মঙ্গলবার ২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ১০:৪০ এএম

Sonargaon University Dhaka Bangladesh
University of Global Village (UGV)

নবম শ্রেনীর ছাত্রী এখন দু্ই ছবির নায়িকা

এডুকেশন বাংলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১:৪৭, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮   আপডেট: ১৭:৪৬, ২৬ এপ্রিল ২০১৮

ঢাকার একটি গার্লস স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়েন পূজা। মাধ্যমিকের গণ্ডি না পেরোতেই দুটি ছবির আবেদনময়ী নায়িকা এখন নবম শ্রেনির ছাত্রী পূজা চেরি। একেবারে ম্যাচিউরড নায়িকাাদের মতোই সে অভিনয় করছে। এর আগে বিজ্ঞাপনের মাধ্যেমে  ‘তুমি না ওই রাস্তা দিয়ে আসো, আসি না আমি ওখানেই থাকি…’  রিন ওয়াশিং পাউডারের এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছোট্ট পূজা বেশ পরিচিতি পান।

  এছারাও জাজ মাল্টিমিডিয়ার ‘ভালোবাসার রঙ’ ছবির মধ্য দিয়ে শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম বড় পর্দায় আসেন পূজা চেরি। এরপর আরও বেশ কিছু ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এর পর  `নূরজাহান`  এবং বাংলাদেশি ছবি ‘পোড়া মন-টু’তে নায়িকা হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন পূজা চেরি।

   পোড়ামন ২ ছবির নায়িকা হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয় পূজার। মুক্তির আগেই নানা কারণে আলোচিত ছবি ‘পোড়ামন ২’। রায়হান রাফি পরিচালিত ‘পোড়ামন ২’ ছবির ফার্স্ট লুক ইতিমধ্যে প্রকাশ হয়েছে। এই ছবিটি প্রযোজনা করছেন জাজ মাল্টিমিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটির ফ্যান পেজে দেখা গেছে ‘পোড়ামন ২’ এর প্রথম দর্শন।

  সেখানে দেখা গেছে সাদা কালো বোরখায় মুখ ডাকা অনেকগুলো নারী দাঁড়িয়ে আছেন। তার মধ্যেই মলিন মুখে দাঁড়িয়ে আছেন সিয়াম-পূজা। তাদের চোখেমুখে যেন সংশয়! গেল সেপ্টেম্বর মাসের শেষে ‘পোড়ামন ২’ ছবির শুটিং হয় মেহেরপুর জেলায়। টানা শুটিং এর মাধ্যমে ছবি কাজ শেষ হয়। বাকি আছে তিনটি গানের শুটিং। জানা গেছে, শিগগিরই বাকি তিনটি গানের শুটিং শেষ হবে।

কলকাতার আদিত্যর বিপরীতে `নূরজাহান`  নামের আরেকটি ছবিতে অভিনয় করেছেন পূজা চেরি। কলকাতার রাজ চক্রবর্তী প্রডাকশনের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় থাকছে বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়া। আলোচিত মারাঠি ছবি `সাইরাত` এর রিমেক `নূরজাহান`। পরিচালনা করছেন রাজের সহকারী অভিমন্যু মুখোপাধ্যায়। 

এর আগেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গণে যে সকল মুখ উজ্জ্বল হয়েছে, আলোকিত হয়েছে-তাদের উল্কাপাত শুরু হয়েছিল স্কুলে পড়াকালীন। রুপালি পর্দায় দ্যুতি ছড়িয়েছেন স্কুলে পড়ার সময়ই।

 শাবানাঃ ১৯৬৭ সালে `চকোরী` চলচ্চিত্রে চিত্রনায়ক নাদিমের বিপরীতে শাবানা চলচ্চিত্রে আবির্ভাব ঘটে। তাঁর ভালো নাম আফরোজা সুলতানা। শাবানার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি ঘটে মাত্র ৯ বছর বয়সে।পর্দায় অভিষেক ১৫ বছর বয়সে। বলা যায় স্কুলের গণ্ডি পেরনোর আগেই চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন ১১বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেত্রী। শাবানা অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ছিল `ঘরে ঘরে যুদ্ধ`।

ববিতাঃ ১৯৬৯ সালে শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন প্রথম নায়িকা চরিত্রে। ১৯৬৯ সালের ১৪ আগস্টে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় এবং ওই দিন তাঁর মা মারা যান। ৭০ এর দশকে শুধুমাত্র অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি গোটা দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন।ববিতা পড়াশোনা করেছেন যশোর দাউদ পাবলিক বিদ্যালয়ে। সেখানে অধ্যয়নকোলে বড় বোন কোহিনুর আক্তার চাটনীর (সুচন্দা) চলচ্চিত্রে প্রবেশের সূত্রে পরিবার সহ চলে আসেন ঢাকায়। গেন্ডারিয়ার বাড়িতে শুরু হয় কৈশোরের অবশিষ্টাংশ। চলচ্চিত্রে অত্যন্ত ব্যস্ত হয়ে পড়ায় প্রতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট অর্জন না করলেও ববিতা ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে শিক্ষিত করে তোলেন। দক্ষতা অর্জন করেন ইংরেজিসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষায়। নিজেকে পরিমার্জিত করে তোলেন একজন আদর্শ শিল্পীর মাত্রায়।

 শাবনূরঃ  মাত্র ১৩ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে পা রাখেন শাবনূর। ১৯৭৯ সালে জন্ম গ্রহণ করেন এই অভিনেত্রী। শাবনূরের প্রথম চলচ্চিত্র `চাঁদনী রাতে`। তার বিপরীতে নায়ক ছিল সাব্বির। এই ছবিটি ব্যর্থ হয়। যা ১৯৯৩ সালে মুক্তি পায়। শাবনূরের পড়াশোনা সম্পর্কে জানা যায় তিনি আইএ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তবে নায়িকা হিসেবে শুরুটা যে স্কুল পেরনোর আগেই ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পারিবারিক ভাবে তার নাম রাখা হয় কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর। পরে স্বনামধন্য নির্মাতা এবং তাঁর মেনটর এহতাশেম তার নাম রাখেন শাবনূর।

 পূর্ণিমা
পূর্ণিমার চলচ্চিত্র জগতে পথচলা শুরু হয়েছিল জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত `এ জীবন তোমার আমার` ছবির মাধ্যমে। ১৯৯৭ সালে, তখন তিনি ক্লাস নাইনে পড়তেন। ড. তুহিন মালিক পরিচালিত `ওরা আমাকে ভালো হতে দিলো না` চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ২০১০ সালে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।   

 রত্নাঃ ২০০২ সালে ক্লাস সেভেনে পড়া অবস্থায় `কেন ভালোবাসলাম` ছবির মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে নাম লেখান রত্না। সেলিম আজম পরিচালিত এ ছবিতে তিনি ফেরদৌসের বিপরীতে অভিনয় করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হন রত্না, কাজ করেন শীর্ষ নায়কদের সাথেও। কিন্তু চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার জোয়ার বইতে শুরু করলে নিজেকে গুটিয়ে নেন চলচ্চিত্র থেকে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকল্যাণ বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। নতুনভাবে চলচ্চিত্রে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন রত্না। 

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর