শনিবার ৩০ মে, ২০২০ ১৫:৩০ পিএম


নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আছেন মহাবিপদে

মো. মেজবাহুল ইসলাম

প্রকাশিত: ০৮:২২, ২৬ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৪:২৭, ২৬ এপ্রিল ২০২০

এ মুহুর্তে সবচেয়ে বেশি কস্টে আাছেন নন এমপিও শিক্ষকগণ। তাদের দুঃখ কস্ট বর্ণনাতীত।বহুবছর চাকরি করেও তারা কোনো বেতন পাচ্ছেন না। প্রতিষ্ঠাগুলোতে ছাত্রবেতন ও খুবই নগণ্য।  ছাত্রদের কাছ হতে আদায়কৃত বেতন দ্বারা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে খুবই সামান্য টাকা যা থাকে তা দিয়ে শিক্ষকগনকে ১০০০ বা ২০০০ টাকা দেয়াও সম্ভব হয় না। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো বেতন ভাতাই দেন না। তাহলে তারা কেন চাকরি করে? কিভাবে চলে? তারা চাকরি করে এক বিরাট আশা নিয়ে, কোন একদিন বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত হবে। তাদের সবসময়ই মনে হয় সেদিন আর বেশি দূরে নয়। এই আশা নামের ভেলায় চড়ে দিনাতিপাত করে। আর চলে কিভাবে?  সারাদিন স্কুল করার পরে ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে দু একটা টিউশনি করে। দু একজনের কৃষিকাজ করার মতো সামান্য জায়গা জমি থাকে। সেখানে কাজ করে।

গ্রামের সন্তানদের দেশসেরা মানুষ বানাতে সারাক্ষণ পরিশ্রম করে মাসশেষে নিজের হাড়ি শুন্য রেখে আফসোসের দরিয়ায় সাতার কাটে। মলিন ঘরের স্যাতস্যাতে  পরিবেশে তার স্ত্রী নিরানন্দ  মুখখানা নিয়ে অভাব ম্যানেজের এক দারুণ দক্ষ  সঙ্গিনীতে পরিনত হয়। সন্তানদের মুখগুলোর দিকে তাকালেই বুঝা যায় এরা কোনো এক কপর্দকহীন মানুষের সন্তান।

সরকারি বিদ্যালয়গুলো দেশের বৃদ্ধিপ্রাপ্ত  জনসংখ্যার জন্য প্রয়োজনিয় শিক্ষার চাপকে সামাল দিতে পারছে না। তাই এদেশে বেসরকারি বিদ্যালয়ের একান্ত  প্রয়োজন।  একসময়  আজকের সরকারি বিদ্যালয়গুলো বেসরকারি ছিল।  এটাই নিয়ম প্রথমে বেসরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয়গুলো তৈরি হয়। তারপর এমপিওভুক্ত হয় তারপর তা সরকারি বিদ্যালয়ে পরিণত হয়। সরকার প্রয়োজনমতো এভাবে বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয়করণ করে। সুতরাং বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে কোনোভাবেই অবহেলা করার সুযোগ নেই,  ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। বরং তাদের প্রতি সবার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত কারণ তারা বেতন না নিয়েও বা কম বেতনে এই বিদ্যালয়গুলোতে দেশের সন্তানদেরকে পড়াশোনা করিয়ে, শিক্ষা দিয়ে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কাজে সাহায্য করছেন। শিক্ষা দানের ব্যাপারে তাদের কোন কমতি নেই। বরং এদেশে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাই  মানসম্মত হয়। দেশের প্রায় 95% শিক্ষা দিয়ে থাকেন এই বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো।

প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়েই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নন এমপিও বিদ্যালয়গুলোকে  এমপিওভুক্ত করেছেন। তাদের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। আগামী অর্থবছর  আসার পূর্বেই তাদেরকে যদি বেতন না দেওয়া হয় তাহলে এ অর্থ চলে যাবে পরবর্তী বছরে এবং তা পেতে পেতে প্রায় সেপ্টেম্বর মাস হয়ে যাবে। সুতরাং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার নিকট আর্জি খুব শীঘ্রই বিশেষ করে এ রমজান আসার পূর্বে তাদেরকে কোড প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেন এবং তাদেরকে বেতনাদি দেয়ার ব্যবস্থা করেন।

করোনার এ  দুর্যোগের সময় নন-এমপিও শিক্ষকগন  বর্ণনাতীত কস্টে রয়েছেন। কারণ তারা কোথাও টিউশনি করতেও পারছেন না  তাদের আয়ের কোনো উৎসও  নেই।  সুতরাং এই মুহূর্তে তাদেরকে খুব দ্রুততার সাথে বেতনের ব্যবস্থা করলে  নিশ্চয়ই তাদের দোয়া এ সরকারের  সামনের দিনগুলোকে আরো মসৃন করবে, সম্মান এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। তাদের সন্তানদের, পরিবারের সদস্যদের হাসি মুখ গুলো চিরকাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর  নিকট কৃতজ্ঞ থাকবে।
ধন্যবাদান্তে

মহাসচিব
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (নজরুল)

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর