রবিবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১১:১০ এএম


ধর্ষকদের বাঁচাতে ছাত্রীকে দেখানো হলো দেহব্যবসায়ী!

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৯:০০, ১৯ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১১:৫৯, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

নাগরপুরে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান কলেজছাত্রীকে বানিয়ে দিলেন দেহ ব্যবসায়ী। এমনই ঘটনা ঘটেছে উপজেলার ধুবড়িয়া গ্রামে।

ধুবড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান তার পরিষদের প্যাডে কলেজছাত্রীকে দেহ ব্যবসায়ী ও তার নিরহ কৃষক বাবাকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে এ মাসের ৫ তারিখ প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এদিকে এ ঘটনার পর কলেজ ছাত্রী লোকলজ্জার ভয়ে ১২ দিন ধরে বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। বন্ধ হয়ে গেছে তার কলেজে যাওয়া। ধর্ষণের সঠিক বিচার পাবে কি-না সে বিষয় নিয়েও উদ্বিগ্ন পরিবারটি।

জানা যায়, ঐ কলেজ ছাত্রীকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো সারুটিয়াগাজি গ্রামের জয়ধর শেখের ছেলে জুয়েল রানা। বিয়ের প্রস্তাবও দেয়। কিন্তু মেয়ের বাবা সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লম্পট জুয়েল রানা গত ১২ জুলাই ২০১৮ বৃহস্পতিবার তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে গ্রামের মাতাব্বরদের ধর্ষণের বিষয়টি জানালে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য প্রভাবশালী মাতাব্বররা বিভিন্ন সময়ে তালবাহানা করেন। ফলে ঐ ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে গত বছর নভেম্বরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল টাঙ্গাইলে পাঁচ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

অন্য আসামিরা হলেন ধুবড়িয়া গ্রামের হায়েদ আলীর ছেলে মো. শিপন, মো. রিপন, উফাজ ও একই গ্রামের মো. বাবুল মিয়ার ছেলে মো. রিয়াজ মিয়া। তদন্ত রিপোর্ট সিআইডি দাখিলের পর আসামিরা আরো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ ভয়ে কথা বলছেন না। আসামিরা চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করে কলেজ ছাত্রীকে দেহ ব্যবসায়ী ও বাবাকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে একটি প্রতিবেদন দেয়।

সিআইডি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এ মামলার কলেজ ছাত্রীর বাবা একজন দরিদ্র কৃষক। জুয়েল ঐ ছাত্রীকে ভালোবাসার প্রস্তাব দিলে সে তা প্রত্যাখ্যান করে। পরে জুয়েল রানা এ ঘটনা ঘটায়। সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তারা ঐ কৃষকের পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক ও দেহ ব্যবসার কোনো অভিযোগ পাননি।

কলেজ ছাত্রীর বাবা জানান, চেয়ারম্যান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে গ্রাম থেকে চলে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে এখন নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।
এ ব্যাপারে ধুবড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি বলেন, এলাকার লোকজন বলেছে তাই আমি এ প্রতিবেদন দিয়েছি।

এ বিষয়ে পিপি এস আকবর খান বলেন, মাদক ও দেহ ব্যবসায়ী বলে কাউকে আক্রান্ত করার এখতিয়ার কারও নেই। এক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের শাস্তি হওয়া উচিত।

ওসি আলম চাঁদ জানান, চেয়ারম্যান কলেজ ছাত্রীর বিরুদ্ধে যে প্রতিবেদন দিয়েছেন তা সঠিক নয়। এ পরিবারের নামে থানায় কোনো অভিযোগ নেই। আসামিরা মেয়ের পরিবারকে হুমকি প্রদান করে আসছে। তারা পলাতক। মেয়েটির পরিবারের নিরাপত্তার প্রতি বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর