শনিবার ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ৮:১১ এএম


নন-ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা

এডুকেশন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:৫৪, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮  

কোটা শিথিল না করলে ৩৬তম বিসিএসে নন-ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নন-ক্যাডার পদের জন্য আবেদন করেছেন দুই হাজার ৭০০ প্রার্থী। তাদের অনেককে ১২তম গ্রেডে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তবে আবেদনকারীরা এতে সন্তুষ্ট নন। তারা নবম ও দশম গ্রেডে সব প্রার্থীর নিয়োগ নিশ্চিত করতে কোটা শিথিলের দাবি তুলেছেন। যেসব পদে মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্যান্য কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাবে না, সেসব পদে সাধারণ মেধাতালিকা থেকে নিয়োগের দাবি তাদের।

পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৭ অক্টোবর ৩৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে দুই হাজার ৩২৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ক্যাডার না পাওয়া তিন হাজার ৩০৮ জনকে নন-ক্যাডারে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে নন-ক্যাডার পদের জন্য প্রায় দুই হাজার ৭০০ প্রার্থী আবেদন করেছেন। প্রায় ৬০০ জন নন-ক্যাডারের জন্য আবেদন করেননি।

নন-ক্যাডার পদের জন্য আবেদনকারী প্রার্থী শফিউল ইসলাম বলেন, নন-ক্যাডারদের নবম ও দশম গ্রেডের পদে নিয়োগ শতভাগ নিশ্চিত করতে কোটার প্রার্থী পাওয়া না গেলে পদগুলো সাধারণদের দ্বারা পূরণ করতে হবে। কোটা শিথিল না করলে নন-ক্যাডার পদপ্রার্থীর নিয়োগ পাওয়া সম্ভব হবে না।

এর আগে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় নন-ক্যাডারে মুক্তিযোদ্ধা, নারী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোটার শূন্যপদে মেধাতালিকায় থাকা সাধারণ প্রার্থীদের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। একইভাবে ৩৬তম বিসিএসের ক্ষেত্রে সে সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলছেন প্রার্থীরা। তবে এটা করতে হলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কোটা শিথিলের প্রস্তাব আগেই মন্ত্রিসভায় অনুমোদন নিতে হবে।

১২তম গ্রেডে আপত্তি :বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে ১২তম গ্রেডে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হতে অনীহা দেখাচ্ছেন প্রার্থীরা। তাদের দাবি, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) নন-ক্যাডারে নবম ও দশম গ্রেড ছাড়া নন-গেজেটেড পদে নিয়োগ দিতে পারে না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ এখনও ১২তম গ্রেড। একই বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও কাউকে নবম-দশম গ্রেড ও কাউকে ১২তম গ্রেড প্রদানকে মারাত্মক অনিয়ম, বৈষম্য ও অন্যায় হিসেবে দেখছেন তারা।

২০১৪ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদটিকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করেছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে বেতন নির্ধারণের সময় প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের জন্য ১১তম ও প্রশিক্ষণবিহীনদের জন্য ১২তম গ্রেড দেওয়া হয়। এর আগে গত ৩৪তম বিসিএসের ৮৯৮ জন উত্তীর্ণ প্রার্থীকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল পিএসসি। পদটি ১২তম গ্রেডের হওয়ায় অনেক প্রার্থী তখন যোগদান করেননি।

এ বিষয়ে একজন প্রার্থী বলেন, ১৩০০ নম্বরের কঠিন প্রতিযোগিতামূলক বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১২তম গ্রেডের প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের পদে সুপারিশ পাওয়াটা চরম হতাশাজনক।

শিক্ষকতা পেশার প্রতি তাদের কোনো অনাগ্রহ কিংবা আপত্তি নেই, তবে আপত্তি গ্রেডে। তাই এ পদ দশম গ্রেডে পরিণত করার আগপর্যন্ত তারা এখানে সুপারিশ না করার কথা বলেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে এই প্রার্থী বলেন, নতুন জাতীয়করণ করা কলেজে সরকার বিসিএস পাস না শিক্ষকদের প্রথম শ্রেণির ক্যাডার হিসেবে আত্তীকরণ করছে। অথচ বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও তাদের সুপারিশ করা হচ্ছে দ্বিতীয় শ্রেণির পদে। এটা বৈষম্যমূলক।

এসব বিষয়ে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, কোটা শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। কোটা পূরণ না হলে যাতে সাধারণ মেধাতালিকা থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়, এ ব্যাপারে তারা আন্তরিক। এ জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তারা সামনে এগোবেন। তবে চূড়ান্তভাবে এটা সরকারের ওপর নির্ভর করছে।

১২তম গ্রেডে নিয়োগের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক পদ কোন গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত হবে, সেটা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেখবে। এখানে পিএসসির কিছু করার নেই। তারা শুধু পদ পাওয়া সাপেক্ষে নন-ক্যাডারদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেন।

সূত্র: সমকাল

এডুকেশন বাংলা/এজে

 

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর