকেয়ার নামে সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ, মহীয়সী বেগম রোকেয়া কলেজ, পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ফরিদপুরে সারদা সুন্দরী নামে সরকারি সারদা বিদ্যালয়, সারদা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, বেগম ফয়জুন্নেসার নামে কুমিল্লার লাকসামে নবাব ফয়জুন্নেসা ও বদরুন্নেছা যুক্ত বিদ্যালয় লাকসাম, নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ ও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়।

 

এ প্রসেঙ্গ মাউশির উপপরিচালক (পরিকল্পনা) জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মহীয়সী নারীদের সম্মান ও স্মৃতি রক্ষার্থে কবি সুফিয়া কামাল, ইলা মিত্র, প্রীতিলতা এবং কবি কুসুম কুমারীর স্মৃতিরক্ষার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের নামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় বিকল্পভাবে তাদের স্মৃতি কীভাবে সংরক্ষণ করা যাবে তা ভাবা হচ্ছে।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর