মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ১৬:৩১ পিএম


নন এমপিও শিক্ষক কর্মচারী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে

মো.মোকারম হোসেন

প্রকাশিত: ১২:২৭, ৮ নভেম্বর ২০১৯  

সদ্য প্রকাশিত ২৭৩০ টি নন এমপিও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির তালিকা হওয়ার পর থমকে দাড়িয়েছে প্রায় সাত হাজার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারিদের ভবিষ্যত। শুধু তাই নয় একেবারে বন্ধের মুখোমুখি হাজার হাজার নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রয়োজন এর তাগিদে এলাকার দানবীর ব্যাক্তিগণ সরকারি বিধি বিধান মেনেই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো প্রতিষ্ঠা করেন।সরকারি নিয়োগ বিধি বিধান মেনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শিক্ষক কর্মচারি নিয়োগ দেন।তৎকালীন সময় স্বীকৃতি পেলে এমপিও পেত।সে সময় তিনমাস পর পর এবং পরবর্তীতে বছরে দুইবার নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানএমপিওভুক্ত করা হত।

বিগত জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার আগে মাত্র ০৮ টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করেন এবং পরবর্তী সময় ২ বছর ধরে অনির্বাচিত সরকার থাকায় এমপিও হয় নাই। কিন্তু স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছিল।

মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে ২০১০ সালে ১৬২৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করেন।সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী বরাবরই বলতেন এমপিও চলমান প্রক্রিয়া, তা বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ২০১০ সালেও একটি এমপিও নীতিমালা ছিল কিন্তু তা মানা হয় নাই।

পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন শিক্ষকদের আন্দোলন এর পর অবশেষে ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর ২৭৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির তালিকা প্রকাশ করা হয়।যাতে শিক্ষকদের দাবির প্রতিফলন ঘটে নাই। তাদের দাবী ছিল স্বীকৃতিই একমাত্র মানদণ্ড ধরে এমপিও ঘোষণা করা হোক।শিক্ষকরা নীতিমালাকে স্বাগত জানিয়েছেন তবে তা এমপিওভুক্ত হওয়ার পর প্রয়োগ করার দাবি করছিলেন। কারন,এই প্রতিষ্ঠান গুলো প্রতিষ্ঠা হয়েছে আগের নীতিমালার আলোকে। ধরে নিলাম সরকারের ভাবনা হচ্ছে, শিক্ষকদের দাবি অযৌক্তিক। তাহলে সরকারের কাছে প্রশ্ন, কোন অদৃশ্য কারনে যোগ্য প্রতিষ্ঠান থাকার পরও দীর্ঘ ৯ বছর এমপিও বন্ধ ছিল?সাবেক অর্থ মন্ত্রী প্রায় বলতেন এমপিও ধ্বংস করে দিব,এটা বাজে প্রক্রিয়া।

দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকার পর এমপিওর তালিকা প্রকাশ হওয়ায় অনেকেই সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন আবার কেউ কেউ সমালোচনাও করেছেন । আমি এখনই এটাকে সরকারের সফলতা বা ব্যার্থতা বলতে চাই না।কারন,মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃদিপু মনি শিক্ষকদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা বাস্তবায়নের কোন প্রক্রিয়াই আনুষ্ঠানিক দৃশ্যমান হয় নাই।
প্রতিশ্রুতি গুলো তুলে ধরা হলঃ

(১) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ।
(২)এমপিও তালিকা প্রকাশের পরই ভুলেভরা নীতিমালা স্থগিত করে তা সংশোধনের জন্য কমিটি গঠন।উক্ত কমিটিতে সংগঠনের প্রতিনিধি সদস্য করা এবং দ্রুত সময়ে কাজ শুরু করা।
(৩)প্রতিবছর নীতিমালার আলোকে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার গেজেট প্রকাশ করা।
মূলতঃ এখনো উল্লেখিত প্রতিশ্রুতি গুলো বাস্তবায়ন হওয়ার মত কোন কিছুই দৃশ্যমান হয় নাই। সত্যিকার অর্থে যদি তা বাস্তবায়ন হয় তাহলে অবশ্যই শিক্ষার ক্ষেত্রে তা এই সরকারের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।আর যদি অন্য কিছু ঘটে, তাহলে নিকট ভবিষ্যতে লক্ষাধিক শিক্ষক বিনা বেতনে অবসর গ্রহণ করবেন এবং হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে।
আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয়কে অভিনন্দন জানাই। কারন এই প্রথম নীতিমালার আলোকে (ভুলে ভরা হলেও)কোন প্রকার রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়াই এমপিও তালিকা প্রকাশিত হয়েছে । ফলশ্রুতিতে বলা যায়,কোন আর্থিক কেলেঙ্কারি এই প্রকাশিত এমপিও তালিকাটিকে স্পর্শ করেনি এবং বিশ্বাস করি করবেও না।হয়তোবা কোন মন্ত্রনালয়ে কিছু ত্রুটি হয়েছে যার দ্বায়ভার একক কারো উপর না চাপিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্ম কর্তাদেরকে সংশোধন এর সংশোধন করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
শিক্ষকরা আশা করেন, মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করে কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ হবেন।
লেখক: যুগ্ম সাধারন সম্পাদক
নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটি।

 

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর