শুক্রবার ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ১৬:০১ পিএম

Sonargaon University Dhaka Bangladesh
University of Global Village (UGV)

নানা সংকটে চুয়াডাঙ্গা ভেটেরিনারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট

প্রকাশিত: ০৯:১৭, ৫ নভেম্বর ২০১৮  

চুয়াডাঙ্গায় চার দশক ধরে কর্মমুখী শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখছে ভেটেরিনারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। কিন্তু জরাজীর্ণ অবকাঠামো আর জনবল সংকটে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের পর কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। ফলে ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে কুমারী ইউনিয়নে জমিদার শৈলেন্দ্রনাথ সাহার পরিত্যক্ত বাড়িতে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ভেটেরিনারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। ডেনিশ সরকারের সহযোগিতায় ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় অবকাঠামো।

ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, পুরনো একটি প্রশাসনিক ভবন, ৩০০ আসনের জরাজীর্ণ মিলনায়তন, পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট শিক্ষায়তন ও প্রাণী হাসপাতাল, ৩৯ কক্ষবিশিষ্ট দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ছাত্রাবাসসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এ ইনস্টিটিউট। কিন্তু এখন আর ভবনের ভেতরে কার্যক্রম চালানোর মতো অবস্থা নেই। এছাড়া জনবল সংকট চলছে বহু বছর ধরে। বর্তমানে অধ্যক্ষ বাদে ছয়জন সহকারী অধ্যাপকের স্থলে আছেন তিনজন, ভেটেরিনারি সার্জনের দুটি পদই খালি। একজন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ছয়জনের মধ্যে দুজন প্রভাষক, একজন করে স্টেনোগ্রাফার, সহকারী লাইব্রেরিয়ান, ডেইরি টেকনিশিয়ান, মেকানিক, ড্রাইভার, মিলকার, ড্রেসার, হসপিটাল অ্যাটেনডেন্ট, এনিমেল অ্যাটেনডেন্ট, ডেইরি অ্যাটেনডেন্ট, পোলট্রি অ্যাটেনডেন্ট ও দুজন মালির পদ খালি রয়েছে। সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে প্রি-সার্ভিস প্রশিক্ষণরত ছাত্রছাত্রী রয়েছে ১৮৫ জন ও ইনসার্ভিস মেকআপ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ২০ জন।

শ্রেণীকক্ষ ও হোস্টেলগুলোর বেহাল অবস্থার বর্ণনা দিয়ে প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, প্রতিটি কক্ষের পলেস্তারা খসে পড়ছে। দুজন থাকার মতো ছোট কক্ষে পাঁচ-ছয়জন করে থাকতে হচ্ছে। কক্ষের জানালার কাচ ভাঙা। ৪০-৫০ জনের জন্য দুটি গোসলখানা, তাও নোংরা। বৈদ্যুতিক পাখাগুলো প্রতিষ্ঠাকালীন, ফলে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে রয়েছে।

এছাড়া ডাইনিংয়ের অবস্থাও ভালো নয়। রান্নাঘর ও ডাইনিং একসঙ্গে হওয়ায় ধোঁয়ার মধ্যে খাওয়া-দাওয়া করতে হয়। পানির সরবরাহ লাইনে প্রায়ই সমস্যা হয়। ইনস্টিটিউট চত্বর ঝোপঝাড়ে ভরা। রাতের বেলা ঝোপঝাড়ের ভেতর দিয়ে মেয়েদের ডাইনিংয়ে যেতে হয়। এত বড় ইনস্টিটিউটে বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আলমডাঙ্গা কুমারী ভেটেরিনারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ডা. শিশির কুমার বিশ্বাস বলেন, নানা সমস্যা নিয়ে এ ইনস্টিটিউট চলছে। ১৯৭৮ সালের পর থেকে কোনো সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণ কাজ এ প্রতিষ্ঠানে হয়নি। জরাজীর্ণ মিলনায়তনেই ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস নেয়া হয়। আবাসনের জন্য নতুন কোনো ভবন নির্মাণ না হওয়ায় বেশ কষ্টে ছাত্রছাত্রীদের থাকতে হচ্ছে। এতজন ছাত্রছাত্রীর পাঠদান ও প্রশিক্ষণের যথেষ্ট জায়গা নেই।

তিনি আরো বলেন, ছাত্রীদের জন্য আলাদা কোনো আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় তাদের থাকার সংকট রয়েই যাচ্ছে। কোনোভাবে এটার সমাধান করা যাচ্ছে না। জরাজীর্ণ আবাসনেই তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অধ্যক্ষ জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আলমডাঙ্গা কুমারী ভেটেরিনারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন সমস্যা লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পুরনো ভবন সংস্কার না করে নতুন ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর