মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ৩:৫৭ এএম


ননএমপিও কেড়ে নিল জীবনের মূল্যবান সময়!

শাহ আলম সরদার

প্রকাশিত: ০৯:৪২, ২৫ জানুয়ারি ২০২০  



স্বপ্ন দেখতে দোষ কি! তবে সেই স্বপ্ন যদি বাস্তবায়ন না হয় তবে সমাজ আর সংসার জীবন অভিসপ্ত। চলার পথে হোচট খাওয়া স্বাভাবিক,তবে হোচটের ক্ষত না শুকানো অস্বাভাবিক।তেমনি চাকুরি পেলাম তবে বেতন না পাওয়ার কষ্টটা বুঝল না কেউ। বুঝে হোক আর না বুঝেই হোক ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকুরিতে প্রবেশ করে মানব সেবা করা আর সংসারের হাল ধরার স্বপ্নটা আর বাস্তবায়ন হলো না।

ননএমপিও মানে সারাজীবনের জন্য নয়,চলমান প্রক্রিয়ায় প্রতিবছরই এমপিও হবে নতুন প্রতিষ্ঠান,( মানে মাসিক বেতন-ভাতা পাবে সরকার থেকে)। এমনটা জেনেই সুখে ভাসতে এই অভিশপ্ত জীবনে পাঁ রাখা। দেখতে দেখতে নয়টি বছর চলেগেল ননএমপিও থেকে। এমপিওর জন্য আন্দোলনের মাঠে ছিলাম সেই ১৫ খ্রিঃ থেকে,কখনো পিছনের সারিতে নয়,ছিলাম সামনের সারিতে। ১২ খ্রিঃ থেকে আন্দোলনে আসা শিক্ষক-কর্মচারিদের কষ্টের কাহিনী শুনে শুনে নিজেও কষ্ট পেয়েছি নিজের মনে। প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি পেয়েছি,বিজয় সূচক চিহ্ন দেখিয়ে উল্লাস করেছি মিডিয়ার সামনে। সারা বিশ্ব দেখেছে সেই অভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারিদের আনন্দ,এমপিওর প্রতিশ্রুতির ঘোষনায়। চলে গেল দিন,মাস আবার বছরের পর বছর, তবুও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আর হলো না।

শীতের রাত জেগে আন্দোলনকারিদের পাহাড়া দেয়া,আষাঢ়ের বরষায় বৃষ্টিতে ভিজে আন্দোলনে থাকা,ইতিহাস সৃষ্টি করি ঈদের দিন প্রেসক্লাবের সামনের রাজপথে ঈদের নামাজের জামাত করে, ঈদের দিন ভূখা মিছিল করে। এর পরও এমপিওর ডাক পেলাম না। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষাৎ চেয়ে আবারও রাস্তায় নামলাম আবারও সেই প্রতিশ্রুতি,স্বাক্ষাৎ আর পেলাম না। চেয়েছি সকল স্বিকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিও, সরকার নীতিমালা করে এমপিও দিতে চাইল,আবেদনও নিল, আমরাও অতিলোভে সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে আবেদন করলাম।

ফল দাড়াল বিপরীত,সরকার নীতিমালার আলোকে এমপিও দিতে চাইল। আবার রাজপথে আমরা তবে যোগ্যরা তেমন সাড়া দিলেন না, তাই সরকার তাড়াহুড়ো করে তার মতো করে এমপিও ঘোষনা করল। আর আমি এই গ্যারাকলে ননএমপিওই রয়েগেলাম(যদিও নিজের প্রতিষ্ঠানটি যোগ্য মনে করতাম,তবুও ডিজিটাল)। মাঝখান থেকে জীবনের গুরুত্বপূর্ন বছরগুলো চলে গেল। আবার এমপিও কবে হবে সেই হতাশায় বুড়ো হয়েগেছি,মানুষ এখন আর ভাই ডাকে না আঙ্কেল ডাকে। ননএমপিও হলেও সমাজের গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব মানে মানুষ গড়ার দায়িত্ব পালন করছি অথচ সমাজ মূল্যায়ন করছে না। এমন যখন তখন ভাবতে থাকি কেন ননএমপিও প্রতিষ্ঠানে চাকুরি হলো আর মাথার কালো চুলগুলো সাদা হলো।

আর ভাললাগে না ননএমপিওর যন্ত্রনা
ছারতেও পারছি না ধরে রাখতেও পারছি না।

লেখক: প্রভাষক


এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর