শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৪:১২ পিএম


দেশে ৫জি চালুর প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:১০, ২৭ আগস্ট ২০১৯  

বিশ্বব্যাপী টেলিযোগাযোগ শিল্পে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত ৫জি বা পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি তাদের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে। সম্প্রতি এ বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়নের জন্য বিটিআরসির কমিশনারকে (স্পেকট্রাম ডিভিশন) আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কমিটিতে রাখা হচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব, ইন্টারনেটসেবা দানকারীদের সংগঠন আইএসপিএবির প্রতিনিধিদের। কমিটি আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ৫জির একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রস্তুত করে বিটিআরসির কাছে জমা দেবে। এ ছাড়া কমিটি এ সময়ের মধ্যে ৫জি প্রবর্তনের রূপরেখা, এর জন্য সম্ভাব্য তরঙ্গ, তরঙ্গের মূল্য এবং বাস্তবায়নের সময় সম্পর্কে একটি প্রস্তাবও প্রস্তুত করবে।

বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, মোবাইল ফোন প্রযুক্তির ৩জি ও ৪জির তুলনায় ৫জি প্রযুক্তির বিস্তারে সঠিক ফ্রিকোয়েন্সিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ তরঙ্গ প্রয়োজন হবে। এ প্রযুক্তিতে যথাযথ সেবা দিতে হলে অপারেটরপ্রতি নির্ধারিত ব্যান্ডের ১০০ মেগাহার্জ পর্যন্ত তরঙ্গ প্রয়োজন হতে পারে, যা ৩জি ও ৪জির তুলনায় ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি। ৫জির কার্যক্ষমতাও হবে ৪জির তুলনায় ন্যূনতম ১০ গুণ বেশি। আন্তর্জাতিকভাবে টেলিযোগাযোগ শিল্প ৫জির জন্য বিস্তারিত কভারেজসহ সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তরঙ্গ ব্যান্ডের তিনটি ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর মধ্যে লো ব্যান্ড ও মিড ব্যান্ড ৫জির জন্য ৩.৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডের তরঙ্গ ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং এ ব্যান্ডকে উত্কৃষ্ট ভাবা হচ্ছে। সার্বিক বিবেচনায় ৫জি প্রযুক্তি প্রবর্তনের জন্য এখনই প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো শুরু করা দরকার।

গত রবিবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এ বিষয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা আছে দেশে ২০২৩ সালের মধ্যেই ৫জি চালু করা হবে। আমরা সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি এবং ইতিমধ্যেই এর নীতিমালা তৈরিসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয়েছে।’

এর আগে গত বছর ২৫ জুলাই সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবির সহায়তায় দেশে প্রথমবারের মতো ‘৫জি’ পরীক্ষা ও সেবা প্রদর্শন করে প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। প্রদর্শনীতে ‘ফাইভ জি’ এর গতি ছিল ৩ দশমিক ৮৯ জিবিপিএস থেকে ৪ দশমিক ০৯ জিবিপিএস পর্যন্ত। রাজধানীর একটি হোটেলে ওই প্রদর্শনী উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, যদি দেশের মানুষ ভোট দিয়ে আমাদের আবারও ক্ষমতায় আনে তবে আমরা দেশে ৫জি মোবাইল ফোনসেবা চালু করব। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফোরজির মতো বিলম্বিত অবস্থানে নয়, প্রথম অবস্থানেই থাকবে বাংলাদেশ।

জানা যায়, সম্প্রতি ৫জি নেটওয়ার্কের জন্য সম্ভাব্য তরঙ্গ হিসেবে তিন হাজার ৫০০ মেগাহার্জ বা ৩ দশমিক ৫ গিগাহার্জকে নির্ধারণ করে এ তরঙ্গ বিভিন্ন ইন্টারনেটসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে বিটিআরসি। ব্র্যাক নেট লিমিটেড তাদের ইন্টারনেট সেবার জন্য ৩.৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডের ৭ মেগাহার্জ তরঙ্গ ব্যবহার করে আসছে এবং তা বহাল রাখার জন্য সম্প্রতি বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে। সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসি জানিয়ে দেয় এ তরঙ্গ বড় জোর আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখা যাবে। এরপর তা ফেরত দিতে হবে এবং এ সময়ের মধ্যে তাদের তারবিহীন ইন্টারনেট সেবাকে তারযুক্ত সেবায় নিয়ে আসতে হবে। তিন হাজার ৫০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডের তরঙ্গ ফেরত নেওয়ার যুক্তি হিসেবে সংশ্লিষ্ট কার্যপত্রে বিটিআরসির বক্তব্য, ‘পরিবর্তনশীল বিশ্ব তথ্য-প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে উন্নত প্রযুক্তির বিকাশ সাধনের ফলে বিভিন্ন তরঙ্গ ব্যান্ডে আইএমটি (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল টেলিকমিউনিকেশনস) সার্ভিসের ব্যবহার ক্রমেই বেড়ে চলেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে আইএমটি সার্ভিসের জন্য উপযুক্ত তরঙ্গ ব্যান্ডগুলো চিহ্নিত করা এবং তা উন্মুক্ত করার বিষয়ে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ ক্ষেত্রে তিন হাজার ৫০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ ব্যান্ডটি ৫জি সেবার জন্য সর্বাপেক্ষা উপযোগী একটি ব্যান্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে তিন হাজার ৫০০ মেগাহার্জ এবং আইএমটি সেবার জন্য সর্বাধিক স্বীকৃত অন্যান্য তরঙ্গ ব্যান্ডগুলো ভবিষ্যতে ৫জি ও সমসাময়িক সেবা (আইওটি) প্রদানের জন্য উন্মুক্তকরণের বিষয়টি বিটিআরসির সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।’

এডকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর