বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২০ ১৬:০৩ পিএম


নভেম্বরে শুরু হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আবেদন

অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য

প্রকাশিত: ১১:৫১, ৩ অক্টোবর ২০২০  

চলতি অর্থবছরেও নতুন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে। তবে এবার ঠিক কতটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওর আওতায় আসবে তা এখনো জানা যায়নি। তবু আগামী নভেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার জন্য আবেদন চাইবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এমপিওভুক্তির আবেদন নেয়ার খবরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে খুশির হাওয়া বইলেও শিক্ষকনেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

তথ্যমতে, বর্তমানে ৬ হাজারের কিছু বেশি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত অর্থবছরে যে নীতিমালায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছিল তাতে যোগ্যতার অভাবে বহু প্রতিষ্ঠান বাদ পড়ে যায়। ওই সময় এমপিও না পেয়ে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীরা এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

আন্দোলনের একপর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি বলেছিলেন, এমপিওভুক্তির নীতিমালা সংশোধন করে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে এমপিও দেয়া হবে। মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো সংশোধনের জন্য একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য যে নীতিমালা করেছে তাতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে কয়েকটির ক্ষেত্রে কড়া শর্ত আরোপ করতে যাচ্ছে। তবে ডিগ্রি কিংবা অন্যান্য স্তরে এমপিওর নীতিমালা কিছুটা শিথিল হচ্ছে।

এরকম পরিস্থিতিতে নন-এমপিও শিক্ষক সংগঠনের নেতারা বলেছেন, নীতিমালা শিথিলের কথা বলেও বাস্তবে এটি আরো কঠিন করা হচ্ছে। এরফলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওর জন্য আবেদনই করতে পারবে না।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি গত বুধবার বলেছেন, এমপিও নীতিমালা ২০১৮-তে পরিবর্তন ও সংশোধন আনা হচ্ছে। অক্টোবরের মধ্যে এটি চ‚ড়ান্ত করা হবে। এরপর নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আবেদন নেয়া শুরু হবে। তবে চলতি বছর আবেদন যাচাইবাছাই ও তালিকা প্রকাশ শেষ করা সম্ভব না হলেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে করতে কর্মকর্তারা চেষ্টা করছেন। এমপিওভুক্তির কার্যক্রম অনেক কঠিন ও জটিল, তাই এটি শেষ করতে অনেক সময় দরকার হয়।

তবে এমপিওভুক্তির নতুন নীতিমালা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন। সংগঠনটির সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার গতকাল বলেন, সংশোধিত নীতিমালায় শিথিলের কথা বললেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিও পেতে ভীষণ বেগ পেতে হবে। তবু আমরা বলেছি, যেভাবে নীতিমালা করা হচ্ছে তাতে এবারো বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও পাবে না। কিছু কিছু জায়গায় শর্ত আরো শিথিল করতে হবে। তারমতে, সংশোধিত নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির প্রধান করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় এটি এখনো চ‚ড়ান্ত হয়নি। আমরা আশা করব, নীতিমালা চ‚ড়ান্ত হওয়ার আগে আমাদের দাবিগুলো আমলে নেয়া হবে।

মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমপিওভুক্তির বর্তমান নীতিমালায় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কোনো প্রতিষ্ঠানকে এমপিও পেতে হলে কমপক্ষে ৬০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। এই নীতিমালায় গত বছর উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ৮০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। এরকম পরিস্থিতিতে সংশোধিত নীতিমালায় শহরে ১৩৫ এবং গ্রামে ৯০ জন শিক্ষার্থী রাখার নিয়ম করতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়। প্রশ্ন হচ্ছেÑ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাম্য শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে না। একই অবস্থা মাধ্যমিকেও। এই স্তরে বলা হয়েছে, ৪০ জন শিক্ষার্থী থাকলে কমপক্ষে ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। নন-এমপিও শিক্ষক সংগঠন প্রশ্ন তুলে বলেছে, ৪০ জনের মধ্যে ৩৫ জন পরীক্ষার্থী কিভাবে সম্ভব? আমরা এটা ২৫ থেকে ৩০ জনে আনার প্রস্তাব দিয়েছি।

মাদ্রাসা শিক্ষকদের এমপিওর আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত: মেমিস সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনলাইনে মাদ্রাসা শিক্ষকদের এমপিও আবেদন জমার নেয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। তাই পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত মেমিস সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদন না করতে শিক্ষক-কর্মচারীদের জানিয়ে দিয়েছেন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তর থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মেমিস প্রকল্পের সফটওয়্যারে বিটিসিএলের ইন্টারনেট সংযোগ প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। ফলে, মেমিস সফটওয়্যারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ আছে। তাই, পরবর্তী নিদের্শনা না দেয়া পর্যন্ত মেমিস সফটওয়্যারের মাধ্যমে সব ধরনের আবেদন করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

সূত্র: ভোরের কাগজ

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর